প্রতি প্রতিষ্ঠান

কী আলো তোমাদের কথায় বাসা বেঁধে আছে
কুক্কুট মাংস ইহাতেই প্রসিদ্ধ হয়ে যেতে পারে
যে শোনে, সে শ্রোতা, যেভাবে আমি ও কুকুর
তার ধর্মভাব বেশি তাই কলহ করে না
যে বক্তার অঙ্গভঙ্গি নেই, সে কতখানি বক্তা হল শেষে
যে-দেবতা আরাধ্য, তাকে নগরের পথে
আমি হারিয়ে ফেলেছি
সে-দেবতা কি আমাকে আমারই মতো খুঁজিতেছে—
ভিড়ে, আস্তাকুড়়ে?
প্রচলিত গান শুনে বুঝি বিপ্লবীরা গুপ্তভাবে সভা করে কেন
হে জনের মাধ্যম, হে ছাপার বাক্যবর্ণযতি
থাক, বৃথা এই ‘হে’ বলে ডাকা, পাখা ডাকি, ক্লান্ত হয়েছো
মরুভূমিকে তুমি, তুমিই সমুদ্র বলে ব্যাখ্যা করতে পারো যেহেতু
সংস্থা আর বালিও খেয়েছো অঞ্জলিভরে, পাদপদ্মে বসে

গোমাতৃক মানুষদেওতা

প্রকাণ্ড দেহে যারা বাস করে প্রায়শ মানুষ
দাবি করে বলে চা দেয় সুবেশা রানিমা
বলদেরা ধান খায়, বলদেরা ধান চাষ করে
তাঁদের বেতন নেই, খোরপোষ বিধিবদ্ধভাবে
নক্ষত্রখচিত ওই ভাষা: তাঁরা কথা বলে, মান্য শ্রম দেয়
নগরের প্রতিটি সিন্দুক আরও এক মুনাফাবন্ধনে
শোভিতই করে রাখে তাঁদের আলোকচিত্রে, অমৃতচরণে
উহাদের শয্যা নয়; স্বপ্নেই ঢেলে দিন মূত্র-প্রসাধন
ও মানুষ— প্রায়শ বলদ
দুটি ফুল
ফলের স্বপ্নসহ যেন সেই বয়স্কা মেয়েটির যমজ বাছুর

দুধের পাহাড়ে একদিন

অন্তর্হিত হলাম এই লোকমান্য পেয়ারা বাগানে

যেখানে পোকা ও মাকড় থাকে, অন্তর্ভুক্ত হলাম সেখানে

দয়ার প্রাসাদ আর দয়াময় ধানের মণ্ডপে

আসন্ন শীতের প্রাক্কালে

কাকে যেন দেব আমি সুগৃহিণী,—নাচের পুতুল

নাচের পুতুল যাবে প্রসূতিসদনে

জন্ম দেবে প্রতিটি বাড়ির মতে আরও এক চাঁদ

ইঁদুর এসেছে কিছু, বৃষ্টি হল খুব

যেভাবে শাস্ত্রসম্মতভাবে দস্যু আসে দেশে

শিক্ষক যেভাবে আসে মল-মন্ত্র মুখে

তাকে একটি উপগ্রহ কর দিতে হবে

যে-লোক বাড়িতে নেই, যে-লোক সভাবিমুখীন,

গৃহিণীকে বাৎসল্যে দেখে বলে সন্তান চায়নি

তাকে আমি সানুনয়ে অনুরোধ করি—

যেখানে হারিয়ে গেল সবাই, অন্তর্হিত হল

সন্ধ্যা পতনের আগে সেখানেই অন্তর্গত হয় যেন সে