প্রিন্সেপ ঘাটে

নিভু আঁচে মজে উঠছে সময়
সরোদ শব্দের পায়ে আস্ত সকাল নেমে এল
এখন যুদ্ধে কোনো রক্তপাত নেই
তোমার অস্ত্র অভিমান
আমার তূনীর ভরা রোদরং, নদীর গমন
আমাদের কিছু কথা কুকিজ ও ক্রিম
কিছু কথা অ্যাকোয়ারিয়ামের গোল্ডফিশ
চক্রাকারে ঘুরে মরে গণ্ডির ভেতর
এইভাবে শেষমেশ যতদূর যাওয়া যায়, যাবো
নদী বলে, অভিযোগ শুকনো জঞ্জাল
বয়ে যেতে দিতে হয় তাকে
নরম দুপুর পিঠে লেগে আছে, যেন পৌষের কার্ডিগান
বেড়ে যাচ্ছে ঘাটের বয়স, তোমার, নদীরও
মুহূর্তই আসল নবাব
বয়ার ওপরে বসা একলা গায়ে-হলুদ পাখি
মুগ্ধ ছায়ার বনে তাকে রেখে দিতে ইচ্ছে করে

শতাব্দীব্যাপী অভিমানের পর

শুয়ে আছ, যেন এক পিপাসার্ত পাথরের ঘাট
রোমে রোমে বিস্ফোরণ হয়ে যাবে, চোরা দরজায়
যদি এসে পড়ে নদী, জল জুড়ে বিদ্যুৎ চমকায়

অনাবাদী পড়ে আছ এতদিন, প্রদাহবিধুর
কেউ কি ডাকেনি এসে, অকূলে ঘণ্টাঘর খুলে
কেউ কি দোলায়নি সোনার লণ্ঠন

কে বলে পুরুষ তত পাঠযোগ্য নয়!
আমার নিয়ত পাঠে প্রতিটি অক্ষর
নদীগর্ভ হয়ে ওঠে,অফুরান হয়

তালুতে ভৌমদোষ মুছে ফেলা হয়নি আমার
ক্যালেন্ডার খুলে তাই উড়িয়ে দিই বিচ্ছেদের মাস
জোনাকির মতো তারা উড়ে যায়
ব্যথা জ্বলে, আলো হয় গুহা অভিমুখ

সিল্যুয়েটে কস্তুরীর রং
জুঁইগন্ধে ভরে থাকে আশ্রয়ের বন
শুঁড়িপথে পড়ে থাকে আমাদের মগ্ন পোশাক