দেবায়ন চৌধুরী

মহালয়া

মহালয়া মানে ভোর
শিউলি কুড়নো ফ্রকের আঁচল তোর!

আমাদের রুগ্ন রেডিও এই দিনটায় সবার মনোযোগ আদায় করে নিত।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত গলাতে মনে হত কিছু বিস্ময় এখনও বাকি, রহস্যটাও!

বাজলো তোমার আলোর বেণু
সকাল বলে দিত মা আসছেন।
পরদিন অঙ্ক পরীক্ষার সিঁড়িভাঙা ধাপগুলো আকাশে ছড়ানো…
মেঘেদের মন, ও মেয়ে তুমি কিছু জানো?

ষষ্ঠী

প্রতিবারের মত এবারেও গম্বুজটা একদিকে হেলে গিয়েছে।
ঠাকুর এসেছে কতক্ষণ…
অস্ত্র অবশ্য আসেনি, পরে আসবে।
ঠাকুরকে এখনও ঠিক ততটা ঠাকুর বলে মনে হচ্ছে না।
পুজো হয়নি যে!

সন্ধে ঘনাচ্ছে। ঢাক বাজলো। আলোলিকা।
তুমি যেখানে যেখানে ছুঁয়েছো, সেখানেই বোধন!

সপ্তমী

সকালের রোদ বলে দেয় আজ…
ক্যারাম পিটিয়ে যাচ্ছি কনফার্মড হচ্ছে না।
ঠাকুরমশাই পুজোর উপকরণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
আর আমি পাচ্ছি না তোমাকে।
তুমি তো ঘুরতে এসেছো, কাকে বলবো কাকে?

দুপুর এখন মাইক বাজাচ্ছে পুজোর গান
তুমি আসছো, ভালোবাসছো, ও সর্বনাম!

অষ্টমী

সকাল সকাল স্নান সেরেই পাঞ্জাবি…
উপোস শুনলেই খিদে পেয়ে যায় তবু
বছরে তো একটা দিন।
কখন অঞ্জলি হবে বুঝতে পারছি না
লাল সাদা ঢাকাই-তে সে এলো
বড্ড অসুর হতে ইচ্ছে করলো।
সারাজীবন শুভদৃষ্টি, অস্ত্রাঘাতে- রক্তপাতে-

ফুলটা পা অব্দি পৌঁছুবে না জানতাম।
কোথায় গেল আমি আর দেখিনি।
কেননা উপোস আর নেই।

জয় মা জয় মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী।

নবমী

নয় নয় করেই নবমী আসে
বিষণ্ণতার খুশি ছায়া ফেলেছে আকাশে।
রোদটা কম, মাইকের আওয়াজটাও অভিমানী
রাত ফুরোলেই ভেসে যাবে, জানি।

আরতি হচ্ছে। ভোগের।
তুমি সেই দূরে দাঁড়িয়ে আছো যেখান থেকে সব দেখা যায়,
কিন্তু অন্য কেউ…

মনে মনে আগুন নিয়ে বলি-
ওগো নবমী নিশি না হৈও অবসান!

দশমী

সকাল থেকেই গভীর আঁধার নেমেছে, জানা…
আজ দশমী, বিষাদ, সানাই…

একে একে নিভিছে দেউটি। ফিরে যাচ্ছে আলো, তাঁবু, চেয়ার…
ঠাকুরের মুখে হাসি নেই।
অস্ত্র নেই কোনও। মুখে পান।
অসুরের পা নিয়ে শিশুর প্রণাম!

তুমিও এসেছো, সিঁদুর ছুঁয়েছে দুই গাল
আমি যে মনকে বলি- সামাল সামাল।

অপেক্ষা করবোই, তুমি আসবে বললে যেই-
সেই তো জেনে যাওয়া ভালোবাসার বিসর্জন নেই!