ষষ্ঠী

মেঘলারঙ বিকেল জড়িয়ে

সে নেমে এসেছে রাস্তায়-

দুপুর থেকে নয় নয় করে কতবার

সাজ হল, আর ঘেঁটে গেল, আর

 

তর সয় না;

মেঘেরা চিনল নাকি তাকে,

আর চিনল কি শিশিরফোঁটা?

 

আহা! ওকে দেখুক টিনএজ শহর,

এ কংক্রিটে ও আর কোথায় দেখবে

সদ্য শিউলি ফোটা

Shiuli

 

 

 

সপ্তমী

শাড়ি ভাঁজে আনকোরা আব্দার রেখে

ভেসে আসছে পুজোসংখ্যার মেয়ে-

তাকে প্রথম দেখবে কেউ, তাই

ছিমছাম, ছোট্ট টিপ, হালকা লিপস্টিক

 

সানাই ছুঁলে থিমের সন্ধে

ভিড়ের বনে একলা দুটো গাছ

জানে, প্রথম ছোঁয়ার বিদ্যুৎ অভিসন্ধি

সে বিদ্যুৎ চিনলে ঠিকঠিক

আবার কীসে ডরাও হে শহর!

এখনও বুঝি ফেরাবে না ভুরুসন্ধিতে

তার সরে যাওয়া সন্ধের টিপ

 

অষ্টমী

শ্যাম্পু চুলে আটকাল অঞ্জলী,

যজ্ঞটিকায় এক শরতের ঋণ

 

‘ঠাকুরমশাই, মন্ত্র একটু ধীরে,

 

বুঝতে সুবিধা হবে দর্শনার্থীদের

 

 

আর ওদেরও একটু

কাছাকাছি থাকতে দিন৷’

pujo-3

 

 

 

নবমী

 

ছাড়া পাঞ্জাবীতে জেগে থাকা রাত,

ক্ল্যাচারে আটকেছে ঘড়ি;

এত তড়িঘড়ি, চলে যেতে হয় বুঝি

 

চলে তো যেতেই হবে তাকে,

তার তো ফুরসৎ অল্পই,

তাকে তো ফিরতেই হবে

নইলে সে ফিরবে কেমন করে

 

অল্প বলেই সে খুবসুরৎ

রুমালে মনখারাপ মুছে নাও আজ,

মনে করো, মনে রাখো যুবক শহর

‘..আপসেভি খুবসুরৎ আপকে আন্দাজ..’

prodip

 

 

 

দশমী

 

একা প্রদীপে জেগে আছে

স্মৃতি

তার কোথায় বা ভাসান

 

পুজো শেষ

তবু শিউলিগন্ধে ম’ ম’ করছে ঠাকুরদালান৷

 

সরোজ দরবার