সুদেষ্ণা মৈত্র

ছবি: সোনার পাহাড়
পরিচালনায়: পরমব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনয়ে: তনুজা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরুণিমা ঘোষ, যীশু সেনগুপ্ত, শ্রীজাত।

এ যেন এক ম্যাজিক পেনসিলের গল্প।যে পেনসিলের গোপন রহস্য জানে প্রতিটি মধ্যবিত্ত বাড়ির  মায়েরা। বাচ্চা ছেলেটি একটি করে ছবি আঁকে খাতায়। আর পরদিন সকালে দেখ ম্যাজিক। যা এঁকেছে তাই হাজির! আড়ালে মা কপালের ঘাম মোছে, ছেলের হাসি দেখবে বলে!

গল্প’টি তনুজা ওরফে উপমা নামে এক মায়ের। যে তার ছেলের বর্তমান বিবাহিত সাম্রাজ্যে অপ্রয়োজনীয়। ছোট্টবেলার খাতায় তৈরি মা-ছেলের যুগলবন্দী স্বপ্নের গল্প চেপেচুপে রেখে দেয় আলমারি’র মাথায়। সেইসব স্পর্শকাতর মুহূর্ত কাউকে ছুঁতে দিতেও চায়না। কিন্তু হঠাৎ বিটলু’র ঝটিকা আগমন ওলোটপালোট করে দেয় সব।উপমা পৌঁছে যায় ছোটবেলার মা-ছেলের জগতে। বিটলুর মধ্যে খুঁজে পায় ছেলের ছোটবেলাকে।

ছবিটি ইগোর বিরোধে ছিন্ন হতে হতে মিলিয়ে দেওয়া বৌমা ও শাশুড়ী’র গল্প’ও বটে।কেউ খারাপ নয়। শুধু দুই-এ-দুই চার হছে না! তবে সবাইকে মেলাতে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ লিড ক্যারেক্টর।

পরমব্রত উপস্থিত ছবির প্রথম দৃশ্য থেকেই। অনাথ আশ্রমের দায়িত্বে থাকা কর্তা’টি স্বভাবতই অনুভূতিপ্রবণ। সেই বিটলু’কে পৌঁছে দেয় এক বৃদ্ধ মায়ের ছেলে-বউ এর ওপর রাগ করে বসে থাকা ঘরে আলো ঢোকাতে। সৌমিত্র এখানে সূত্রধরের ভূমিকায়।স্বল্প সময়ে আলোড়ন ছড়াতে তার জুড়ি মেলা ভার। অরুণিমা ও যীশু স্বামী-স্ত্রী। মায়ের সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপ এর অস্বস্তি খুব বেশী ফোটানোর দায় ছিলোনা পরিচালকের। তাই অভিনয়ের জায়গা কম। শুধু যীশুর প্রতি একবারের প্রবল অভিযোগটুকু ছাড়া। তবে যীশুর শেষের কান্না দর্শককে জোর করে ইমোশনাল করার পদ্ধতি বলে মনে হয়। বিটলু অর্থাৎ ‘শ্রীজাত’ তার এক্সপ্রেশনের দক্ষতায় অনেকের ঘরের নাতি হয়ে উঠতে সক্ষম।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের এর ডিরেকশনে ‘সোনার পাহাড়’ চতুর্থ ছবি। আহামরি মনে রাখার সিনেমা নয়! তবে আগের থেকে তিনি অনেক পরিণত। অনেকটা হৃদয়ের কাছাকাছি।