হেমন্ত কে…

১.
বুকের মাঝে যে জলাশয় আছে তা শুকিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত–- কোনও স্রোত নেই তাতে আর!
হৃদয়ের পাশে একটা ছাতিম গাছ যত্ন করে রোপণ করা হয়েছিল তাতে ঘুণপোকা বাসা বেঁধেছে;
এখন আর কোনও অভিযোগ অবশিষ্ট নেই। নোনাধরা দেওয়ালের মতন ক্ষয় সমস্ত শরীরকে ধীরে ধীরে গিলে ফেলছে…
অসহায়তা তীব্র হয়ে গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে সেই মুহূর্তে অথচ একবিন্দুও জল চোখের কোণায় থাকে না;
শুধু বুঝে নিতে হয় নিজের আর কাছের সম্পর্কের মধ্যে একটা সাঁকো আছে যা পেরিয়ে ছাতিমের তীব্র গন্ধও পারাপার করতে পারে না!

২.
শেষকৃত্য সেরে ঘরে ফিরে বুঝলাম আসলে শেষ বলে তেমন কিছু হয় না!
সমস্ত পথ শুধু মনে পড়ে নামতা শেখার দিন; মনে পড়ে শিখেছিলাম শুধু ‘ভালোবাসা’ থেকে যায় বাকি সবই তো চলে যাবে-– আমরা জীবনে সব সঞ্চয় করতে শিখে যাই শুধু হারিয়ে ফেলি আয়ু।
বুকের মাঝে গাঢ় রঙের এক শৈশব চিৎকার করে আবার ফিরে যেতে চাই কেবল…
অথচ আমরা আর কথা বলি না এখন-–
হিমেল রাতে চিলেকোঠায় যাই না, গান শুনি না …
শুধু বয়স বেড়ে চলে – ফিরে আসে না আর চেনা কোনো সময়ের ফেরিওয়ালা!