পবিত্র চক্রবর্তী
পবিত্র চক্রবর্তী


অর্কপুর রাজ্যের নামটি যতটা সুন্দর বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে রাজা থেকে শুরু করে সামান্য প্রজা সকলের মনে এক বিশ্রী কুৎসিত মন। সর্বদা একে অপরকে অবিশ্বাসের চোখে দেখে । আর এই অবিশ্বাসের মাত্রা যখন অতিরিক্ত হয়ে যেত তখন লেগে যেত মারামারি। সে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা !
বছরের পর বছর চলে আসছে অর্কপুরের দিন থেকে রাত এহেন মহামারী। নিজের ঘরের মানুষদের একতা না থাকলে বাইরের শত্রু যে ওঁত পেতে থাকে, এ কথা সকলেরই জানা। এ রাজ্যের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা কী করে হয়! পাশের বেশ কটি শত্রু দেশ তলোয়ারে প্রত্যহ শান দিয়ে বসে যেমন থাকে ঠিক অন্যদিকে রাক্ষসদেরও মনে আনন্দের সীমা থাকে না। যত বেশী যুদ্ধ-মারামারি-কাটাকাটি ততই রাক্ষসদের সুবিধা হয়, সহজেই উদরপূর্তি করার জন্য।
রাক্ষসরা সুযোগ পেলেই রাতের বেলা চাঁদের বুক চিড়ে বড় বড় ডানায় ভর করে চলে আসে অর্ক রাজ্যে আর কড়মড় করে চিবিয়ে খায় মানুষ-পশুদের। তারপর মুলোর মত দাঁতগুলো রক্তে লাল করে মনের আনন্দে ফিরে যায় অস্থিপুরে , তাদের সাম্রাজ্যে।
রাক্ষসদের আস্তানায় রক্তের নদীতে ওঠে কালচে লাল স্রোত। পাথরের গাছে আর হাড়ের পাতায় বাতাস দিলে ওঠে সড়সড় কড়কড় করে নানা আজব শব্দ । রাক্ষসদের মধ্যে যে সবচেয়ে শক্তিশালী সে হল এক মাথা পাকা চুলের বুড়ি। বুড়ি হলে হবে কী ! তার মুলোর মত দাঁত , কুলোর মত কান আর গায়ে হাজার খানেক হাতির বল। রাক্ষস বুড়ির নির্দেশে সব ছোট বড় রাক্ষসরা ওঠে বসে। রাতের পর ভোর হলে রাক্ষসরা তাদের নিজের এলাকায় চলে আসে। রক্তের নদীতে নেয়ে পরিষ্কার হয়ে অস্থিপুরে নিজের নিজের বাসায় নাক ডাকিয়ে ঘুমায়।
রাক্ষস বুড়িও তার জাদু পুতুলের মুখে বেসুরো গলার গান শুনতে শুনতে ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়। তুলোর মত সাদা মাথার বুড়ি ঘুমিয়ে পরলেই পুতুলটি নিশ্চল পাথরে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার দুই চোখ লাল চুনী দিয়ে তৈরী আর সারা শরীর নানা প্রানীর হাড় জুড়ে মজবুত করে বানানো। যন্ত্র পুতুলটি কেবলমাত্র রাক্ষস বুড়িরই কথা শোনে। মাঝে মাঝে বুড়িকে নানা শলা-পরামর্শও দেয়।

সেইদিন কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের আলোয় নিজের প্রাণ হাতে করে জঙ্গলের দুর্গম রাস্তা দিয়ে ছুটে চলে অর্কপুরের রাজপুত্র দীপ্ত । অচেনা বিজন পথে তার ঝলমলে পোশাক কাঁটার ঘায়ে ফালি ফালি হয়ে যাচ্ছে।
নরম পায়ের অবস্থা আরো করুণ। সারা শরীরে বেয়ে পরছে লাল নোনতা রক্ত। পিছনে শোনা যাচ্ছে রাক্ষসদের ডানার শন শন শব্দ। বুড়ির আদেশে রাক্ষসদল দীপ্তকে আক্রমণ চালায় কিন্তু বুদ্ধিমান রাজপুত্র তাদের হাত থেকে নিজেকে কোনমতে বাঁচিয়ে এসে পরেছে এ জঙ্গলে । কিন্তু জানা ছিল না এই গভীর বনটিও রাক্ষসদেরই। সুতরাং বাঁচার আশা যখন প্রায় শেষ ঠিক অমনি হল আরেক বিপত্তি । আঁধার পথে রাজপুত্র হাড়ের পাথরে ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে মাটিতে পরে যায় । রাতের অল্প আলোয় দূরে দেখতে পাওয়া যায় রাক্ষসদের জ্বল জ্বলে চোখ থেকে ঠিকরে পরা আলো। রাজপুত্র বুঝলো তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে ।
ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিতেই রাজপুত্রের কানের কাছে ফিসফিসিয়ে অথচ পরিষ্কার গলায় কে যেন বলে –
“ রাজপুত্র দীপ্ত ধর আমার হাত –
ওই দেখ স্বপ্নপুকুর ,
ওঠো , নয় যে সে পথ সুদূর –
নিশ্চিন্তে পুকুর তলে কাটাও রাত ।”
কথা শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে রাজপুত্র ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখে এক কদাকার কুনো ব্যাঙ গলা ফুলিয়ে তার পানে চেয়ে কথাগুলো বলে চলেছে ।কী আর করা ! এদিকে প্রায় এসে পরেছে রাক্ষসদল তাকে ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য। রাজপুত্র কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে কুনো ব্যাঙের সাথে পুকুরের দিকে এগিয়ে চলল । এপথ-সেপথ পেড়িয়ে সামনেই কুনোর বলা সেই পুকুর । আশ্চর্য রাতের জমাট আঁধারেও পুকুরটার চারিধার উজ্জ্বল আলোয় ভরা । মাঝে মাঝে ফুটে আছে পদ্মের মত বিশাল সব ফুল । কুনো ব্যাঙ এক লাফ দিয়ে পুকুরে ভেসে থাকা এক পাতার উপর বসে আবার রাজপুত্রকে ডেকে বলে –
“ কীসের তরে চিন্তা তোমার –
পুকুর তলে আছে প্রাসাদ আমার ।
রাক্ষসদল পাবে নাকো হদিস –
জলের তলে আমরা থাকি করে মিল মিশ ।”
অগত্যা রাজপুত্র দীপ্ত গা ঘিনঘিনে কুনোর কথা শুনে স্বপ্নপুকুরে ঝাঁপ দিল । ব্যাঙের হাত ধরে জলের গভীরে যেতে থাকে ।
গায়ে জল লাগতেই অবাক রাজপুত্র! কোথায় তার ব্যাথা! গায়ে যেন আগের মত বল। জলের তলেও পরিষ্কার সব দেখতে পাচ্ছে । নানা রঙ-বেরঙের মাছেরা খেলে বেড়াচ্ছে মনের আনন্দে । কী সুন্দর শান্ত-মনোরম পরিবেশ ! মাছেরা ঝাঁক বেধে রাজপুত্রকে দেখছে আর অতি মোলাম স্বরে এক সাথে বলে উঠছে –
“ রাজকুমার সামনেই মোদের মহল –
তোমায় দেখে মন যে খুশীতে বিহ্বল ।”
কুনোর সাথে রাজপুত্র জলের তলে সেই প্রাসাদে প্রবেশ করে ।

রাজপুত্রকে না পেয়ে রাগের জ্বালায় রাক্ষসরা লকলকে জিভ আর মুখ ভর্তি বিষাক্ত লালার ফোয়ারা ছুটিয়ে অর্কপুরের রাজাকেই ঘাড় ধরে বন্ধী বানিয়ে নিয়ে গেল সেই রাক্ষস বুড়ির কাছে ।
অবিশ্বাসের রাজ্য-ঐক্যহীন রাজ্য । রাজাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সকলে একে অপরকে দোষ দিতে শুরু করে দিল। তারপর আবার গত সন্ধ্যা থেকে রাজকুমারকেও পাওয়া যাচ্ছে না। রানী পা ছড়িয়ে হাপুস নয়নে কাঁদতে শুরু করে দেয়।
সেদিনি ঘটলো দুটি ঘটনা। রাক্ষস রাজধানী অস্থিপুরে রাক্ষসী বুড়ি বিশাল এক নর-কঙ্কাল দিয়ে তৈরী হাড়ের সিঙ্ঘাসনে বসে খনখন করে হাঁসতে হাঁসতে পাটের মত জট পাকানো চুল নাড়িয়ে বলে –
“ রাজা এবার হাতের মুঠোয় –
অবিশ্বাসের দেশে জ্বলুক আবার আগুন ,
রাজপুত্র-রাজা নেই সেথায় –
নর-পশু সহজে খাবো, শরীরে বল হবে দ্বিগুণ ।”
বুড়ি তার মস্ত মস্ত নখের ঈশারাতে রাজাকে এক ছোট্ট কুঠুরিতে আটকে দেয় । কুঠুরির চারিপাশ পচা-দুর্গন্ধে ভরা । আর এই গন্ধ যত ওঠে রাক্ষসদের মন ততই আহ্লাদে আটখানা ।
এদিকে একদল সাধু অর্কপুর রাজ্য পার করবার সময় দু’জন লোকেরা কথা শুনে দাঁড়িয়ে পড়লেন । তারা নিজেদের মধ্যে গলা তুলে বলাবলি করছে –
“ দেখো ভায়া রানী করেছে নিশ্চয়ই ক্ষতি –
কেঁদেকেটে ভান করে, যেন কতই সতী !”
অপরজন বলে –
“ না ভাই ! রাজাই বদমাশ –
রানী-পুত্র সবকে করেছে নাশ ।”
এসব কথা শুনে এক বৃদ্ধ সাধু তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে –
“ বৎসগণ কর না কলহ-সন্দেহ –
ঘটেছে কী ঘটনা , একবার কহ ।”
সমস্ত ঘটনা শুনে সাধুদের দল রাজপ্রাসাদে উপস্থিত হয়ে রানীর সাথে দেখা করতে যান । রানী আড়চোখে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় সাধুদের প্রতি ।
বৃদ্ধ সাধু এ দেখে মনে মনে হেসে গলা ঝেড়ে বলেন –
“ মহারাণী তুমি নারী , লক্ষ্মী সমা –
নাহি রাখ মনে ঈর্ষা , তুমি যে রমা ।
জগতের সকল বিবাদ , হিংসার জন্যে –
ঐক্য-ক্ষমা , শক্তি আনে সকল লোকারণ্যে ।”
রানী এমন মধুর বাক্য শুনে অতি পুলকিত হয়ে বৃদ্ধ সাধুর পায়ে লুটিয়ে পরে কেঁদে কেঁদে বিগত রাতের সব কথা বলে । সাধু তার রানীর মাথায় হাত বুলিয়ে পুনরায় বলেন –
“ কেঁদো না মা , মহারাণী –
তোমার পুত্র আনবে শান্তির বানী ।”
অবাক হয়ে রানী জানতে চায় কেমন করে সম্ভব তা ! তখন বৃদ্ধ সাধু খড়ি পেতে গণনা করে গম্ভীর ভাবে বলেন –
“ রাজপুত্রের বিবাহ হবে অমানুষের সাথে –
রাক্ষস-অশান্তি ঘুচবে ফল পাবে হাতে নাতে ।”
বৃদ্ধের কথা শুনে তো রানীর চক্ষু চড়কগাছ ! বলে কী ! আর কোন কথা না বলে সাধুদের দল রাজপ্রাসাদ থেকে রওনা দিল । আর রানী গালে দিয়ে ভাবতে শুরু করে সাধুর কথা ।

সারাটা রাত গভীর জলে নরম প্রবালের পালঙ্কে ঘুমিয়ে কাটায় রাজপুত্র দীপ্ত । সকালের সূর্যের নরম আলোয় জলের তলার জগতটা আরও বেশী সুন্দর লাগে । হাল্কা স্রোতে একদল মাছ , কচ্ছপ নানা জলজ প্রানীরা পাতার আড়ালে মনের সুখে খেলা করে বেড়াচ্ছে ।
এমন সময় একটা পেট মোটা বড় লাল মাছ রাজপুত্র দীপ্তের কাছে এসে জানায় –
“ রাজকুমার ডাকে তোমায় বন্ধু কুনো –
প্রাসাদ কক্ষে যা বলবে তা সব মেনো ।”
কিছুটা অবাক হলেও দীপ্ত মনে মনে হেসে ভাবতে থাকে ওই গোদা ব্যাঙ আর এমন কী বলবে ! ভাবতে ভাবতেই প্রাসাদের কক্ষে প্রবেশ করে । সেখানে একটা ছোট্ট মখমলে পাতার বিছানায় শুয়ে ছিল কুনো ।
রাজপুত্র তাকে দেখে বুঝলো কুনোর শরীর খারাপ । ব্যাঙ লালটে চোখে শান্ত গলায় বলে –
“ রাজকুমার তোমার হাতেই জীবন আমার –
আজই বিবাহ করে সঙ্গী কর তোমার ।”
এত বড় স্পর্ধা ! রাজকুপার ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ওঠে –
“ একই দুরূহ স্পর্ধা তোমার –
ব্যাঙ , শেষে জীবন সঙ্গী হবে আমার !”
রাজকুমারের চোখে মুখে ঘৃণা । তখন সেই লাল মাছটি সব বুঝে ও শুনে বলে –
“ রাগ কর না অর্ক দেশের কুমার দীপ্ত –
রাখ কথা , না হলে হবে না কিছু মুক্ত ।”
মনের রাগ চেপে রেখে বিবাহ সম্পন্ন করে কুমার । জল রাজ্যে উৎসব শুরু হয় এ ঘটনায় । তারা রাজপুত্র আর কুনোর জন্য বাসর সাজাতে চলে গেল ।

অস্থিপুরে হঠাৎই কেঁপে উঠল বুড়ির আসন । চারিদিকে কাইমাই করে রাক্ষসরা অজানা ভয়ে দৌড়াতে শুরু করে দেয়। রাক্ষস বুড়ি টল মলিয়ে পা ফেলে গেল তার সেই জাদু অস্থি পুতুলের কাছে ।
তার এই ঘর সর্বদা বদ্ধ থাকে । একটাও জানালা খোলা থাকে না । কিন্তু আজ ঘরে ঢুকতেই দেখে অদ্ভুতভাবে জানলার কপাটগুলো খোলা । তীব্র ভাবে সূর্যের রশ্মিতে সারা গর আলোকিত । বুড়ি ছুটে জানলা বন্ধ করত যাবে এমন সময় উন্মুক্ত জানলা দিয়ে সোঁ সোঁ করে বাতাস ঢুকতে থাকে ।
হাওয়ার দাপটে হাড়ের জাদু পুতুল মেঝেতে উল্টে পড়তেই রাক্ষস বুড়িও সেই হাড়ের মেঝেয় আছাড় খেয়ে যায় । শেষে জাদু পুতুল গড়াতে গড়াতে দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা খেতেই মাথাটা ফটাস করে ভেঙে পরে । অমনি সেই ভাঙা মাথা থেকে সারা ঘড়ময় নীলচে রক্তে ভরে যায় । রাক্ষস বুড়ির মাথাও মুহূর্তের মধ্যে খসে পরে ধড় থেকে । কারণ বুড়ির প্রাণ পাখী ছিল জাদু পুতুলের মধ্যেই । অন্যদিকে অস্থিপুরের বাকী রাক্ষসরাও পাকা ফলের মত ধপ ধপ করে পরে আর মরে । কারণ তাদের প্রাণ ছিল বুড়ির মধ্যেই । অস্তিপুর রাক্ষস মুক্ত হল চিরতরের জন্যে ।
আটক রাজাও অবাক হয়ে যায় এমন ঘটনা আকস্মিকভাবে হতে দেখে ।
রাক্ষসদের মৃত্যুর সাথে সাথেই তার কুঠুরির দরজাও নিজের থেকেই খুলে যায় । সেই উৎকট গন্ধের বদলে বইতে থাকে মধুর সমীরণ । সব যেন জাদুর স্পর্শে শ্যামলিমায় পূর্ণ। রাজার প্রানেও অদ্ভুত ভাবে খুশীর লহর।
স্বপ্নপুকুরে বাসরঘরে কুনোর মুখ অবধি দেখল না রাজপুত্র । রাগে অভিমানে কুমার এক পাশে ঘুমিয়ে পরে ।
পরদিন সকাল সকাল জলের প্রানীরা কুনো ব্যাঙকে সুন্দর করে সাজিয়ে , ঘোমটা পরিয়ে ময়ূরকণ্ঠী রথে তাদের চাপিয়ে অর্কপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দিল ।বিদায়কালে তারা সকলে কাঁদতে কাঁদতে বলে –
“ কুনো বঁধূ ভুলো না আমাদের নতুন এ বেশে –
মুক্ত সব , দেখা কর যেও মাঝে মধ্যে এসে ।”
ময়ূরকণ্ঠী রথ ময়ূরের মত ডানা মেলে দ্রুত বেগে উড়ে যেতে থাকে অর্ক রাজ্যে ।
অর্কপুরে এমন অবস্থা কোনদিনও হয় নি পূর্বে । মানুষ আনন্দ করছে ! চারিদিকে উৎসবের মেজাজ ! এসব দেখে দীপ্তের অত্যন্ত অভিমান হয় । তখন ঘোমটার আড়ালে কুনো বলে নরম লাজুক গলায় –
“ রাজকুমার পেয়ো না তুমি কষ্ট –
রাজা-রানীর সাক্ষাতে কষ্ট হবে নষ্ট ।”
ময়ূরপঙ্খী রথ প্রাসাদে নামতেই রাজা রানী ছুটে এসেও থমকে যায় । রাজকুমারের সাথে কে ! শেষে সাধুর সেই ভবিষ্যৎ বানী ফলে গেল । রাজপুত্র বিয়ে করল অমানুষের সাথে ! হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে রানী এগোতে থাকে । রাজপুত্রও রাগে মুখ অন্যদিকে ঘুড়িয়ে রাখে ।
ঘোমটা সরিয়ে রানী পুত্রবধূর মুখ দেখে তো রা কারে না । শেষে মহারাজা সামাল দেয় । কুমার দীপ্তকে বলে –
“ পুত্র করেছ কী এ কাজ –
এ যে দেবী , অপরূপ সাজ !”
রাজকুমার চম্‌কে ওঠে ; দেখে এ যে সেই কদাকার কুনো ব্যাঙ না ।! এ যে এক সুন্দরী রাজকন্যে ।
রাতে রাজকন্যা অদিতি জানায় বহুবছর আগে সেও ছিল মানবী । একদিন এক সাধারণ গরীব মানুষকে অপমান করাতে সে কদাকার ব্যাঙে পরিনত হয়ে যায় । অনেক কান্নাকাটি করাতে গরীব মানুষটির মনে দয়া হয় । তখন সে বলে –
“ মানুষ-রাক্ষস সব এক ,
শুধুই ঈর্ষা লালসা আর চমক ।
যদি করে কোন কুমার বিবাহ –
মুক্ত হবি,বইবে মানব ঐক্যের প্রবাহ ।”
সন শুনে রাজপুত্র বুঝল সেই লাল মাছ “ মুক্ত ” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছিল। অর্কপুরে সেই থেকে আর হয় না বিবাদ । চারিদিকে শান্তি আর সমৃদ্ধি-একতা ।