saroj-darbar

স্নান

সরোজ দরবার

ফেসবুকে ছবিটা দেখে আপন মনেই বেশ খানিকটা হাসলেন ষাটের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো সুমন চক্রবর্তী।একজোড়া নারী পুরুষের স্নানরত অবস্থার ছবি। একে অন্যের গলা জড়িয়ে আছে আদরে। কিন্তু তাদের নগ্নতা স্পষ্ট নয়। আবছা জলের ধারায় ঢাকা। ছবিটার উপরে বড় করে লেখা, save water, shower together.   তাঁর বয়সি কেউ এ ছবি দেখলে নিশ্চিত নাক সিঁটকোতেন। কিন্তু সুমন সে দলে নেই। তিনি নিয়মিত ফেসবুক করেন। নতুন মোবাইলটায় তো আরও সুবিধা হয়েছে। মোবাইল থেকেই মাঝে মধ্যেই টুক করে দেখে নেন। সহকর্মী দু’একজন তাঁকে মোবাইলে খুটুর খুটুর করতে দেখে জানতে চায়, কি বৌদিকে টেক্সট করছেন নাকি? ব্যাঙ্কে কম্পিউটর অনেকদিন এসেছে, কিন্তু লোকজনের টেক স্যাভি হওয়ার তেমন লক্ষণ নেই। একদল তো ভিআরএস নিয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছিল, আর বাকিরা ওই কপি পেস্ট। যাকগে এই প্রশ্নের উত্তরে, সুমন শুধু একটা হাসি ফিরিয়ে দেন। তার যে কী মানে ওরা করে, ওরাই জানে।

তবে নতুন জেনারেশনের সঙ্গে এই কানেকশনটা বেশ উপভোগই করেন সুমন। এই তো পুজোর সময়, একদল ছেলেমেয়ে বাসের কন্ডাকটরকে জানতে চাইছিল যে, বাবুবাগান যেতে হলে কোন জায়গায় নামলে সুবিধে হবে? কনডা্কটর একেবারে মানচিত্রে জায়গা খোঁজার মতো করে মণ্ডপের অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়ার পর, দলটা নেমে গেল। সুমন তখন কন্ডাকটরের দিকে তাকিয়ে বল, আপনি তো মশাই গুগুল দাদা হয়ে গেলেন। কনডাক্টর কিছু না বুঝেই তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসল। তবে ঠিক পিছনে বসে থাকা এক নবদম্পতি তার কথা শুনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছিল। সুমন জানেন প্রজন্মের সঙ্গে ভাষাটাও বদলায়। নিজেকে এই পাল্টে নেওয়াটা জরুরি। নাহলেই আসলে বুড়ো হয়ে যেতে হয়।

সুমনের স্ত্রী সুরমা অবশ্য বুড়ো হয়ে যাওয়াটাকেই এনজয় করে। গতবারের বিবাহবার্ষীকিতে মেয়ে-জামাই ওদের দুটো টাচফোন উপহার দিয়েছিল। সুমনতো নিজেরটা দিব্যি ব্যবহার করছেন। কিন্তু সুরমা বার কয়েক চেষ্টা করে, শেষমেশ পুরনো ফোনেই ফেরত গেল। সুরমার সামনের দিকের বেশ কয়েকগাছি চুল সাদা হয়েছে। বয়সে নাকি অম্বলে কে জানে! কিন্তু সে কটাকেই ঢালের মতো সামনে রেখে সে নিজেকে বয়স্কা বলে প্রমাণ করতে চায়। আজকাল সে এক রঙের শাড়ি পরে। দু’পিসের বেশি মাটন খেতে চায় না। যদিও তার রোগজনিত কোনো সমস্যা নেই। তবু বয়স হলে নাকি কম খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।

Story-picসুমন এর ঠিক উল্টো। তিনি এখনও যা পারেন মুড়ে মাচুড়ে খেতে ভালোবাসেন। নতুন সিনেমার গান এফএমে শুনে দু’এক কলি গেয়েও ওঠেন। রবিবার যখন তাঁর বয়সি সকলে নাটক দেখতে যায়, সুমন ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ দেখে এলেন। সুরমাও সঙ্গে ছিল। হলের বাইরে বেরিয়ে, বলল এইসব বেলেল্লেপনা দেখতে কেন যে আসো? ছবিটা ভালো না খারাপ সে প্রশ্ন পরে, কিন্তু যেহেতু বয়স হয়েছে, তাই সুরমাকে এ কথা বলতেই হবে। সুমন সেটা জানেন বলেই, কথা বাড়ান না। কিন্তু তাঁর এ সব দেখতে বেশ ভালো লাগে। এমনকী এই বয়সে দাঁড়িয়ে ছবিটা দেখতে দেখতে বরং তাঁর আফশোস হল। তাদের সময়ে বিবাহ নিয়ে এরকম পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলে তিনি নিজেও হয়তো আসরে নামতেন।

ফেসবুকের ছবিটা সুমনকে বেশ আনন্দ দিল। তাঁর বয়সি লোকের পক্ষে আনন্দটা ঠিক স্বাভাবিক নয়। মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে একটা কথা মনে করে সুমন দৃশ্যত হেসেই ফেললেন। তাঁর মনে হল, এত বছর বিয়ে হয়েছে, কিন্তু সুরমার সঙ্গে তো একসঙ্গে স্নান করার কথা তাঁর কখনও মনে হয়নি। অথচ যে ছেলেটি এটা পোস্ট করেছে, হয়ত সে সদ্য বিয়ে করেছে, তার ভাবনাতে এটা এসেছে। সুমনের মনে পড়ে কোন এক কবিতাতেও এরকম স্নান করার ডাক ছিল। তার মানে রোম্যান্টিক মানুষরা এরকম করে। তাহলে আরও একটা মানে দাঁড়ায় এই যে, যৌবন বয়সেও তাঁরা এতটা রোম্যান্টিক ছিলেন না। পুরীতে গিয়ে অবশ্য একসঙ্গে স্নান করেছেন। কিন্তু দুটোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। এই সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ একটা আইডিয়া তাঁর মাথায় ভর করল। আজ বাড়ি ফিরে সুরমাকে প্রস্তাবটা দিলে কেমন হয়। ছেলেটার বেশ হিউমার আছে। নিছক রোমান্সে বিষয়টাকে আটকে রাখেনি। তার সঙ্গে একটা সামাজিক কারণও জুড়ে দিয়েছে। জল বাঁচানো।

২)

এই মুহূর্তে সুরমার যা মুখের অবস্থা একমাত্র সুকুমার রায়ের মতো জাতশিল্পীই তা যথার্থ ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। কয়েক সেকেন্ড আগেই সুমন তাঁর প্রস্তাবটি রেখেছেন। তারও কয়েক সেকেন্ড পর, সুরমার মুখে বাক্যি ফুটল। সেটা এই-পাগল টাগল হয়েছ না কি? দিনরাত মোবাইলে খুটুর খূটুর করে কী সব করো বলতো?

সুমন অনেক যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, এতে পাগল হওয়ার কিছু নেই। আর যদিও কিছু থেকেও থাকে, তাহলে একমাত্র মানুষের থেকেই এরকম পাগলামি আশা করা যায়। কোনও জীবজন্তু এ পাগলামি করে না। ঠিক এখানটাতেই মানুষ, মানুষ। তাছাড়া জল বাঁচানোর ব্যাপারটাও আছে। এমনিতেই রোববারে ফ্ল্যাটে জলের টানাটানি পড়ে। তাহলে আপত্তি কীসের? কিন্তু যুক্তিতে ভবি ভোলবার নয়। সুরমা বিশ্বাস করে যে তার বয়স হয়েছে। এমনকি কম বয়সের সুরমাও এ প্রস্তাবে রাজি হত কি না সন্দেহ আছে সুমনের।

গটগট করে সুরমাকে  কিচেনের দিকে চলে যেতে দেখে, একটা সিগারেট ধরালেন সুমন। তাঁর মনে হল, জীবনের এই একটা ইচ্ছে তার বোধহয় অপূর্ণ থেকে যাবে। এই অবস্থায় যদি তাঁর মৃত্যু হয়, তাহলে কি সুরমার সঙ্গে স্নানের জন্য তাঁর আত্মা অতৃপ্ত হয়ে ঘোরাঘুরি করবে? আবার হাসি পেল সুমনের। এককালে তিনি নাকি বাম মতাদর্শে বিশ্বাস করতেন। আর সেই তিনি স্রেফ স্নানের জন্য, নিজের পরলোকের কথা ভাবছেন। নাহ পরিবর্তন এ রাজ্যে বেশ জোরদারই হয়েছে!

৩)

কিন্তু রোববারটা এমনভাবে এল যে সেখানে স্নানের রোম্যান্টিকতা একেবারে মরীচিকার মতো। শনিবার রাতে নরম্যালি ডিনার সেরে শুতে গিয়েছিল সুরমা। সুমনের কাল ছুটি।বসে বসে একটা সিনেমা দেখছিলেন। সেই পুরনো অমিতাভের সিনেমা। রাগি রাগি এই জুবকটাকে বেশ পছন্দ করেন সুমন। বুড়ো অমিতাভকে দেখতে বরং তাঁর ভালো লাগে না। আর এই সব ছবি দেখতে দেখতে যেন নিজের পুরনো বয়সে ফিরে যান সুমন। পর্দায় প্রায় আটকেই গিয়েছিলেন। পাশের ঘর থেকে সুরমার ডাকে সম্বিত ফেরে। ডাকটা অন্যরকম ছিল। তড়িঘড়ি গিয়ে দেখেন, সুরমা প্রচণ্ড ঘামছেন। বুকে হাত দিয়ে বিছানায় বসে আছে। কী হয়েছে, বুঝতে এক মুহূর্ত দেরি হল না সুমনের। উপরের ফ্ল্যাটে ডা গুহ থাকেন। তাড়তাড়ি তাঁকে খবর দেওয়া হল। এরপর নার্সিংহোম, এম্বুলেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি। সপ্তাখানেক যেন ঝড় বয়ে গেল। এক সময় তো তাঁকে বা মেয়েকে চিনতেই পারছিল না সুরমা। এখন অবশ্য চিনতে পারছে। তবে বাঁ দিকটা অচল। পুরো ব্যাপারটাই সুমনের কাছে অকল্পনীয়। সুরমার বয়সি কত মহিলা দিব্যি অফিস করছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন-কই কেউ তো…। তাঁর এই ভাবনার সঙ্গে যে বিজ্ঞানের কোনও সম্পর্ক নেই, সেটা সুমন নিজেও ভালো জানেন। তবু মন মানছে না। ফিরে ফিরে এই কথাই মনে হচ্ছে। আর দু একদিন পর নার্সিংহোমে থেকে বাড়ি ফিরবে সুরমা। অর্ধেক অচল। সত্যিই কি তবে তাঁদের গেছে যে দিন একেবারেই গেল।

মেয়ে তাড়া দিচ্ছিল, বাবা ফ্রেশ হয়ে নাও, সেদ্ধ ভাত হয়ে গেছে, একটু মুখে দাও। জামাইয়ের আইটি চাকরি। সে অফিস কামাই করতে পারে না। তবে মেয়ে এ কটা দিন তার অফিসে ছুটি নিয়ে এ বাড়িতেই আছে। জামাইও একদিন এখানে, একদিন ওদের সল্টলেকের ফ্ল্যাট এই করে সামলাচ্ছে। মেয়ের তাড়া খেয়ে, সুমন উঠে বাথরুমের দিকে যান। দরজা বন্ধ করতে গিয়ে হঠাৎ সেই ছবিটার কথা মনে পড়ে। একসঙ্গে সুরমার একটা ছবিও মনে ভাসে। যে সুরমার ছবি পৃথিবীতে তিনি ছাড়া  আর কেউ জানেন না। সুমন মনেপ্রাণে চান, দুটো ছবিকে যদি এক জায়গায় করা যেত। সফটওয়ার দিয়ে নাকি দুটো ছবি জোড়াও যায়। কিন্তু…। এই মুহূর্তে সুমনের মনে হচ্ছে, সত্যিই বয়স বেড়েছে।

৪)

অ্যাটাক হল সুরমার। কিন্তু প্রভাব পড়ল সুমনের উপর। এখন মেয়ে জামাই নিজের বাড়ি ফিরে গেছে। উইকএণ্ডে এসে দেখা করে যায়। তাঁদের ঘরে দিনের বেলা সর্বক্ষণের একজন কাজের লোক রাখা হয়েছে। রাতটা সুমন সামলে নেন। কিন্তু এই সুমন আর আগের মতো নন। একদিন ফেসবুক খুলে দেখলেন, একগাদা নোটিফিকেশন। বেশীরভাগই, কী কোথায়, আসেন না কেন গোছের। কিন্তু এ সব আর ভালো লাগল না তাঁর। কী মনে করে ফেসবুক প্রোফাইলটা ডিঅ্যাকটিভেটই করে দিলেন। কেন কে জানে, আহ হঠাৎ সুমনের মনে হল, এই বয়সে এ সব আর ভালো নয়। হলে সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, এমনকী টিভিতেও সিনেমা দেখা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। ওই সন্ধের দিকে, সুরমাকে ধরে সোফায় বসিয়ে দেন। দু একটা গল্প করতে করতে, একটু আধটু যা চোখে পড়ে তাই। পৃথিবীটা বদল হয়ে গেছে সুমনের। চাকরি করতেও আর ভালো লাগছে না। তবু এই বছরখানেক  তো করতেই হবে। বাজার, অফিসে তার প্রতি লোকজনের ব্যবহারও বদলে গেছে। হেসে কথা প্রায় কেউ বলেই না। দেখা হলে শোকগ্রস্ত মুখ করেই কথাবার্তা বলে। এদিকে আবার আর এক ঝামেলা, দেখাশোনা করার মেয়েটি একদিন ছুটি চাইছে। রবিবার। ভেবেছিল, সেদিন মেয়ে চলে আসতে পারবে। সেইমতো ফোন করল ওদের। কিন্তু সেদিনই ওরা থাকছে না। সুমন আর জোর করলেন না। এই এক মাস অনেক তো করল। আর এইরকম প্রায়ই হতে থাকবে। সুতরাং…। মেয়ে জামাই অবশ্য বারবার জানতে চাইল, ম্যানেজ করে নিতে পারবে কি না। সুমনের যদিও তটোটা কনফিডেন্স ছিল না, তবু ফোনে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, এ আর কী। ওই রোববার একসঙ্গে খাওয়া দাওয়ার কথা ভাবছিলাম, সে নাহয় পরের রোববার…

৫)

রবিবাসরীয়টা শেষ করে নিজেই আর এক প্রস্থ চা করবে ভাবছেন সুমন। সামনের সোফায় বসে সুরমা টিভি দেখছে। বাইরে থেকে দেখলে মনেই হবে না যে এই বসে থাকার ভিতর কতটা অসহয়তা। এই রোববার তো এতক্ষণে বাজারের ফিরিস্তি শুনিয়ে সুমনের মাথা খারাপ করিয়ে দেওয়ার সময়।

IMG-20150531-WA0003
অলংকরণ- পৌলমী ঘোষ

উঠবে উঠবে করছে, এমন সময় সুরমা একটু জড়ানো উচ্চারণে, এখন সে যেভাবে কথা বলে, সেভাবে কাছে ডাকল। সুমন কাছে যেতে জানাল, তাঁদের বাড়ির পাশের রেস্তোঁরা থেকে পোলাও আর মাটন আনার কথা বলছ সুরমা। তবে কি নিজে রান্না না করতে না পারার কষ্ট? সুরমাকে এই অনুরোধ করতে দেখে, দুঃখই হল সুমনের। অনুরোধ করার পাত্রী সুরমা নয়। যা কিছু রান্না এযাবতকাল নিজের হাতেই করে এসেছে। যাইহোক তক্ষুণি অর্ডার করে দিলেন তিনি। এক ঘন্টার মধ্যে খাবার দিয়ে যাবে বলল রেস্টুরেন্টের ছেলেটি। সুমন বলল, চলো তোমাকে স্নান করিয়ে দিই। খাবার এসে গেলে গরম গরম খেয়ে নেওয়া যাবেখন।

ধরে ধরে সুরমাকে বাথরুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন সুমন। একটাদিক ঘেষটে ঘেষটে চলেছে সুরমা। এই মুহূর্তে অদৃষ্টকে খিস্তি দিতে ইচ্ছে করছে সুমনের। কিন্তু মুখে বললেন, সাবধানে।

বাথরুমে এই এক মাস হল চেয়ার একটা রাখাই আছে। সেখানে বসালেন সুরমাকে। সামনের গামলায় জল ভরতে দিয়ে মনে পড়ল টাওয়েল আনতে ভুলে গেছেন। সুরমাকে বলল, তুমি একটু বসো, আমি টাওয়েল টা নিয়ে আসি। বলে পিছু ফিরতেই দেখল ডান হাত দিয়ে তাঁর পাজামাটা টেনে ধরেছে সুরমা। সুমন বুঝল, একা বসে থাকা সুরমার পক্ষে সম্ভব নয়। কী অসহয়তা! এখন সুমন কি করবে? যাকগে, স্নান করিয়ে ভিজে অবস্থাতে ঘরে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। জলের গামলা ভরে উঠছে। সুরমা সেদিকে আঙ্গুল বাড়িয়ে, জড়ানো স্বরে বলল, সরিয়ে দাও। সুমন জানতে চাইল, কেন? সুরমা উত্তর দিল না। সুমন গামলাটা টেনে সরিয়ে দিতে, সুরমা, ঠিক সাওয়ারের তলায় আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, ওইখানে চেয়ারটা দাও। ধরে ধরে তাই করলেন সুমন। সত্যি বয়স হয়েছে। এ টুকুতেই বেশ হাঁফিয়ে গেলেন তিনি। অথচ ওই  অল্পবয়সি কাজের মেয়েটা তো এ সব বেশ সহজেই করে ফেলে। সুরমাকে চেয়ারের উপরে বসিয়ে দিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতেই, ঝরঝর করে একরাশ জল তাঁর মাথা গা ভিজিয়ে দিল। হ্যাঁ ঠিকই দেখছেন সুমন, ডান হাতে সাওয়ার খুলে দিয়েছে সুরমা। হু হু করে জল পড়ছে। আর তাঁরা দুজনে ভিজে যাচ্ছেন। একসঙ্গে স্নান করছেন। সেই জলের ধারা ভেদ করে সুমন স্পষ্ট দেখছেন খিলখিলিয়ে হাসছে সুরমা। শুধু একদিকের ঠোঁটটা বাঁকা।

চেয়ারের উপর দিয়ে সুরমাকে ছুঁয়ে থাকতে থাকতে সুমন তখন ভাবছেন, এ কোন সফটওয়্যার ছবিটা এমনভাবে মিলিয়ে দিল। কোনও টেক স্যাভির কাছেই কি এর কোনও উত্তর আছে? নাকি থাকতে পারে!