সু বী র স র কা র

‘হরসুন্দরীর ঢোল বাজে
কিষানকামলার কোমর ঢোলে
টিয়াবালার মুখের হাসি
ভুরূর ভাঁজে ঘাম নামে
খোকাবাবু বড় হোক
মস্ত আয়ুর পাহাড় হোক
চিকন কালা রে
খুশি ভরা জীবন দে
আমরা নাচি আমরা গাই
হিজড়া হইয়া জীবন কাটাই’

গানে গানে ভরে ওঠে আদ্যনাথ ধনীর বাড়ির আঙিনা। তল্লাটের মস্ত মানুষ আদ্যনাথ ধনী। তার বড়বেটার বেটা হয়েছে গেল বুধবার। আদ্যনাথের মনে পুলক। শরীরে দ্রুততা। ধনীর বাড়ির এই সুসংবাদ নদী পুকুর খেত পাথার আল বিল পেরিয়ে দিকদিগরে ছড়িয়ে পড়ে।দূর শহর থেকে দলবল নিয়ে চলে আসে টিয়াসুন্দরী। টিয়াসুন্দরীরা ‘বৃহন্নলা’। লোকে যাদের ‘হিজড়া’বলে। জীবনের স্বাভাবিকতা থেকে অনেক দূরে যাদের অবস্থান। কিন্তু জনপদগঞ্জহাটে ঘুরে ঘুরে তারা কিন্তু জীবনেরই গল্প বলে চলে।জীবনের গান গায়। জীবনবন্দনা করে। যেমন বেটার বেটা হওয়াটাকে উদযাপন করতে আদ্যনাথের বাড়িতে টিয়াসুন্দরীদের গমনাগমন।

ভ্রু’তে কুঞ্চন এঁকে টিয়াসুন্দরী হরসুন্দরী দুলালী ঘগেন্দ্র হিলহজিল খাটুয়া পরানেশ্বরী কাচাগুয়ারা নাচ করে।ঢোলক বাজায়। সমবেত জনমন্ডলীর দিকে তাদের তির্যক হাসি। বিদ্রুপ! উপেক্ষা?অপমানের জীবন তাদের। উপহাসের পাত্র হয়ে প্রতিপল বেঁচে থাকতে হয়। আদ্যনাথের ভাই রুদ্রনাথ টিয়াসুন্দরীর হাত ধরতেই রুদ্রনাথের গাল টিপে দেয় টিয়া। হাসির হুল্লোড় ওঠে।

ঢোলের বাজনায় দ্রুততা এলে নাচও কিন্তু শৃঙ্খলা হারায়। হিজড়াদের নাচের ভিতর গানের ভিতর চোখের তারায় তারায় এ এক অন্যরকম হিজড়াপৃথিবী। আদ্যনাথ ধনী হিজড়াদের জন্য নানান উপাচার নিয়ে আসেন। টিয়াসুন্দরীর বৃহন্নলাদল তখন খিস্তিখেউড়ের ভরা সভা রচনা করতে করতে গোল হয়ে উঠোনে নেমে আসে। আদ্যনাথের ঘোড়ারা কেশর ফুলিয়ে সতর্ক হয়।