মধ্যরাতের কবিতা

এখন এখানে মাঝরাতের কালো।
তখন আলো মাখা পিচে ছিল মানুষের পদাঘাত,
সহস্র আঙুল উঠেছিল শহরের আকাশে।
এখন শুধুই জলের শব্দে ভাঙছে নদীর বুক,
তবু সে শান্ত নীরব ঘুমে আচ্ছন্ন।

চিরাচরিত চাঁদ চলেছে ধীর গতিতে,
ওই বুঝি কেও ঘুমহীন চোখে তাকিয়ে আছে।
হয়তো তার উজ্জ্বল দিন ছিল,
হয়তো দুহাত মেলে কিছু চাওয়ার ছিল তার।
সারা রাত শহরের বুকে কান পেতেছে সে–
কোথাও একটু শব্দ ভাসে ভালোবাসার।
মরণের এই প্রান্তে আছে কিছু হিসেব
কিছু প্রশ্ন।
কিন্তু কুয়াশা আচ্ছন্ন শহরে এখন শুধুই হাহাকার।

শীতের হওয়ায় ভিজে গেছে যে ছাই
কিছু আগেও শুকনো ছিল,
একদিন আগুন জ্বেলেছিল সে।
পোড়ামাটির সেই ইমারত এখন টুকরো টুকরো,
মনের ভেতর ছড়িয়ে আছে।
একটি একটি করে সমস্ত আলো নিভে যায়,
সব জানালা বন্ধ হয়।
কণ্ঠ থেমে আসে কিন্তু নদীর বুকে জলের শব্দ
বেজে চলে, যেন
সবই ছিল, সবই আছে এখানে।

 

তোমার জোছনার ঘরে

তোমার জোছনার ঘরে
শুনেছি মায়ারাতি স্বপ্ন পসারী
সে পথ কতদূর?
সেখানে কি হেঁটে যেতে হয় ?
নাকি ঢেউয়ে চেপে?

আমার যে নৌকো ভেঙে গেছে, আমি
কী করে সেখানে যাবো !
শুনেছি সেথায় বাবুই বোনা
নক্ষত্র দেওয়াল আছে,
উঠোনে ধুলোর পরে
খেলা করে ক্ষুদে আবাবিল।
তুমি সেথায় মাঠের ওপর
আঁচল পেতে বসে,
রঙ এঁকে দাও হিজল ফুলে।
আমি সেথায় কেমন করে যাবো?

বসন্ত বাতাস যদি আসে,
দুখানা পাখনা চেয়ে নেব।
শরতের নবীন মেঘ যদি আসে,
সঙ্গে যাবো।
বর্ষায় নদীর বাঁধ যদি ভাঙে,
উতলা নদীর ঢেউয়ে চেপে যাবো।
যদি তুমি হাত ধরে নিয়ে যাও
যাবো ।

শুনেছি তোমার জোছনার ঘরে
মায়ারাতি স্বপ্ন পসারী।
সে পথ কতদূর?

 

কণ্ঠ

কিছু কণ্ঠ উড়ে যায় যেন সকাল বেলার পাখি
কিছু কণ্ঠ ডানা মুড়ে থাকে,
তরল পারদের মতো কিছু উষ্ণতা মাপে।
যারা নক্ষত্রের মতো ফুটে আছে আকাশে,
কখনো দেখেছো, পদচিহ্ন এঁকে গেছে
তোমার হৃদয়ের আয়নায়।
নাকি রাতের ভেতর থেকে অন্ধকার
উঠে আসে,
কালো অন্ধকার থেকে উঠে আসে গ্রাস।
স্তব্ধতা গিলতে গিলতে কামুকেরা
ভোরের মাটির কবর সাজায়
শুদ্ধতার গহীন কোনে লুকিয়ে রাখে ব্যথা।

আমার একটি কণ্ঠ ছিল একদিন,
তোমার শরীরের উষ্ণতায় শব্দ ফুটেছিল ঠোঁটে।
আজ সেই কণ্ঠ মিশে গেছে পৃথিবীর বুকে,
তবুও বাতাসে মর্মর হয়ে রয়ে গেছে,
তারই শব্দে কাঁপছে গাছের পাতা।
তুই বুঝতে চাইলে কান পেতো,
অথবা আকাশ পানে চাও-
নক্ষত্রেরা হয়তো বলছে ‘ভালোবাসি’।