রাত তখন ১২টা। পদার্থবিজ্ঞান পড়ছিল আবরার। কৌণিক গতিসূত্র পড়তে গিয়ে আটকে গেল অধ্যাবসয়। বাগে আনতে না পারছে না সূত্র, যেন কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। তখন মনে পড়ল এক শিক্ষকের কথা। তিনি বিজ্ঞানের সূত্রগুলো মুখস্ত নয়, বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে আত্মস্থ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কৌণিক সূত্রটি আয়ত্তে আনার এখন সেটিই তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে মেলাতে গিয়ে দেখল, সে ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকলে কৌণিক সূত্র ১৮০ ডিগ্রিতে অবস্থা করছে। না, কিছুতেই বাগে আসছে না জটিল এই সূত্র।

মাহফুজ সাদি

এমন সময় হঠাৎ করেই তার মার্কন মডেলের বন্ধু (বন্ধু একই সঙ্গে শত্রুও বটে) অনিকের ফোন। ‘আরে বন্ধু কেমন আছো, কী করছো?’ কথা না বাড়িয়ে আবরারের জবাব, ভাল না– কৌণিক সূত্র ঢুকছে না মাথায়। অনীক বলল, আমি যখন তোর কৌণিক বন্ধু, তখন তো সূত্রটি বুঝতে না পারার কোনো কারণ থাকতে পারে না, তাই না? আমাকে তো সব সময় এমন বন্ধু বলেই জেনে আসছিস। অনিকের এমন তীর্যক কথায় বুদ্ধি খোলে আবরারের– আরে তাই তো!

এবার সে কৌণিক গতির সূত্রটা পড়ল আরেকবার। রৈখিক দূরত্ব আর সরণ এক নয়। তার মানে, অনিক ও তরিকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব কৌণিক। যেমন– একটা বৃত্তের (সম্পর্ক) উপর তিনটা বিন্দু (বন্ধুত্বের তিন স্তম্ভ- বিশ্বাস, পারস্পপরিক সম্মান ও শেয়ারিং) A, B, C নিলে যদি একটি কণা (বন্ধুত্বের ক্ষেত্র) A থেকে B হয়ে C তে যায় তাহলে অতিক্রান্ত দূরত্ব (সম্পর্কের গভীরতা) ABC আর সরণ (ঘনিষ্টতার অবস্থা) হচ্ছে AC। এ তো দেখছি মিলেই গেল- ইউরেকা, ইউরেকা…