সনৎ বসু

দুপুর একটা৷ দোতলার ঘরে বসে দীপন৷ পশ্চিমের জানলার বাইরে কোকিলের ডাক৷ বসন্তকাল এসে গেল?

হয়তো বা৷ আজ সকালে বিপিনের দোকানে চা খেতে যাবার সময় বাবলিদের আম গাছে মুকুলের ঢল দেখেছে৷ মোড়ের রাস্তায় সজনে ফুলের গড়াগড়ি৷ খাটে বসেই বিশুদের পেয়ারা গাছটা দেখা যাচ্ছে৷ পেয়ারাগুলো এত বড়ো হয়ে গেছে? দুদিন বাদে দল বেঁধে আসবে টিয়ারা৷ ট্যা ট্যা ডাকে বাতাস কাঁপাবে৷

পরের মাসে ছেষট্টিতে পড়বে দীপন৷ আগামী শুক্রবার ছানি অপারেশন৷ বাঁ চোখ৷ ফেকো৷ বার্ধক্যের আমন্ত্রণ৷

কোকিলটা ডেকে চলেছে৷ কোকিলাও উড়ে এসেছে পেয়ারার ডালে৷ কাকের হাত থেকে বাঁচতে নীচের ঝোপে লুকোয়েছে৷

যৌবনে কবিতা লিখতো দীপন৷ কবি হিসেবে নামও হয়েছিল৷ বসন্তকাল তার প্রিয় ঋতু৷ তার কবিতা অনেকে আবৃত্তি করেছে ইউ টিউবে৷

এখন লেখে না৷ লিখতে ইচ্ছে করে না৷

রাস্তার পাশে কাজল ভৌমিকের চার তলা ফ্ল্যাট৷ সদ্য তৈরি৷ আউট সাইড পেইন্টিং হচ্ছে৷ ওয়েদার কোট৷ বাসন্তী রং৷ দুপুরের রোদে ঝিলমিল করছে৷

কোকিলটা উড়ে এল ফ্ল্যাটের কাছের বকফুল গাছে৷ কোকিলাকে খুঁজছে৷ আর ঘাড় ঘুরিয়ে ফ্ল্যাটের রং দেখছে৷

বসন্তে কোকিলের ডাক, শরতে শিউলির গন্ধ মাখা ভোর আর শীতের কুয়াসা জড়ানো পুকুর না দেখলে আজো বাঁচার উৎসাহটা হারিয়ে যায় দীপনের৷

কোকিলটা ডেকে চলেছে৷ কোকিলাকে পেলো! নাকি ফ্ল্যাটের বাসন্তী রঙে মাথা ঘুরে গেল?

একা ঘরে দীপন ভাবে৷ ভেবেই চলে৷