বড্ড তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে চারপাশটা৷ টু-জি থেকে থ্রি-জি, থ্রি-জি থেকে ফোর-জি ইন্টারনেটের দৌলতে মানুষের জীবনযাত্রার ধরনটাই পাল্টে যাচ্ছে৷ হাতে হাতে স্মার্টফোন এসে, ক্যামেরা রেডিও টিভি সব কিছুকেই যেন অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে৷ তবু এত পরিবর্তেনর মাঝে কিছু কিছু থেকে যাচ্ছে অবিনশ্বরের মতো৷ তাই বছর ঘুরলে ফিরে আসে শরতের আকাশে সাদা মেঘ৷ আশ্বিনে কাশফুলে ভরে ওঠে মাঠ ৷ নতুন জামা কাপড় কিনতে বাজারে মানুষের ভিড় মনে করিয়ে দেয় পুজো এসে গিয়েছে৷ পুজো শুরু মানেই তো আগমনীর গান৷ মহালয়ার আগের দিনে অনেক বাড়িতেই খোঁজ পড়ে ঘরে বহুদিন অযন্তে পড়ে থাকা রেডিওটার দিকে৷ দেখে নেওয়া হয় ঠিক মতো চলছে কিনা। কারণ ওইদিন সকালে অনেক বাড়িতেই বেতারযন্ত্রটিতে বেজে ওঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অসাধারণ কণ্ঠে- ” আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর। ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা; প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমনবার্তা। আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন। তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন। আজ চিচ্ছক্তিরূপিণী বিশ্বজননীর শারদশ্রীবিমণ্ডিতা প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে ধ্যানবোধিতা।’’ তবে অবহেলার রাখা বাড়ির বেতারযন্ত্রটি কর্মক্ষণ না থাকলেও অবশ্য মোবাইলে মহালয়ার ঊষা লগ্নে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর চিরাচরিত ভাষ্য ও চণ্ডীপাঠের মধ্যে দিয়ে সূচিত হয়ে যায় মহাপূজার আগমনী। তাঁর অননুকরণীয় বর্ণনা ও স্ত্রোত্রপাঠে ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে বঙ্গে দুর্গাপূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর পুজোর আগে এই অনুষ্ঠানের জন্য বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র হয়ে ওঠেন বঙ্গজীবনের অঙ্গ৷