শুভায়ন রায়: মহানগর থেকে অনেক দূরের পথ৷ সেখানে রাতের বেলা ঝিঁঝির ডাক স্পষ্ট শোনা যায়৷ দূরে ভুটান পাহাড় থেকে মেঘের দল হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে৷ এটা কোনও পর্যটনের গল্প নয়৷ দূরের সেই দারুণ সুন্দর ছোট্ট জেলা সদরের শিল্পীর কথা৷ যার কণ্ঠে আমোদিত ভারতের অন্দরমহল৷

নীলাঞ্জনা রায় জন্মসূত্রে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা৷ তবে বাবা মায়ের পেশার কারণে ছোট্ট বয়সেই তাকে আলিপুরদুয়ারে চলে আসতে হয়েছিল৷ বাবা মা দুজনেই স্কুল শিক্ষক এবং শিক্ষিকা। বাবা তুফানগঞ্জ এন এন এম স্কুলের শিক্ষক। আলিপুরদুয়ারের নেতাজী বিদ্যাপীঠ স্কুলের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী নীলাঞ্জনা। ছোট থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করেন তার বাবা সুভাষ রায়।

আলিপুরদুয়ার থেকে উঠে আসা নীলাঞ্জনা বেসরকারি চ্যানেলের রিয়েলিটি শো-এর দৌলতে আজ শুধু রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রতিভা দেশব্যাপী যে জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

যখন নীলাঞ্জনার ৩ বছর বয়স তখন থেকেই বাবার নজরে আসে মেয়ের প্রতিভা। এরপরে শুরু হয় তালিম নেওয়া। নীলাঞ্জনার ঠাকুর্দা ছিলেন তবলচি। তাঁর কাছেই শুরু হয় প্রথম তালিম নেওয়া। যদিও ঠাকুরদার মৃত্যুর পর চার বছর বয়সে নীলাঞ্জনার প্রথম সঙ্গীত শিক্ষাগুরু হন আলিপুরদুয়ারে সুপরিচিত শিল্পী স্বর্গীয় পরেশচন্দ্র চক্রবর্তী। তাঁর মৃত্যুর পর নীলাঞ্জনার শিক্ষাগুরু হন পরেশচন্দ্র চক্রবর্তীর পুত্রবধূ দেবশ্রী কুণ্ডু চক্রবর্তী। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, জে.আবেদিন এবং দেবশ্রী কুণ্ডু চক্রবর্তীর লাগাতার প্রচেষ্টার জেরে ছোট্ট নীলাঞ্জনা এখন ভয়েস ইন্ডিয়া কিডস-এর একজন অন্যতম প্রতিযোগী।

অডিশনের দিন নীলাঞ্জনার গলা শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন বলিউডের তাবড় তাবড় সঙ্গীত শিল্পীরা৷ কে ছিলেন না সেখানে৷ শান, পাপন, পলক মুচ্ছল, হিমেশ রেশমিয়ার মতো শিল্পীদের সামনে বীর-জারার ‘তেরে লিয়ে’ গানটি গায় সে৷ গান শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হিমেশ এবং পলকের সম্মতি পায়। কিছুক্ষণ বাদে শান এবং পাপনও সম্মতি জানায়। আবেগ সামলাতে পারেননি নীলাঞ্জনার বাবা সুভাষবাবু।

আপাতত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা প্রতিযোগী হিসেবে আলিপুরদুয়ারের নীলাঞ্জনা পৌঁছে গিয়েছে টপ ১২-তে৷ ইতিমধ্যে নীলাঞ্জনার ‘ঘুমর’ গানটি সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ সাড়াও ফেলেছে৷ এখন অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যেখানে দর্শকদের ভোটই তৈরি করতে পারে তার ভবিষ্যৎ।

তবে ভোট বিচারে কোনও শিল্পীর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হওয়া আর শ্রোতাদের মধ্যে স্থান করে নেওয়ায় আসমান-জমিন ফারাক৷ ভোট বিচারে নীলাঞ্জনা হতেই পারেন শ্রেষ্ঠ, কিন্তু কণ্ঠ বিচারে এখন থেকেই তিনি অনেকটাই এগিয়ে৷