অমিতকুমার বিশ্বাস

মেয়েটির গ্রীবায় গভীর কালসিটে দাগ
কপালে, ঠোঁটের কষে রক্ত যেন বিষণ্ণ পলাশ।
স্তনবৃন্তের চারপাশে সিগারেটের দগদগে ক্ষত।
ঢালু পাহাড়ের মতো পিঠজুড়ে তার ডোরা- ডোরা আঁকাবাঁকা পথ।
যে পথ ধরে কোনো এক কামোন্মত্ত হিংস্র পশু
রেখে গেছে ধারালো নখ, শ্বদন্তের চিৎকার।

এই লাশকাটা ঘরের টেবিলে মেয়েটি ঘুমিয়ে এখন।
ওর সিঁথি ধরে এইমাত্র সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল।
স্নেহের মতো কোমল আদুরে একটা মায়া আলো
মেয়েটির সমস্ত মুখে খেলা করছে।

নাভিতে সেলাইয়ের শেষ ফোঁড় দিয়ে স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে থাকি।
মনে হয় মেয়েটি ঘুম ভেঙে এই বলে উঠবে; দাঁড়াও! একটু জল হবে গো।
আমাদের গাঁয়ের পঞ্চানন ঠাকুরের পাতকুয়োর হিম কুয়াশার সরমাখা ঠাণ্ডা জল?