কথার পিঠে উঠে আসে কথা৷ কথাই দিয়ে যায় নতুন কথকতার হদিস৷ ‘ছেঁড়া ঘুড়ি, রঙিন বল’ও স্মৃতির মহাফেজখানা থেকে সুতোয় Souvik-Bandopadhayজড়িয়ে টেনে আনছে নানা কথা৷ অতীত মানে নস্ট্যালজিয়া৷ অতীত মানে মনখারাপের ভালোলাগা৷ তবে শুধুই কি ভালো? সবই কি ভালো? এমন কিছু অভ্যাস,রেওয়াজ, রীতিনীতি চালু ছিল যার কুপ্রভাব থেকে আজকের দিনও মুক্ত নয়৷ অতীত নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলে সে কথাও উঠে আসবে বৈকি৷ লিখলেন শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অর্থনীতির উদার হাওয়া নয়ের দশকের গোড়ায় ভারতীয় মধ্যবিত্ত সংসারের হেঁশেলে অনায়াসে ঢুকে যেতে পেরেছিল মিডিয়ার আনুকূল্যে। নিজের ভাবনা, নিজের পছন্দ আর তত নিজের থাকছিল না, বাজার শেখানো, বাজার দেখানো হয়ে উঠছিল ক্রমশ। শঙ্খ ঘোষ মহাশয়ের “মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে”-র পাশাপাশি রমানাথ রায় মহাশয়ের ঝাঁঝালো বিদ্রুপময় গদ্যে নির্মিত হচ্ছিল সেই সময়ের আখ্যান। অবয়বহীন, বিষয়হীন সব গল্পগাছা।

 goodsমিডিয়ার কথা বলছিলাম, মূলত টিভি। রেডিও শুনে বা খবরের কাগজ পড়ে যতটা আরাম হয় মনের, তার শতগুণে হয় টিভি দেখে, হলও। টিভিতে টিভির বিজ্ঞাপন, ফ্রিজের বিজ্ঞাপন দেখে দেখে আর কত নির্লোভ নিরাসক্ত থাকে সংসারী মানুষেরা! এর পর এল শ্যাম্পু। একটা সময়, ওই নয়ের মাঝামাঝি বা শেষভাগে, টিভির বিজ্ঞাপন দেখে মনে হত ভারতের অন্যতম গভীর এবং জ্বলন্ত সমস্যা কাশ্মীর বা এলটিটি নয়, খুসকি। তারও বেশিটা বামা-মাথায়! ক্রমে লাইন দিয়ে এল ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সাড়ে সাতশো সাবান। দাঁত চকমকে রাখার জন্য বারোশো মাজন। আবার সুগন্ধী সাবান মেখে নিস্তার নেই। পারফিউম হিসেবে যে দু’ফোঁটা আতর বা চলতি কথায় সেন্ট, পোশাকের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হত নেমন্তন্ন বাড়ি যাবার সময়, সে সেন্টু খেয়ে গোঁসাঘরে মুখ লুকোল। এল ডিওডোরান্ট, আদরের ডাকনাম তার, ডিও। মানে সাবান মেখে চান করে ফস্‌স করে বুকে বগলে পিঠে দাও ছড়িয়ে ডিও-ভাইকে। শ্যাম্পু করলেই হয় না সব মামনি, কন্ডিশনার না লাগালে চুল আন-কন্ডিশন্যাল কিছু যদি করে বসে, কে তার দায় নেবে? অতএব লাগাও কন্ডিশনার। আর হ্যাঁ, দাঁত মাজলেই মুখের দুর্গন্ধ যাবে না, ওর জন্যে মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করতে হবে। তবেই আপনি ঠিকঠাক দাঁত কেলাতে পারবেন। হল?

 পার্থক্য কী দাঁড়াল সদ্য পুরনো হয়ে যাওয়া জমানার সঙ্গে? ঘামে দুর্গন্ধ কেন হচ্ছে, মুখে গন্ধ কেন হচ্ছে, মাথায় খুসকি কেন হচ্ছে তা মানুষ ভাবত। মানুষের সঙ্গে তার সংসার, ঠাকুমা, বাবা, বউ, বা মেয়ে ভাবত, ভাবত পাড়াপড়শিরাও। ভেবে যা করতে নিদান দিত, তা মোদ্দা কথায় নিজেকে পালটানোর বা ঘষামাজার। খোলা হাওয়া পালে লাগিয়ে সবকিছু যখন হাতের নাগালে, খামোকা কেন নিজেকে পালটানোর ঝক্কি নেওয়া বাপু? তার চেয়ে ইট, ড্রিঙ্ক অ্যান্ড বি মেরি…

 আগের এক পর্বে লিখেছিলাম না, ঘরে ঘরে এই সময় থেকেই মেয়েরা বাধ্যতামূলক করে ফেলল ভ্রূ প্লাক করা, নিয়মিত ব্যবধানে। রূপচর্চা আর কিছু হোক না হোক, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার মাথায়, মুখে কাজল, লিপস্টিক এবং সুগঠিত ভ্রূযুগল। এর পরে পরেই এল ফেসিয়াল। অর্থাৎ মেয়েলি রূপচর্চা মধ্যবিত্তের নাগালে চলে এল অনেকটাই। বাজার তো এমনই চেয়েছিল। আর বাজার চেয়েছে বলেই বয়ঃসন্ধির সৌন্দর্যে যে সামান্য হিং-ফোড়নে অ্যাপিলের বাড়বাড়ন্ত, সেই ব্রণ নামক বস্তুটিকে অ্যাক্‌নে বলে ডাকাডাকি শুরু হয়ে গেল। এল তারও নিধনযজ্ঞ।Radio

 ঘর সংসারে ঢুকেই যখন পড়ল উদার সেই হাওয়া, বাসনে বাসনে তো ঠোকাঠুকি লাগবেই। বাসন মাজা হত উনুনের ছাই দিয়ে। তা সেই চুলোর উনুনই নেই, ছাই কোথা পাই! বাজারে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাসন মাজার পাউডার, বার সাবান, বাসন ঘষার স্ক্রচ বাইট। তার আবার রকমফের। সবুজ মানে মোলায়েম, রক্তবর্ণ রক্তচক্ষুর টক্কর নেবার এলেম রাখে।

 গেরস্থালির প্রাণভোমরা হল গিয়ে হেঁশেল। বাজার সেখানেই জয়ধ্বজা পুঁতে দিলে আরশোলা বা মশা-মাছি তো নজর এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারবে না। আর আরশোলা প্রাণীটি বাঙালি মধ্যবিত্ত মহিলাদের কাছে জন্মজন্মান্তরের অজিতেশ-বিকাশ-বিপ্লব বা প্রেম-অমরীশ-গুলশন-নিকেতন। পার্থক্য আছে, আতঙ্ক এখানে উভয়ত। কিন্তু আরশোলাদের কাছে নতুন কিছু বিক্রি করা যাবে না এটা বাজার বুঝে গেছিল। যে নিজের চেহারাতেই বিন্দুমাত্র বদলে রাজি হয়নি হাজার হাজার বছর, সে নতুন উদার হাওয়া কেমনে মেনে নেয়? তাহলে, হাতে রইল? আরশোলা নির্মূলকারী চক, স্প্রে। মশার শত্রু মশারিতে শত ছিদ্র ততদিনে প্রমাণিত, স্বতঃসিদ্ধ। কয়েল বা মলমের অস্তিত্ব পুরনো হলেও ঘরে ঘরে নয় তেমন, ও মূলত জঙ্গলে বা পাহাড়ে বেড়াতেই ব্যবহার হত, এখনও হয় শুনি। ঘরের জন্য প্রথমে আয়তাকার ট্যাবলেট, সেটাকে আচ্ছাসে সেঁকলেই কেল্লা ফতে, মশা পোঁপোঁ ছেড়ে পোঁপাঁ দৌড় দেবে। ক্রমে লিকুইডেটর, প্লাগে গুঁজে, পরে জুড়ল তার সঙ্গে রেগুলেটর। বেশি-কম মশার উৎপাতে আগে ফ্যানের রেগুলেটর বাড়ানো কমানো হত। এখন এই লিকুইডেটরের রেগুলেটর সেই জায়গায় বহাল হয়েছেন!


কিশোরীবেলায় ফ্রক ছেড়ে শাড়িতে উত্তরণের আলোমাখা দিন আজ ম্যাড়মেড়ে মলিন। সালোয়ার কামিজ এসেছে, ম্যাক্সিও। কিন্তু গাঁ-ঘরে, সমাজে কথা হয় ওসব পরলে। পালটাচ্ছিল এই মানসিকতা। গতিপ্রাপ্ত হয়েছিল নাইটির আসরে আবির্ভাবে। নাইটি একা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নারীবাহিনীকে প্রথমে মধ্যবিত্ত স্তরে আশ্বাস জুগিয়ে ক্রমে উচ্চবিত্ত, এবং নিম্নবিত্ত জমিও দখল করে নিয়েছিল।


 আর চারদিকের এত তাবড় সভ্যতার আয়োজনে আপনি কিনা বাড়িতে লুঙি পরেন! শরম-হায়া নেই আপনার? তায় হাওয়া যেথা উদার, তেজী। ন্যাতানো ঢোলা পায়জামা, তার দড়ি উঁকি মারছে ফতুয়া বা জামার নীচে থেকে, এতেই বা কত বিপ্লব ঘটানো হল কমরেড? নিজেকে খাপখোলা করার আয়োজনও, অতএব। আর যে কোনও যুদ্ধের পশ্চাতে যেমন নারী, তেমনই এমন সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও। প্রিয় পুরুষকে আরও শোভন করে তুলতে হবে যে! ‘বারমুডা ট্র্যাঙ্গল’ রহস্যের কিনারা হল না, তবে মধ্যবিত্ত পুরুষের রহস্য আড়াল করতে এসে গেল বারমুডা। যত খুল্লমখুল্লাই হোক না এই পুরুষজাত, আমজনতার নজরের সামনে হাঁটুর ওপরে কাপড় উঠে যাওয়ার নগ্নতা নিয়ে মধ্যবিত্তের বেশ সংকোচ ছিল। মনে করুন, তপন সিংহ মহাশয়ের “গল্প হলেও সত্যি” সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির উঠোনের কলতলায় চান করছেন, তাঁর লুঙি উঠে গেছে হাঁটুর ওপরে, ঠিকে কাজের মহিলা সতর্ক করছেন, যে ভানুর এহেন অবস্থায় সেই মহিলা কীভাবে ওঁর সামনে গিয়ে কাজ করেন! সেসব স্মৃতি, সংকোচ ফুস করে মিলিয়ে যেতে চোখ কচলে আপনি দেখলেন, পুরুষালি মালাইচাকি দিব্যি ফুরফুরে ঘুরে বেড়াছে রাস্তায়, হেঁটে, সাইকেলে, বা ঘরে ঘরে তখন থেকে ক্রমে সংখ্যাগুরু হয়ে ওঠা মোটরবাইকে।

tv মেয়ে বউরাও, রাজনৈতিক ভাষায় যাদের বলে মা-বোনেরা, আর নিতে পারছিল না চব্বিশ ঘণ্টাব্যাপী পরনের শাড়ির ঝঞ্ঝাট। আর শাড়ি তো স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনও পোশাক নয়, সঙ্গে এটা পরো রে, সেটা পরো রে। সেই কিশোরীবেলায় ফ্রক ছেড়ে শাড়িতে উত্তরণের আলোমাখা দিন আজ ম্যাড়মেড়ে মলিন। সালোয়ার কামিজ এসেছে, ম্যাক্সিও। কিন্তু গাঁ-ঘরে, সমাজে কথা হয় ওসব পরলে। পালটাচ্ছিল এই মানসিকতা। গতিপ্রাপ্ত হয়েছিল নাইটির আসরে আবির্ভাবে। নাইটি একা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নারীবাহিনীকে প্রথমে মধ্যবিত্ত স্তরে আশ্বাস জুগিয়ে ক্রমে উচ্চবিত্ত, এবং নিম্নবিত্ত জমিও দখল করে নিয়েছিল। যেভাবে রাজনীতিতে এলাকার পর এলাকা, গ্রাম দখল হয়ে যায়, সেভাবেই, নিরঙ্কুশ।

 অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল সেই সময় থেকে। যেমন পাড়ার ক্লাবে নির্ভেজাল আড্ডা। রাজনৈতিক বিপণন এই বাংলায় বেশ শেপ, মানে আকার পেতে শুরু করেছিল সে সময় থেকে। ক্ষমতাসীন দলের আনুগত্য ক্লাবকে পাইয়ে দিতে শুরু করেছিল উন্নয়নের জন্য বা শুভ উদ্যোগের জন্য সরকারি অর্থ-পুরস্কার। লালায়িত করিয়ে দিয়ে লুটেপুটে নেওয়া। তুমি কিছু নাও, আমিও অল্প। গুরু বলে এক, তো চ্যালা হাঁকে একশো। ক্লাবগুলো ক্রমে কেমন দাঁও মারার জন্য ওঁৎ পেতে থাকা শিকারী হয়ে যেতে শুরু করল। অমুক তার বাড়ির সামনে একটা দোকানঘর বানাছে, তমুক এই পাড়ায় চিলতে জমি কিনে বাড়ি বানাচ্ছে, কেউ সরকারি রাস্তার পাশে একটা গুমটি বসাল পান-বিড়ির, সব হোক, ক্লাবেরও তো কিছু প্রাপ্য হয় না কি? ফলে যবনিকা পড়ে গেল দলবেঁধে নাটক করা বা নিয়মিত খেলাধুলো করা। ধুর মশাই, ওসব অনেক হাঙ্গামের কাজ, সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করে কী লাভ? খেলা হয় তো, শীতে ব্যাডমিন্টন। এখন র‍্যাকেট কথাটাই চলে। ওই রাত আটটা-নটা থেকে এগারোটা অবদি। সঙ্গে হালকা করে ঢুকুঢুকু, কয়েক চামচ। গা গরম, দিল খুশ।

 মাছ ধরার শখ আর বড় একটা নেই বাঙালির। থাকার কথাও নয়। মাছ ধরতে গেলে যেটা সবার আগে দরকার, তার নাম ধৈর্য। হাসাবেন না মোশায়! এই এসএমএস, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের জমানায় ধৈর্য!

 বই পড়ার, নিয়মিত লাইব্রেরি যাবার অভ্যাস তো মানুষ ছাড়বেই। তার কী দোষ? হাতের সামনে টিভি খুললেই মনোরঞ্জন রেডি। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারগুলোয় ছুটি রোববারে হত না, বুধবারে। মাসের প্রতি বুধবার, এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ মঙ্গলবার বন্ধ থাকত। সুবিধা কী হত? শনি বা রবিবার বহু চাকুরে মানুষ লাইব্রেরি যেতে পারত। নিজের নামে নেওয়া বইটা পড়া শেষ করে পালটাত, এবং লাইব্রেরিতে আসা খবরের কাগজ বা পত্রিকা উলটে পালটে দেখত, পড়ত। গ্রন্থাগারের সেই ছুটি সরকারী নির্দেশে বদলে প্রতি রবি এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার হয়ে গেল, এই নয়ের দশকের গোড়ায়। মরণাপন্ন রোগীর মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেওয়া আর কী !   repeleant

 এই আটের বা নয়ের দশকের আগে রেডিও ছিল এক বিরাট মুক্তির জায়গা। তাই রেডিওকে নিয়ে আম-বাঙালির খুব আতুপুতু ছিল। বাঙালি মধ্যবিত্ত সংসারে এক-আধজন জুটে যেত, যে অল্পস্বল্প রেডিও সারাতে জানে। তেমন কিছু না, পিছনের বোর্ডটা খুলে একটু ফুঁ-টু দিল, ব্যাটারিগুলোকে খুলে পজিটিভ প্রান্তটিকে শুকনো সুতির কাপড়ে রগড়ে মুছল, আর ডালাখোলা রেডিওটাকে ধরে উঠোনে বা ছাদে রোদে ভাজাভাজা করতে দিল। মনে আশা, এতে গমগমে আওয়াজ আসবে। না হলে তো বাজারে নিয়ে যেতে হবে। বাজারের মধ্যে রেডিও সারানোর দোকান থাকতই। বিচিত্র আওয়াজ আসত সেই দোকান থেকে, বারোমাস, “কুঁউউউ-চ্যাআআ-করররর-ঘ্র্যাঘ্র্যাসসস-এখনকার বিশেষ বিশেষ-টিঁটিঁইইই-উমমম-মিইইই-ঘরেতে ভ্রমর এল…”। তারপর টিভি এল। টিভি রেডিওর মতো ঘরেলু নয়, এট্টু তারকা টাইপ। ওকে নিয়ে নাড়াচাড়া করা যায় না সেভাবে। ওর অ্যান্টেনা পর্যন্ত ঠিক আছে, ওটা নিয়ে বাঙালি অনেক ঘোরাঘুরি খেলেছে বটে। একান্তে, নিজের করে, রেডিওর মতো আঁকড়ে ধরা আর হল কই টিভিকে!

 সকালের হাজার কাজের তাড়ায় খবরের কাগজে চোখ বুলোনোই হয়, পড়া হয় না খুঁটিয়ে। বাড়ি ফিরে বাসি খবরের কাগজ পড়া আরেক শখের ব্যাপার ছিল সে সময়। শুধু সকালের বাসি নয়, আগেরদিনের খবরের কাগজ নিয়ে এসে পড়াও ছিল। পাশের বাড়িতে হয়তো যুগান্তর নেয়, বা বর্তমান, নিজের বাড়ি আনন্দবাজার। পালটাপালটি করে আগেরদিনের কাগজ পড়া, সারাদিনের কাজকম্মো মিটিয়ে, সন্ধে-রাতে, বড় শখের ছিল অনেকের। এরও বিদায় নিশ্চিত করা গেছে। টিভিতে খবর এল, এবং এসে গেল নিউজ চ্যানেল। টিভি নিউজ চ্যানেলে তো সারাদিন খবর, রাতদিন খবর, ঘণ্টায় ঘণ্টায় ব্রেকিং নিউজের রমরমা।

 খবরের কাগজ হারিয়ে যায়নি, যাবেও না। হারিয়ে গেছে প্রিয় খবরের কাটিং জমানো। হারিয়ে গেছে এ বাড়ি ও বাড়ি পালটাপালটি করে কাগজ পড়া। হারিয়ে গেছে তার বাসি স্বাদ-গন্ধ আস্বাদন।

 আগের পর্ব

ছেঁড়া ঘুড়ি রঙিন বল