বিদ্যুৎলেখা ঘোষ 

Story-2সে ছিল মধ্যাহ্ন এক। ঠা ঠা রোদ্দুরে ভিজতে ভিজতে চেয়েছিল এমন কাউকে নিজের করে পেতে যার রেশম রেশম চুলের রাশি কেবলই ঢেকে দিতে চায় মুখ ঝিলমিল বাতাসে । কিন্তু দুটো হাত বাড়িয়ে মুখের উপর থেকে চুলের আড়াল সরাতে গেলই মিলিয়ে যায় । ঠিক যেন বৃষ্টি পোড়া রাত। কত না লেখা ভালবাসার গল্প   ধূ ধূ আহূতি হয়ে যাচ্ছে তাতে। কী তুঘলকি কারবার ! কেমন করে দেখা হবে ওদের! উত্তর মেরু যদি হয় রোদ্দুরে ভেজা মধ্যাহ্ন তো দক্ষিণ মেরু হল বৃষ্টি পোড়া রাত। ঘটকমশাই সূর্যঘড়ি পায়ে পায়ে খুঁজে চলেছেন পূর্ব – পশ্চিম ।

খবরটা ছড়িয়ে গেছে বুঝি দশ দিক । একদিন মাঝ দুপুরে সে এলো চুপিসাড়ে কাউকে কিচ্ছুটি না জানিয়ে । শন্ শন্ হাওয়ায় নারকেল পাতার ঝিলিমিলির ফাঁকে ওই তো সেই মুখ ! ঠাণ্ডা গরম মেশানো হাওয়ায় হাজার চুমু দিয়ে উস্কে দিয়ে যাচ্ছে মধ্যাহ্নের শরীর। কী এ জাদুকরী কৃষ্ণকলি , যার অপেক্ষায় ছিল এতদিন ঠা ঠা রোদ্দুরে ভেজা মধ্যাহ্ন ! দু হাতের বাঁধনে জড়িয়ে নিতে ইচ্ছে করছে । আর তো দেরি সয় না। কিন্তু কুহকিনী সৈরিনী সে তো সহজে ধরা দেবার নয়। ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা শুরু হয়ে গেছে ওদের। পায়ে পায়ে ধুলো উড়িয়ে শন্ শন্ বাতাস ক্রমশ ঝড় তুলে দিল। কৃষ্ণকলির নাগাল কিছুতেই না পেয়ে কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইল মধ্যাহ্ন । তারপর আঁধারি মেঘে মেঘে চিৎকার  করে বলে উঠলো, বাড়াবাড়ি কম কর..তুই আমা আ আ আ আর…। আর কোথা থেকে  যে কী হয়ে গেল, ঝরা পাতার বসন উড়িয়ে দিয়ে নিলাজ বৃষ্টি পোড়া রাত সেই মেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ঠা ঠা রোদ্দুরে ভেজা মধ্যাহ্নের বুকে….।।