দীপ শেখর


প্রবীণ কোন নিঃশ্বাস তবু তো শব্দহীন হয়…
আরেকটি পা, ব্যাস,আমি নিজেকে বদলে নিলাম,অভিমান,ক্ষত…
কাউকেই আটকাতে চাইনি আমি, যে যত গভীরে নেমেছে,আলো ধরে ঢুলে পড়েছি ঘুমে
হেমন্তের চাদর-ছোঁয়া রাতে শহরতলির পথিক হয়েছ, ভালবাসা?
তবু পথও তো হারায়।তোমার সাথে চলে গেল আমার যতটুকু, তাকে প্রথম সূর্যের রশ্মিটুকু দিয়ে জড়িয়ে রাখা, এর নাম দিয়েছ, অভ্যেস?
আর যেভাবে শিখিয়েছ, চলে যেতে হয়, তার নাম? বৃষ্টিপাত?
ফুরিয়ে গিয়েও যারা রয়ে গেছে শরীরের সাথে? তারা মিথ্যে জেনেছিল মৃত্যু একদিনে আসে।
চিঠি পায়নি এখনো বৃদ্ধ ঈগলের দল, ম্যামথেরা আকাশের দিকে চেয়ে জেনেছিল মেঘ-ভালবাসা।
বৃষ্টির ঝরে যাওয়া দেখে আমি মেঘেদের ভাষা বুঝে নিতে পারি জেনো-
তোমার প্রতিটি আড়ালের ঘরে আমি এখনো খুঁজে নিতে পারি পায়ের ছাপ,জল।
শব্দ, এক একটি বিপন্নতা। প্রতারিত যত শিশু তোমার গর্ভে জন্মেছে এত কোটি বছর
তারা সকলে আমায় পিতার সমান করে চিনেছিল।
বুঝেছিল তারাও, তোমাকে ভালবাসে, পুরুষেরা কেবলই অমরত্ব চেয়েছে…
পাললিক কবিতার কাছে হাত পেতে চেয়েছি শুধুই ব্যর্থতা।জেনো,কাপাস রাত্রির মুখ
যতটা গভীরে ছুঁয়েছি পরস্পরকে, ততটাই না ছোঁয়া ভান করে গেছি।


তোমাকে ছুঁতে চাওয়ার প্রথম পদক্ষেপের নাম বিচ্ছেদ।
তবু এক আদিম সূর্য, মায়ের গর্ভ থেকে উঠে বসেছিল আকাশে,বলেছিল-
পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম খুনীর নাম, অভ্যেস।
তবু সেই মেয়েটি, যে বাজিয়েছিল পিয়ানো,আমার মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগে,যুদ্ধক্ষেত্রে…
পবিত্রতম উচ্চারণে বলেছিলাম তাকে,আদতে ততটাও জনপ্রিয় নয় বেঁচে থাকা
সত্যিকে দুর্গম জেনে বারবার তবু ফিরে গেছি তোমার সত্যিতে
শিশু আমি,জেনেছো যতবার,তুমি ফিরে ফিরে গেছো খেলায়,উঠোনঘাসের প্রশ্রয় পেয়েছ
বুঝিয়েছো সেই লুকোচুরি খেলায়,তোমাতে যাওয়ার একমাত্র পথের নাম,আঘাত।
জেনো, আমার এক নিজস্ব পাগল আছে,বাঁশিখোর
তোমার বুকের কাছে এখনো জেগে উঠে বুঝি,এ শরীর কেবল পাথর ও জল
যতদিন শুধুই খুঁজেছি তোমাকে,প্রতিটি খোঁজার শেষে নিজেকে পেয়েছি
তবু প্রেম নয়,ভালবাসা নয়,পবিত্র ভোরের আজান হৃদয়ের গোপনতম ঘরে প্রবেশের আগে জানিয়েছে
পৃথিবীর শেষতম সীমান্তের নাম সম্পর্ক।