ক্ষয়চিহ্নের পারে
একটা লম্বা গৃহযুদ্ধের পর
আমরা ফিরছিলাম চিহ্ন ধরে ধরে
মানুষের বিবেক, প্ররোচনা, আর বিদ্বেষ
তখনও তুষের আগুনে গনগন করছিল
হাওয়া পাল্টাচ্ছিল সময়সুযোগ বুঝে
রাস্তাগুলো ভেঙেচুরে গন্তব্যশূন্যে উধাও
পাখপাখালী নিরুদ্দেশ, বিকলাঙ্গ প্রাণীশালা
দূষিত জলের ভেতর ঘাই মারছে হত্যার শোক
তামাদি মেঘের ছায়া ঢাকছিল হারাকিরির মাঠ
দূরাগত মালগাড়ির সিঁটি, জনপদ ছেড়ে পালাচ্ছে
একপাল সারমেয় চলে গেল শিবাদের দিকে
ধ্বংসস্তূপে ডুঁকরে উঠছে মহেঞ্জোদারোর কান্না
একটা লম্বা ক্ষয়ের পর কেউ জিৎতে না-পারার
শোকে আশ্চর্য-অবাক; আঠারো দিন
ধোঁয়াধুসরিত, চিহ্নহীন,  শুধু পতন…….
কোনো আদর্শই, কুলিয়ে উঠতে পারেনি, কোথাও
প্রতি আক্রমণও ছিল ভয়ানক নির্দয়,  জোরালো
একটা পেঁচা, শেষরাতে ডেকে ওঠার পর….
আমাদের সম্বিৎ ফিরে আসে, আর……
ফিরে আসার পথে ভোর-ভোর কাঙ্খিত
মৃত্যুর মতোই কী-যেন ছুঁয়ে গেল, আমাদের
অস্থিনিচয় আর নাভিকুণ্ড…….