ঘর

ঝরা রডোডেনড্রন দেখতে দেখতে অনেকদূর হেঁটে যাওয়া যায়,
যেমন তোমার কপালে হাত রাখলে ইচ্ছে করে…
এগিয়ে যেতে।
পাহাড়ের উঁচু নীচু খড়ি পথে
মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে
শিল্পীর মনের বাঁক
শব্দ মূর্ত হয় নদীর ধারায় পাথরের আলিঙ্গনে।
শোনো বিদিশা,
এখানে একটা ঘর বাঁধলে কেমন হয়?

কেমন হয় যদি এই মরে যাওয়া বিকেলে
আদিম মানবের মতো
কিংবা স্বপ্নচারী কবির মতো
আমি তুমি উলঙ্গ হই নিজেদের কাছে?
জংলা শ্যাওলা ধরা কাঠ কাটবো আমি
তুমি চাপাবে উনুনে বন মোরগের ঝোল
আমি কাঠের উপর কাঠ সাজাবো
দেওয়াল তুলবো,
যদিও একটা বড়ো জানালা থাকবে ঘরে।
তুমি আসবাব সাজিয়ো
পর্দা টাঙিয়ো – যেটা সরানো যাবে সহজে !
রাতে দূর থেকে ভেসে আসবে ঝিঁঝির ডাক
আরও দূর থেকে মিছিলের শব্দ
তবুও গণতন্ত্র ভয় দেখাবে না…
অন্ধকার সব কিছু গিলতে পারে
আমরা অন্ধকারকে একটা অবয়ব দেই চল।
জ্যোৎস্নার অবয়ব
যাতে তোমার কপালে কালো টিপের মতো
লেগে থাকবে চাঁদ।
এরকম একটা ঘর বাঁধলে সত্যিই কেমন হয়, বিদিশা?

যেখানে সকাল বেলা বারান্দায় কমলা গাছের ছায়ায়
আমি বসে লিখবো আমার মন –
আর তুমি গুন গুন করবে বৃদ্ধ কবির গান –
খেলাঘর বাঁধতে শেখার গান?