‘অ্যামাজন অভিযানে’র সাফল্য এখন অতীত। ‘গুডনাইট সিটি’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরেছে। হলে আসতে না আসতেই ছবি ফুড়ুৎ। অতএব কি হালচাল পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জির? ফোন করতেই সাড়া মিলল। “চলে এসো। আপাতত ফাঁকাই আছি।” ধরা গেল স্বভাবসিদ্ধ ঘরোয়া মুডে। অগোছালো ড্রয়িং। যত্রতত্র বই। বোর্ডে অসমাপ্ত শট ডিভিশন। হাফ প্যান্ট , টি-শার্ট হাতে সিগারেট। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সুখটান দিয়ে শুরু হল আড্ডা। রেকর্ডার অন করলেন অময় দেব রায়

প্র: ‘গুডনাইট সিটি’ সুপার ফ্লপ…
উ: খানিকটা আন্দাজ করেছিলাম। আসলে নেতিবাচক সমালোচনার একটা প্যার্টান তৈরি হয়েছে। ‘চাদের পাহাড়’ বা ‘অ্যামাজন অভিযানে’র সময় বলা হয় কেন আরেকটা ‘মেঘে ঢাকা তার’র মত ছবি বানালাম না! ‘ক্ষত’ কিংবা ‘গুডনাইট সিটি’ রিলিজ করলে তারাই নাক শিটকান। এটা আসলে অমাকে আটকে দেওয়ায় সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। যদিও এসব আমি বিশেষ পাত্তা দিই না!
প্র: কি বলতে চান কমলেশ্বর মুখার্জিকে মার্জিনালাইসড করার প্রচেষ্টা চলছে?
উ: এটা নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই চলছে।
প্র: কেন বলুন তো?
উ: আমি কোনওদিনই ইন্ডাস্ট্রির ব্লু আয়েড বয় ছিলাম না। সবার প্রিয়পাত্র হতে গেলে যে পরিমাণ কম্প্রমাইস করতে হয় তা আমার পক্ষে অসম্ভব। ফলত যা হবার তাই হয়েছে।
প্র: আপনি কি কম্প্রমাইস করেননি! নিজেই তো বলেন পুঁজিবাদী কাঠামোয় সবাইকে আপস করতে হয়…
উ: হ্যাঁ সেটা স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে। ছবির বাণিজ্যের স্বার্থে। এখনে আমি জীবনের কম্প্রমাইসের কথা বলছি। সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি জীবন দর্শনের প্রতি চিরকাল আবিচল। এখনও তাই।
প্র: ‘গুডনাইট সিটি’ তে ফিরি। সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নিয়ে ছিবি বানানোর ভাবনটা কিভাবে এলো?
উ: রোজই একাধিক ক্রাইম রিপোর্ট নজরে আসে। প্রত্যেকটি ঘটনা আমরা ব্যক্তির সোশিয় বায়োগ্রাফির ভিত্তিতে বিচার করি। একবারের জন্য সাইকো বায়োগ্রাফির কথা ভেবে দেখি না। ব্যাক্তির ছোটবেলা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি তলিয়ে দেখলে হয়তো বোঝা সম্ভব কেন একজনের মধ্যে অপরাধমনস্কতা দানা বাঁধে। মনোবিদ ঠিক এই কাজটাই করেন। তাছাড়া এখন তো গোটা বিশ্ব জুড়েই সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার একটা জ্বলন্ত সমস্যা। এই সবটা মিলিয়েমিশিয়েই ‘গুডনাইট সিটি’র ভাবনাটা মাথায় আসে।
প্র: শোনা যাচ্ছে রবিনসন স্ট্রিটের পার্থ দে-র ঘটনা ছবিটা বানাতে আপনাকে উসকে দেয়?
উ: রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনার একটা সামান্য প্রভাব থাকতে পারে। তারচেয়ে বেশি কিছু নয়।
প্র: মেঘে ঢাকা তারার পর আবার একজন চিকিৎসকের চরিত্র। ব্যক্তি জীবন দ্বারা কতটা প্রভাবিত?
উ: আমি ডাক্তারি ছাড়াও দীর্ঘদিন কাউনসেলিং এর সঙ্গে ছিলাম। অতএব প্রভাবের থেকেও বড় কথা অভিজ্ঞতা চরিত্রগুলোকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
প্র: প্রথমবার ঋত্বিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
উ: খুবই ভালো। আমি ঋত্বিকের থকে অনেক কিছু শিখেছি।
প্র: নেক্সট প্রজেক্ট?
উ: ঋত্বিকে নিয়ে একটা শর্ট ফ্লিম করার পরিকল্পনা আছে।