অ্যালবার্ট অশোক

মানবাধিকারের প্রশ্নে মেয়েদের নানা দাবি দাওয়া সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে প্রায় শতাব্দী জুড়ে; তুলনামূলক একজন পুরুষের /পুরুষ জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নারীদের সুবিধা তৈরি মূল্য, সকল অসুবিধা। ফলে পুরুষজাতির মনে নানা ক্ষোভ সঞ্চার হচ্ছে, পুঞ্জিত হচ্ছে। এবং এই ক্ষোভ প্রকাশের ছায়া পরোক্ষে সমাজকে করছে কলুষিত। অপরাধ প্রবণ। নারীজাতির প্রতি হিংসাও বিদ্বেষ। এটা অত্যান্ত স্বাভাবিক ঘটনা, আপনি যদি দুজনের মধ্যে একজন যে অধিক যোগ্য তাকে তার মূল্য না দিয়ে একজন অযোগ্যকে কোনও অধিক মূল্য দেখান, তাহলে যোগ্য ব্যক্তির ক্ষোভ ও হিংসা অযোগ্য ব্যক্তির উপর পড়বে ও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে কোননা কোনও ভাবে।

পুরুষের মানবাধিকার মানে নারীদের মতন সুযোগ খোঁজা নয়, নারীদের উপর আক্রমণ নয়। পুরুষের মানবাধিকার মানে, পরিবারে, সমাজে, ও রাষ্ট্রে পুরুষের দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক ভূমিকায় পুরুষের চলার সুরক্ষা। লিঙ্গবৈষম্যহীন মানবিক অধিকার। সংরক্ষণহীন সমাজে তার স্থান।

মহিলাদের অধিকার সুরক্ষা দাবীতে ১৮৭২ সাল থেকে ফ্রান্সে ও নেদার ল্যান্ডে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯১২ তে ভোট দানের অধিকারে প্রকাশ্যে তারা মিছিল করে নিউইয়র্কে। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ মহিলারা ২য় শ্রেণির নাগরিক মর্যাদা থেকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধি ও মেধায় (political, intellectual, cultural) প্রথম শ্রেণির দাবী করে পশ্চিমের শিল্পাঞ্চলে দেশগুলিতে আন্দোলন শুরু করেছিল। এ ছিল দ্বিতীয় দফার বা সেকেন্ড ওয়েব নারীবাদী আন্দোলন (The women’s liberation movement (WLM)। মহিলাদের স্বাধীনতার আন্দোলন। এই আন্দোলন সারা পৃথিবীতে প্রভাব ফেলেছিল।

তারা পুরুষের মত সকল বিষয়ে সমান অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ( economic, psychological, and social freedom) চাইল। এই সময় থেকেই লক্ষ্য করা গেল, মহিলারা পুরুষের মত সব কাজে যেতে চায় না। তারা নির্বাচিত কতগুলি কাজে পুরুষের পাশে থাকতে চাইল। যে সকল কাজ জীবনের ঝুঁকি সেই সব ক্ষেত্রে তারা থাকতে চাইল না। এখান থেকেই পুরুষের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু। পুরুষের মনে হল মহিলারা পুরুষকে প্রতারণা করছে, পুরুষের সঙ্গে কাজে সমতুল্য নয়, অথচ সমতুল্যতার দাবি করছে। ফলে সমাজ দু’ভাগ হয়ে গেল ১৯৭০ সালে, একটা ভাগ নারীবাদকে প্রশ্রয় দিল, অন্যটা নারীবাদের বিরুদ্ধে চলে গেল।

স্বাভাবিকভাবে কোন একটা গোষ্ঠিতে যদি কিছু সংখ্যক জোট বেঁধে আলাদা বিশেষ সুযোগ সংরক্ষণের দাবী তুলে, তাহলে গোষ্টিতে দুটো ভাগ হয়ে যায়। শুরু হয় শত্রুতা। নারীবাদ সারা বিশ্বে পুরুষের শত্রুতা শুরু করে দিয়েছে।

দেখা গেল, মহিলারা তাদের প্রচার ও একপেশে দাবি দাওয়া নিয়ে পুরুষের চেয়ে বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এটার মানে তারা কোথাও পুরুষের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে পুরুষকে বঞ্চিত করে। মহিলারা আইনকে তাদের দিকে একপক্ষ বিচার বানাতে পেরেছে। তারা সমাজকে বোঝাতে পেরেছে তারা যা বলে তাই বিশ্বাস যোগ্য, পুরুষের কথা অবিশ্বাস্য। তার তাদের সুবিধা সমাজে তৈরি করার কমিশন তৈরি করতে পেরেছে, এবং কার্যত পুরুষকে বাধা দিয়ে চলছে পুরুষ কমিশন তৈরি করার।

পৃথিবীর অধিকাংশ পরিবারের রোজগারের কর্তা পুরুষ, নিয়ন্ত্রক পুরুষ, অথচ পুরুষকে মহিলার দ্বারা অপমানিত অসম্মানিত ও লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। দৈহিকভাবে পুরুষ মহিলাদের চেয়ে শক্তিশালী, সে যত ক্ষিপ্রতায় কাজ করে, যত বেশি করে, যত শক্তি ব্যয় করে ততটা মহিলা পারে না। আমাদের সমাজ, বৃহত্তর পৃথিবীর সমাজ এখনও বোতাম টিপে কম্পিউটারে সমস্ত কাজ করে না। সেখানে শারিরীক শক্তি অধিক প্রয়োজন। মহিলারা নারীবাদী তকমা দিয়ে ভিক্টিম সেজে পুরুষের সমান অধিকার চাইছে, কোথাও কোথাও তারা পুরুষের চেয়েও বেশি চাইছে। স্বাভাবিক কারণে পুরুষ তার মানবাধিকারের সুরক্ষা চাইছে।

একজন মহিলার যৌন কামনা বাসনা ৫০ বছরে ফুরিয়ে যায়, প্রাকৃতিক নিয়মে। পুরুষের বীর্যক্ষরণের ক্ষমতা, নারীর সাথে সহবাসের ক্ষমতা ৭০ বছরেরও অধিক কাল। ফলে বিবাহিত পুরুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে যখন সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস পায় না। স্বামী পুরুষটিকে তার কামনা বাসনা ত্যাগ করে ব্রহ্মচারী হয়ে থাকতে সমাজ ও মহিলারা বাধ্য করে। মহিলাদের অক্ষমতার কারণে একজন পুরুষ তার কামনা বাসনা কেন ত্যাগ করবে?

তাহলে পুরুষের কামনা বাসনার মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা কোথায় গেল? যুদ্ধে, শ্মাশানে, দমকল বাহিনীতে, নর্দমা- ম্যানহোলে মহিলা কাজ করেনা। বড় বড় গোডাউনে খালাসীর মত পরিশ্রম মেয়েরা করে না। পৃথিবীর বড় বড় কর্পোরেট হাউস মেয়েরা সৃষ্টি করেনি। পৃথিবীর যত বড় বড় নির্মাণ তা মেয়েরা করেনি। মেয়েরা সন্তান লালন, ও গৃহসেবা ছাড়া কোন উল্লেখযোগ্য অবদান বৃহত্তর ক্ষেত্রে করেনি। এমনকি তারা ঘরের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে চায় না। ইদানীং কালে, দায়ে পড়ে , চাকুরিরতা হবার সুযোগে শহরে দু একটা দেখা গেলেও বৃহত্তর জনসংখ্যায় শতাংশে কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না। উলটো তারা পুরুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে শায়েস্তা করে। এগুলি পুরুষজাতির প্রতি ক্রমশঃ ক্ষোভ পুঞ্জিত করছে।

পুরুষের অধিকার এখন ৩ ভাগে বিভক্ত ১) Genuine equal rights groups, ২) Anti-female groups, ৩) MGTOW (men going their own way)।

পুরুষের আত্মহত্যার হার বিয়ের পর, মানে মহিলার সাথে তার জীবন শুরুহলে দ্বিগুনের বেশী হয়ে যায়। একটা পরিসংখ্যনে টাইমস অব ইন্ডিয়া দেখিয়েছে,মহিলা ২৮ শতাংশ্র উলটো দিকে পুরুষ ৬০ শতাংশ। আত্মহত্যার নিরিখে মোট মহিলার ৪২ জনের উলটো দিকে ৯০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করে। ভারতে প্রতি ৭ মিনিটে একজন পুরুষ মারা যায়। বিবিসির একটা প্রতিবেদনে বলেছে ৪৫ এর আগে পুরুষ বেশি মরে।

এবং অধিকাংশই পরিবারের তার স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তির কারণে। ভারতে অনেকগুলি আইনী ও স্বাচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি হয়েছে, যেমন অমিত দেশপান্ডের বাস্তব ফাউন্ডেশন ( Amit Deshpande, Founder-President, Vaastav Foundation, Men’s Rights and Gender Equality, help line 0888 2498 498 Mumbai.) তারা পুরুষের মানবাধিকার গুলি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মূলতঃ ভারতে মিথ্যা রেপ কেস, যৌতুক, বিচ্ছেদ, যৌনহয়রানির নানা দিক সহ পারিবারিক বিবাদ নিয়ে মহিলাদের সাথে পুরুষের বিবাদ ও শত্রুতার আইনী সুরক্ষা।

‘হৃদয়’ নামে আরেকটি পুরুষের আইনি সংগঠন আছে, অমর্ত্য তালুকদার একজন ব্লগার ও পুরুষের সুরক্ষার একজন হৃদয়ের সদস্য। (Talukdar is an award-winning blogger. He won The Times of India award for the most engaging blog at The Apeejay Kolkata Literature Festival. A men’s rights activist, his blog advocates altering “lopsided” laws on alimony, dowry and marriage) তারা পুরুষের আইনি জায়গাগুলি সহ নানা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরুষের সুরক্ষার জন্য ৫টি বিষয় অত্যন্ত জরুরি 1. Mental health 2. Men, caste and community, 3. Men and sexuality, 4. Men and sexual abuse, 5. Men and violence

এছাড়া, যে বিষয়গুলি উঠে এসেছেঃ ১।পুরুষের স্বাধীনতা লিঙ্গ বৈষম্য থেকে। ২। পরিবারের একমাত্র রোজগার করার দায়িত্ব পুরুষের উপর থেকে সরানো। ৩। পুরুষের আবেগকে মানুষের মত দুঃখ ও সুখ এর প্রকাশ বলে গ্রহন ( বলা হয় পুরুষ মানুষকে কান্না কাপুরুষের মত), ৪। পুরুষের পুরুষত্ব যেকোন কিছুর মোকাবিলা করার জন্য সুরক্ষা ৫। বিবাহের যৌতুক না নিলেও বিচ্ছেদের সময় খরপোষ দাবি করে বৈষম্য থেকে মুক্তি, ৬।সন্তানের কাস্টডি ইত্যাদি।

পুরুষরা বিশ্বাস করে না, তাদের মা তাদের খুন করবে না, বা তাদের সাথে বাজে ব্যবহার করবে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা আছে মহিলারা প্রেমে পড়ে অনেক সময় তাদের সন্তানদের খুন করে লাশ লুকিয়ে ফেলে।

১৯৭০ সালের পর পুরুষদের অধিকার রক্ষার দাবীর প্রায় ৫০ বছরে এসেছে। এর মধ্যে নারীবাদী চিন্তা ধারণার ভুল ভাঙ্গতে পেরেছে অনেকটাই। আজ ভারতীয় আদালত লিঙ্গ বৈষম্যহীন বিচার ব্যবস্থা করতে চলছে। এটা পুরুষের অধিকার সুরক্ষার একটা বড় জয়।