স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২৪ নভেম্বর দেবেন্দ্রলাল খান রোডে সাহিত্য অকাদেমি সভাঘরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাহিত্য অকাদেমি লিটেরারি ফোরাম বা ‘সাহিত্য মঞ্চ অনুষ্ঠান’। এই সময়ের বাংলা কবিতা ও গল্পকে আরও বেশি করে শ্রোতা ও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বর্তমানে সাহিত্য অকাদেমি প্রায় প্রতি মাসে এমন একটি করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কর্মসূচী গ্রহণ করেছে যাতে ইতোমধ্যেই অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাভাষায় এখন যাঁরা লিখছেন এমন বিভিন্ন দশকের কবি ও সাহিত্যিকেরা।

অনুষ্ঠানে আগ্রহের বিশেষ জায়গাটি ছিল এই যে, এদিন কবিতা ও গল্প পড়লেন আক্ষরিক অর্থেই ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের কবি ও লেখকেরা। উনপঞ্চাশ বছরের দীর্ঘ কবিজীবনের প্রান্তে উপস্থিত ষাটের দশকের বিশিষ্ট কবি অনুরাধা মহাপাত্র এদিন শ্রোতাদের ঋদ্ধ করলেন তাঁর সদ্য লেখা নিরলস ঋজু প্রতিবাদী কবিতাগুলির মাধ্যমে, মিথ ও মাধুর্যের ললিত মেলবন্ধনে মুগ্ধ করলেন শূন্য দশকের কবি পার্থজিৎ চন্দ, মনোযোগ কেড়ে নিলেন প্রথম দশকের তরুণ কবি কস্তুরী সেন তাঁর কবিতার আলোছায়াময় বহুস্তরীয় উপস্থাপনে।

ঝকঝকে নির্মেদ এবং অভিঘাতময় দুটি গল্প পড়লেন বিগতদিনে যুব সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার বিজেতা সাদিক হোসেন ও এ সময়ের আরেক তরুণ গল্পকার অনির্বাণ বসু। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পৌরোহিত্যের দায়িত্বে ছিলেন সাহিত্য অকাদেমি পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তা বিশিষ্ট কবি সুবোধ সরকার, এদিন তাঁর মনোজ্ঞ স্বাগতভাষণে বারে বারেই উঠে আসে এসময়ের বাংলা কবিতা ও গল্প যুগপৎ প্রবীণ ও নবীন কলমে কীভাবে খুঁজে নিচ্ছে নিজের পথ তা আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার কথা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাহিত্য অকাদেমির রিজিওনাল সেক্রেটারি দেবেন্দ্র কুমার দেবেশ, বাংলা সহ অন্যান্য ভাষাতেও আগামী দিনে একই রকম করে এসময়ের লেখালিখিকে সামনে তুলে ধরার যে প্রকল্প সাহিত্য অকাদেমি নিয়েছে, সে বিষয়ে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুষ্ঠানের শেষে একটি মনোযোগী ও আকর্ষণীয় বয়ানে তিনি এদিনের অংশগ্রহণকারী কবি ও গল্পকারদের কবিতা ও গল্প বিষয়ে তুলে ধরেন তাঁর পাঠ অভিজ্ঞতার সারাৎসার। হেমন্তের অকালবর্ষণ উপেক্ষা করে, উৎসবের আবহের মাঝেও এদিন সাহিত্য অকাদেমি অডিটোরিয়াম বহুদূর পূর্ণ করে দিয়েছিলেন আগত সাহিত্যমোদী শ্রোতারা। অনুষ্ঠানের শেষে kolkata24x7-কে তরুণ কবি কস্তুরী সেন বলেন, “একই সন্ধ্যায় বাংলাভাষার ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কবিতা ও গল্পের স্বর তুলে আনার এই যে প্রয়াস, তা অভিনব ও প্রশংসার্হ এবং এর ফলে এদিনের সমগ্র অনুষ্ঠানটি যে পৃথক মাত্রা পেয়েছে এ কথা বলা চলে নিঃসন্দেহে।”