শাশ্বত কর, কলকাতা: “আমি দেখেছি ইদানীং যত পত্র পত্রিকা বেরোয়, তার মধ্যে কিশোর ভারতীতে একটি যত্নের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। এই পত্রিকাটি তার সীমিত সাধ্যের মধ্যে যথেষ্ট ভালোবাসা দিয়ে প্রকাশ করে। এইটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সম্পাদক ও তার পরিবার আমার পরিবারের অংশীভূত হয়ে গেছে। তাদের অভিভাবকত্ব করি। কী করলে ভালো হয় বলি, ভালো হচ্ছে কি না তাও বলি। শিশুদের যে মনোজগৎ সে আমরা সব সময় বুঝতে পারি না। শিশুদের শৈশবেরও বিবর্তন আছে। আমরা ছেলে বেলায় যে রকম ছিলাম, আজকের শহুরে ছেলেরা সেই রকম শৈশব যাপন করে না। সবাইকে খুশি করতে গিয়ে অনেক আয়োজন করতে হয়। আর সে আয়োজন অনেক সময় পত্রিকার পক্ষে ভীষণ ভার হয়ে যায়। সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করে পত্রিকাকে অনেক দূরদর্শীভাবে পরিচালনা করতে হয়। কিশোর ভারতী সে কাজে সফল। শিশু মনের সমস্ত দিক ছুঁয়ে কিশোর ভারতীর অভিযান, অভিগমন এখনও অব্যহত আছে এবং তারপ প্রচেষ্টা আরও সফল হোক এই প্রার্থনা করি!” –কথাগুলো বলছিলেন প্রণম্য সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৪২৫ প্রকাশ উপলক্ষ্যে শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আনন্দ অনুষ্ঠান। ৭ই অক্টোবর। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ছিলেন উদ্বোধক।

সত্যি সত্যিই এক আনন্দ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত সাহিত্য অনুরাগী দর্শকরা। কবির লড়াই, শ্রুতি নাটক থেকে শুরু করে গান বাজনা, কৌতুক আবৃত্তি, রঙ্গ ব্যঙ্গ, ক্যুইজ, সমবেত ছবি আঁকায় একেবারে হই হই রই রই দেদার মজা। অনীশ দেব, হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত, সৈকত মুখোপাধ্যায়, নির্বেদ রায়, শ্রীজাত, অরুণাচল দত্ত চৌধুরী, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য সহ এ সময়ের কিশোর সাহিত্যের প্রায় অধিকাংশ রথী মহারথীরা উপস্থিত। সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় ছিলেন অনুষ্ঠানের মূল কান্ডারী। যোগ্য সঙ্গতে চুমকি চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের কাছ থেকেই জানা গেল অনৈতিক পি.ডি.এফ. অসুরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার পূজোতেই কিশোর ভারতী প্রকাশ করছে তাদের কিন্ডেল এডিশান!

অনুষ্ঠানের অন্যতম পাওনা বলা যায় শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য। সাদা ক্যানভাসে শিল্পীর টান মুহূর্তে ফুটিয়ে তুলল ছবি! মৃণাল শীল, জুরান নাথ সহ অন্যান্য শিল্পীরা একে একে মিলিয়ে দিলেন তাঁদের শিল্প সত্ত্বা সেই ক্যানভাসে। ছবির সাথে মিলে গেল সুর। গিটার বাজিয়ে অনবদ্য সঙ্গীতে সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মাতিয়ে দিচ্ছেন দর্শক শ্রোতাদের। ছবি আর সুরের সে এক মায়াময় যুগল বন্দী!

অরিন্দম গাঙ্গুলি এবং খেয়ালি দস্তিদারের অনবদ্য পরিবেশনায়, সুরজিৎ আর নচিকেতার সুরে জমজমাট এই আসরে কিশোর ভারতী সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের সরস সঙ্গতের সাথে সাথেই সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারু ভাবে সঞ্চালনা করলেন রূপা কর্মকার এবং সপ্তর্ষি চ্যাটার্জী। কিশোর পত্রিকার শারদ সংখ্যা প্রকাশে এমন আনন্দ অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল।