মানিক সাহা

শিয়ালদার সস্তা হোটেল

কলকাতায় গান বললেই ডেকার্স লেন
কোনদিনও যাইনি যদিও
বর্ষাকালের শহর বললে স্বর্ণচাঁপা, পিনাকী ঠাকুর
ঠিক যেমন শীতকাল বললেই আমার ভাস্করের কথা মনে পড়ে

হয়তো ভোরবেলা পিঠে আলতামাখানো ভেড়ার দল রাস্তা পার হবে
ফাঁকা এম জি রোড দিয়ে হুশ করে বেড়িয়ে যাবে হলুদ ট্যাক্সি
টানা রিক্সা টুং-টুং শব্দ করে হেঁটে যাবে
পাখি ডাকবে – ওদের নাম না-জানাই থাক,
কেউ হয়তো এফ এম চালাবে, কাছেই,
ভোরের ফাঁকা ট্রাম ঢংঢং করে চলতে থাকবে ভোরের লাইনে

এই সবকিছুই মায়াবী মনে হয়

মনে হয় কলকাতার এইসব দেখার জন্য
শিয়ালদার কোন সস্তা হোটেলে একটা রাত কাটিয়ে দিই!

শিয়ালদার সস্তা হোটেল আমাকে
একটা মায়াবী ভোর উপহার দেবে।

আমাকে আর কেউ চিঠি পাঠিয়ো না

আমাকে আর কেউ চিঠি পাঠিয়ো না
বাঘের চামড়ায় বাঁধানো খাতা নিয়ে বসে আছি
ভূতগ্রস্তের মতো আমার চুল হাওয়ায় উড়ছে
কল্পিত নায়িকাদের একজন ফিনফিনে পোশাক পরে শাসন করছে
মধ্যরাতের উন্মাদনাগুলি
নিখাঁদ বৃষ্টির শব্দে আমার ঘুম ভিজে যাচ্ছে, চুল ভিজে যাচ্ছে

অথচ এসব লেখার কোন মানে নেই

আমি অনেকগুলি না-পড়া বই নামিয়ে এনেছি
অর্জুন গাছের ছাল দিয়ে তাদের বেঁধে রেখেছিলাম এতদিন
এইসব বই কোন নিকট ঈশ্বরীর স্পর্শ লাভ করেনি
এইগুলি আমার শমীবৃক্ষে লুকিয়ে রাখা দোর্দন্ড আয়ূধ

আমাকে আর কেউ চিঠি পাঠিয়ো না
বাঘের চামড়ায় মোড়া খাতাটিতে অলৌকিক জন্মের ইতিহাস লিখছি
বাইরে, জানলার গ্রিলের ওপারে, তাকিয়ে দেখছি
আমার আয়ু বুদবুদের মতো নির্বিকল্প হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে।