দীপ শেখর

চোদ্দ

ঘুম থেকে উঠে হোটেলের আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে অমু বোঝে মাথাটা সামান্য টনটন করছে ব্যথায়। আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখে চোখের ভেতরটা বেশ লাল, ঠান্ডা লেগে কেমন ফুলে ফুলে গেছে সমস্ত মুখটা। বেশ কিছুক্ষণ ভুলে থাকার পর নিজের চেতনার কাছে ফিরতে ফিরতে অমিয়র মনে পড়ে গেল কালকের রাতের ঘটনাগুলো। এতক্ষণ সে ব্যাপারটা খেয়াল করেনি যে বুরাতিনো ঘরে নেই।কোথায় গেলো বুরাতিনো? কাল রাতের ওই সমস্ত ঘটনার পর তো কিছুই মনে নেই অমুর। কে ওকে হোটেলে নিয়ে এলো, কখনই বা এলো এসব কিছুই না। বুরাতিনো কি তাকে এখানে রেখে বেরিয়েছে? চোখ মুখ ধুয়ে ঘরের বাইরে এসে একটু এদিক ওদিক পায়চারি করে কাল রাতের ঘটনাগুলো থেকে বেরিয়ে একটু স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হতে চায় অমু। হোটেলের মালিকের সঙ্গে দেখা হলে স্মিত হাসি হেসে বলেন– গুড মর্নিং!

সকাল এগারোটায় গুড মর্নিং বলতে অনভ্যস্ত অমুর জিভ সামান্য জড়তা এবং সন্দেহ নিয়েই উচ্চারণ করে-গুড মর্নিং। হোটেল মালিককে কি বুরাতিনো সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করা উচিৎ হবে? না, একেবারেই না। বুরাতিনোর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া এখন কোন উপায় নেই।

অনেকক্ষণ ধরে জলের ঝাঁঝরির নীচে কাটানোর পরও কিছুতেই কাল রাতের ঘটনাগুলো মন থেকে তাড়াতে পারে না অমু।গোটাটা একটা দুঃস্বপ্নের মতো তার মনের মধ্যে লেগে থাকে অথচ পরিবেশ এত মায়াময় ছিল যে তাকে দুঃস্বপ্ন বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না একেবারেই। কিন্তু এসবের মানে কী? কেন তার সঙ্গেই এসমস্ত ঘটে যাচ্ছে? বুরাতিনো জানে সবটাই হয়ত কিন্তু ওর দেখা না পাওয়া অবধি তো কিছুই জানার উপায় নেই।আচমকা একটা স্মৃতির কথা মনে হওয়াতে তাড়াতাড়ি ফোনটা খুঁজে নিয়ে ও ফোন করে আনিকে। অনেকক্ষণ বেজে যাওয়ার পর ফোন ধরে আনি।

কেমন আছো অমু?

আনির কথায় সবসময় এক অদ্ভুত যত্ন ফুটে ওঠে। যেন কেউ পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কথা বলছে। ফলে কথাটা যে ফোন থেকে আসছে তা একবারো মনে হয় না, বরং চোখ বুজে থাকলে মনে হয় খুব কাছে বসে থেকে আনি তার মায়াময় গলায় যেন কোন বিষাদসিন্ধু লুপ্তপ্রায় গান গেয়ে চলেছে।

আনিকে কিছুই জিজ্ঞেস করা হয় না। কী বা জিজ্ঞেস করতে পারত অমু। কাল রাতের ঘটনাগুলো যতবার মনে আসছে ততবার নিজের প্রতিই একটা অসম্ভব অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে ওর। শাদা পাঞ্জাবিটা গলিয়ে মাথায় একটা ওড়না পাগড়ির মতো বেঁধে অমু হোটেল থেকে বেড়িয়ে আসে। হাঁটতে হাঁটতে গোয়ালপাড়ার রাস্তা থেকে বাঁদিকে একটা বাঁক নিয়ে নেমে যায় তারপর সোনাঝুরি পল্লীর পেছন দিক দিয়ে উঠে আসে সেই জায়গায় যেখানে গতকালের সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল।

চারিদিকে ঘুরে ঘুরে কী যে হাতরে হাতরে খোঁজে অমু তা নিজেও বুঝতে পারে না। এইখানে ঠিক এইখানে তো। না এমন জায়গায় না হতে পারে। গোটা খোয়াই একরকম লাগে,কিছুই ঠিক ঠাওর করা যায় না। ক্লান্ত হতাশ অমু বসে পড়ে বনের পুকুর ডাঙার কাছাকাছি। ক্যানেলে জল অনেকটা বেশি হয়ে গেছে বলে জল ছাপিয়ে চলে এসছে ছোট ছোট নালার মাধ্যমে। এমন একটা নালার স্বচ্ছ স্রোতে পা ডুবিয়ে বসে থাকে অমু।মাথার উপর প্রবল সূর্য। আশেপাশের যে দিকে তাকানো যায় মরীচিকা লাগে। নিজেকে কোনক্রমে তুলে নিয়ে এগিয়ে চলে হাটের দিকে। শকুন্তলা রিসোর্ট পার করে ডানপাশের যে রাস্তাটা চলে গিয়েছে সেখান থেকে ক্ষেতের জমে পার করে পেছনের পুকুরের ধারে গিয়ে মাটিতে নিজের শরীর এলিয়ে দেয়, শাদা পাঞ্জাবিকে যথাসম্ভব অবহেলা করে।উত্তরের গাছপালাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অমু ভাবে কতদিন অরণ্যের কাছে যাওয়া হয় না। গাছেদের মাঝে কতদিন নিজের আশ্রয়ের খোজ করতে যাওয়া হয় না, কতদিন তাদের জিজ্ঞাসা করতে যাওয়া হয়না কে সে? কীসের জন্য এত অস্থির লাগে সবসময়? কোন জগতের সন্ধান সে পেতে চায়?

কোথায় পাবে তার খোঁজ?’

পনেরো

বিকেলবেলা হোটেলে ঢোকার মুখে কেয়ারটেকার এগিয়ে আসে অমুর দিকে
-আপনার সাথে দিদিমণির কথা হয়েছে ?
কোন দিদিমণি?

ফর্সা করে ভারী চেহারার এক দিদিমণি। উনি তো আপনার খোঁজ করতে এলেন হোটেলে। জিজ্ঞাসা করলেন অমিয় চক্রবর্তী এখানেই উঠেছেন কিনা? আমি বললাম হ্যাঁ, তবে সকালে বেড়িয়ে গেছেন। উনি কিছুক্ষণ চুপচাপ কিছু একটা ভাবলেন তারপর বললেন যে এলে বলতে যে আজ সন্ধ্যে সাতটার সময় সুবর্ণরেখার সামনে দেখা করতে।

কে দেখা করতে এলো? কাউকেই তো এসে তেমন জানায়নি অমু। যাদের জানানো যেতে পারতো তারা তো হোটেলে এসে খোঁজ করবে না বরং দেখা করতে এলে ফোন করবে।চেহারার যে বর্ণনা পাওয়া গেলো তাতে করে…

না,কিছুই স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না।হাতে আরো এক ঘণ্টা আছে। গিয়েই দেখা যাক। ঘরে ঢুকে দিনের দ্বিতীয়বার স্নান করতে করতেও অমু মন থেকে চিন্তাটা সরিয়ে আনতে পারে না। এই এক রোগ ওর। যখন যেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা শুরু করে তখন কোনভাবেই সেটা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে না। এমন দুশ্চিন্তাযুক্ত অপেক্ষার সময় এক ঘণ্টা কি পনেরো মিনিটও একযুগের সমান মনে হয়। নিজেকে ঘরে বন্দি করে রাখা এই সময়ে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। হোটেল থেকে বেরিয়ে অমু ক্যানেল পার করে সুভাষপল্লীর ভেতরের রাস্তা ধরে। এখান দিয়ে হেঁটে গেলে অনেকটা সময় কাটানো যাবে। হাতে আরো মিনিট চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ আছে। ভেতর দিয়ে রতনপল্লীর পেছন দিয়ে উঠে বাজারের ভেতর দিয়ে চলে আসবে সুবর্ণরেখায়। শরীরের ভেতর একটা অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছে। উত্তেজনায় দ্রুত পা চলার পরিবর্তে কেমন অবশ হয়ে যাচ্ছে পা। কে হতে পারে? কেই বা দেখা করতে আসতে পারে?

অন্য সময় হলে এতটা হয়ত উত্তেজনা হত না কিন্তু গতকাল থেকে যেসমস্ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে অমুর জীবনে এখন কোনকিছু হওয়া অসম্ভব নয়। হাঁটতে হাঁটতে একবার অমু ভাবল আনিকে একবার ফোন করবে কিনা? তারপর নানারকম যুক্তিতে নিজেকেই পরাস্ত করে অবশেষে ফোন ঢুকিয়ে রাখলো পকেটে।

ষোলো

সাতটা বাইশের মাথায় অমুর উত্তেজনা ও ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। এরপরেও মানুষ কিছুক্ষণ থাকে।কেউ আসেনি। তবে কি অমু শুনতে কিছু ভুল করেছিল? সুবর্ণরেখা, ঠিক সুবর্ণরেখাই তো বলেছিল কেয়ারটেকার। এমন অবস্থায় গোটা শরীরকেও অবিশ্বাস হয়। না ভুল নেই। সুবর্ণরেখার সামনে সাতটাই বলেছিল। ত্রিশ পেরিয়ে গেলে অমু বইয়ের দোকানের ভেতর ঢুকে যায়। এখানে এলে প্রতিবার একটা না একটা নতুন বই কিনে নিয়ে যায়। অমুর প্রথম কবিতার বইও পাওয়া যায় এই দোকানে। নতুন কিছুই চোখে পড়ছে না, নাকি তেমন ভাবে খোঁজার মন নেই অমুর? অসম্ভব একটা বিরক্তি কেমন ভর করে আছে ওর মধ্যে, দুশ্চিন্তা। আজ সারাদিন বুরাতিনোর কোন খোঁজ নেই। কাল রাতের ওই ঘটনার পর থেকে কোথায় গেল, কবে আসবে, অমু কি চলে যাবে কাল বাড়ি এসব কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। এমন সময় পায়ের একটা ভারী শব্দে অমুর চোখ গেলো দরজার দিকে। এমন কিছু মুখ আছে যা বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে তবে তার চেয়েও ভয়ংকর এমন কিছু চোখ যাতে চোখ পড়লে গোটা শরীরটা ভস্ম হয়ে যাওয়ার এক প্রবল ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। এমন চোখ বহুকাল অমু দেখেনি। যতক্ষণ সেই চোখের উপর চোখ ছিল ওর তার পরের যে কয়েক সেকন্ড অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে তাতে অমু আবিস্কার করে যে এই মেয়েটির সঙ্গে কেয়ারটেকারের বর্ণিত মেয়েটির এক সাদৃশ্য আছে। তবে কি এ সেই যার আসার কথা ছিল? কিন্তু দোকানে ঢুকে তো অমুকে চিনতেও পারলো না মেয়েটি। বরং কোন একটা বইয়ের খোঁজ করতে এসে সেটি না পেয়ে নিরাশ হয়ে বেরিয়ে গেলো।

কী করবে কী করবে ভাবতে ভাবতে অমুও বেরিয়ে পড়লো দোকান থেকে। কোন দিকে গেলো? কোন দিকে গেলো করতে করতে অমু বাঁদিকের পথ ধরে হাঁটতে থাকে। কিছুক্ষণ দ্রুত হাঁটার পর দেখে সামনে ওই মেয়েটি ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। যেন তারই পিছু পিছু আসার অপেক্ষা করছে। অমু খানিক কমিয়ে দিল হাঁটার বেগ, তবে এখনো তা মেয়েটির থেকে দ্রুত।

অনেকটা কাছাকাছি চলে আসার পর মেয়েটি হঠাৎ পেছনে ঘুরে অমুকে দেখতে পেয়ে খুব স্বাভাবিক স্বরেই জিজ্ঞেস করলো-

কিছু বলবেন?

অমু খানিক হতভম্ব হয়ে তোতলায়। তারপর বলে-

আপনি কী আজ আমার খোঁজে হোটেলে গেছিলেন? মানে আমি অমিয় চক্রবর্তী। কেয়ারটেকার বলল একজন দেখা করতে এসেছিল, সাতটায় সুবর্ণরেখার সামনে দেখা করতে বলেছে। আমি অপেক্ষা করে করে ক্লান্ত হয়ে বইয়ের দোকানে ঢুকে এসেছিলাম, আপনাকে দেখে ভাবলাম যে আপনি হয়ত আমাকে না দেখতে পেয়ে…

পুরো কথাটা বেশ জড়িয়ে জড়িয়ে বলল অমু। মেয়েটি পুরো কথাটা শান্ত হয়ে শোনার পর বলল-

আপনি হয়ত ভুল করছেন। আমি অমিয় চক্রবর্তী বলে কাউকে চিনি না। আমি একটি বইয়ের খোঁজ করতে গেছিলাম মাত্র।

এতক্ষণের সমস্ত উত্তেজনার সমাপ্তির পর অমু বুঝতে পারে বিরাট বড় একটা ভুল হয়ে গেছে।নিজস্ব উত্তেজনায় এই প্রায় রাত আটটার শান্তিনিকেতনে সে একজন রীতিমত সুন্দরী মেয়ের পেছন পেছন এতটা এসেছে।প্রশ্নের পরিবর্তে উত্তর তার কাছে যতটা সত্যি মেয়েটির কাছে তো ততটা নয়। যদি ভুল কিছু ভাবে? অথচ পুরোটা বুঝিয়ে বলার উপায় নেই। অমু কি নিজেও পুরোটা ঠিকঠাক বুঝতে পারছে?

অথচ মেয়েটি তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দিলো না। কথাগুলো বলার পর যেমন শান্তভাবে সে পথ চলছিল ঠিক তেমন ভাবেই আবার পথ চলতে শুরু করলো। অমু সেই গলি থেকে দ্রুত বড় রাস্তায় উঠে একটা টোটো ধরে চলে এলো ক্যানেলের কাছে। ঘামছে ও।আর একদিনও এখানে নয়। কালই সে ফিরে যাবে।কাল যত দ্রুত পারা যায়।

সতেরো

আজকাল সকালে উঠলেই মাথার মধ্যে এরকম একটা ব্যথা হচ্ছে। আগের রাতে অনেকটা মদ্যপান করলে যেরকম সকালে উঠে একটা ‘হ্যাং-ওভার’ কাজ করে ঠিক তেমন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই অমু আয়নার কাছে যায়। আজকাল নিজেকে আরো একটু বেশিক্ষণ ধরে দেখে।শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসটা ধরতে হবে। তাড়াতাড়ি স্নান করে পোশাক বদলে মালপত্র সব গুছিয়ে নেয় অমু।রিসেপশনে ভাড়া মেটাতে গেলে মালিক হাসিমুখে ‘গুড মর্নিং’-এ স্বাগত জানায়। তারপর সমস্ত নিয়মটিয়ম মিটিয়ে নেওয়ার পর অমুর হাতে দেয় একখানি শাদা খাম।

এটা?

ভোরবেলা একজন ভদ্রমহিলা এসেছিলেন। তিনি দিয়ে গেলেন।

ভদ্রমহিলা? কেমন দেখতে? –অমুর কথা সামান্য জড়িয়ে যায়।

খুব ফর্সা, একটু ভারী চেহারা, বিশেষভাবে সুন্দরী।নীল শাড়ী পড়ে এসেছিলেন।

‘বিশেষভাবে সুন্দরী’- এই কথাটা হোটেল মালিকের বলার কথা নয়, কিছু অন্যরকম ইঙ্গিত ছিল কথাটায়?

অমু হাতের শাদা খামটা নিয়ে বেড়িয়ে এলো হোটেল থেকে। এখান থেকে সে প্রথমে যাবে কলাভবন। সেখানে ক্যান্টিন থেকে খাওয়া দাওয়া করে ট্রেন ধরবে। টোটো তে উঠে হাতের শাদা খামটা খুলে দেখে ভেতরে একটা কাগজ, চিঠি মতো।

খুলে দেখে শাদা, কিচ্ছু লেখা নেই।

এটা কেমন মজা? রাগে বিরক্তিতে হতাশায় অমুর সমস্ত গা কাঁপতে থাকে। খামটা ঝেড়ে ঝুড়ে দেখে আর কিছু আছে কিনা। নাহ, কিছুই তো নেই। খামের ভেতর উঁকি দিয়ে অমু হঠাৎ আবিস্কার করে যে খামের গায়ে অনেককিছু লেখা রয়েছে। খুব সাবধানে খামটা ছিঁড়ে নেয় অমু যাতে লেখাটা কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্রিয় অমিয়

কাল আমাকে আপনি ঠিক চিনতে পেরেছিলেন।তবে আমাকে অস্বীকার করতেই হত। ওরা তখন আমাদের প্রতি নজর রাখছিল। ওদের কড়া নজরেই আপনার কাছে পৌঁছতে বেশ দেরি হয়ে গেছিল। খবর পেয়ে গেছিল ওরা। আপনার হোটেলের কেয়ারটেকারকে টাকা খাইয়ে সব জেনে গেছিল। তবে আপনি চিন্তামুক্ত থাকুন। যা আপনার চারিদিক হচ্ছে তার কিছুই আপনি বুঝতে পারছেন না জানি, তবে বিশ্বাস রাখুন। সাবধানে বাড়ি ফিরুন। আশা করি,আমাদের শীঘ্র দেখা হবে

ইতি

রোহিণী

(ক্রমশ)