anirban-Bhattacharyaঅনির্বাণ ভট্টাচার্য

 

 

 

বিষাদের মা  

পায়ে গড়াচ্ছে অলক্তরাগ, কপালে

সিঁদুর মোছা আনখ যন্ত্রণা

উথাল পাথাল ব্যথা নিয়ে মরে গেলে

বিষাদের মা, তোমাকে পোড়াব না ।

 

বিষাদের মা, তোমার মেয়েরা কাল

লুঠ হয়ে যাবে, এক কাপড়ে নেমে

শরীরে লুটোবে নিষেধের অঞ্চল

অসতী ওরা, ওরা অলক্ষী মেয়ে ।

 

ছেলেগুলো সেই জন্ম থেকেই মরা

মাছেদের মতো আকাশের দিকে চেয়ে

এলাকী অসুখী নারীহীন পৃথিবীতে

ওরা হেঁটে যায় দুবেলা দুমুঠো খেয়ে ।

 

এত দুঃখ কোথা থেকে পাও, মা?

বিষাদবৃক্ষে কেন জল দাো তুমি?

শোকসন্তাপে ব’সে আছে মানুষেরা

ভালো নেই দেশ, একলা জন্মভূমি ।

 

আমার তোমার সন্তান সন্ততি

কেউ বা তোমার দুখ কুড়ুনি ভাইবোন

জঠরে জমিয়ে কুমোরটুলির কান্না,

বোধনের রাতে ‘আসছে বছর’ গাইব ।

 

সকাল-দুপুর অক্ষর-গ্লানি শরীরে,

গোধূলির পাপে পচনের যন্ত্রণা,

সন্ধে গুটিয়ে চিতায় সাজলে রাত্রি

বিষাদের মা, তোমাকে পোড়াব না?

 

বছর শেষের রাতে

 

এবছরও তুমি কিছু বললে না।

সময় নেই সময় নষ্ট করবার – না’হলে দেখতে

নক্ষত্রে নোঙ্গর ফেলে একদিন ঠিক

হেঁইয়ো বলতো তোমার বাকী কথাগুলো – শুধু আলোকবর্ষ দূর থেকে

ঠাহর করতে পারলে না

কোনটা তোমার মতামত, কোনটা মিডিয়ার।

 

এবছরও তোমার লেখা হয়নি বেশী।

অথচ অক্ষরের মিছিলে ওরা এগিয়ে দিয়েছিল

তোমাকে, শিখিয়েছিল গলা উঁচিয়ে কিভাবে তুলতে হয়

ছান্দিক সোচ্চার ধ্বনি – শুধু

পিস্তল আর পাসবই এহাত ওহাত করতে করতে

হারিয়ে গেলে, স্রেফ হারিয়ে গেলে তুমি।

 

এবছরও ঘরটা গোছালে না ঠিকমতো।

কে বলবে ওটা শেষ দৃশ্য, তুমি তো মঞ্চসজ্জার নামে

ঘুরিয়ে নিলে কম্পাস, স্তালিনের পাশে সরস্বতীর

বাঁধানো ব্যবধানে বেশ লাগলো তোমাকে – কে বলবে

তোমার হাহাকার আসলে ভান, তোমার জ্বর আসলে

চামড়ার আগুন – পরাজয়ের।

 

এবছরও, দ্যাখো, সেই তো পেরোলো।

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মাঠ, ঠিক বারোটায়

তোমাকে আজন্ম ভিখিরি ক’রে পয়সা ছড়ালো রাস্তায়,

ম্যানহোলে – তুমি কুড়োতেই নড়ে উঠল আঙুল,

চাদরে, ওষুধে, তৈরি হল ঘর,

বাইরে প্রতীক্ষমাণ তুমি, আসছে, ও আসছে।