11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

 

                                                                    রবeবার, ২৭.০৯.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা ২৪

 

এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধের একমাত্র সম্বল টাইপরাইটার লাথি মেরে ভেঙে দিচ্ছেন এক পুলিশ অফিসার৷  সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এ ছবি৷ দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এরকমও সম্ভব৷ পুলিশও তো মানুষ! এরকটাও কেউ করতে পারেন? আবার অনেকে এ প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, পুলিশ এমনই৷ করতে পারে না তারা এমন কোনও কাজ নেই৷

সত্যিই পুলিশ পারে না এমন কোনও কাজ নেই৷তাদের ক্ষমতাকে যদি বেড়ি পরিয়ে না রাখা হয়, তাহলে পুলিশ এ সমাজের অন্ধকার একা হাতেই দূর করে দিতে পারে৷ আবার সেই পুলিশই সমাজকে আরও খানিকটা অন্ধকারে টেনে নিয়েও যায়৷ যেমন উপরের ঘটনার

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

ওই পুলিশ অফিসারটি যে নমুনা দেখিয়েছেন৷ বস্তুত  পুলিশ যেন আমাদের সমাজে এক প্রহেলিকা সমান৷ এই  পুলিশের বর্বরতা আমাদের কাছে লজ্জার হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তো এই পুলিশের কাজ আমাদের গর্বের আলো উপহার দিচ্ছে৷ সংবাদমাধ্যমের অন্দরে থেকে এ অভিজ্ঞতা আমি ও আমার মতো আরও অনেকেরই নিশ্চয়ই৷পুলিশের কাজে কে, কীভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তা এই দুনিয়ায় বসে আরও সহজে টের পাওয়া যায়৷ আর তাতে এটুকু পরিষ্কার হয়, পুলিশকে কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়৷ তখন একটাই প্রশ্ন ওঠে, যত দোষ পুলিশের ঘাড়ে চাপানো হয়, তার জন্য পুলিশ আক্ষরিক অর্থে কত শতাংশ দায়ী? আবার সাংবাদিক জীবনে এও তো দেখেছি, পুলিশ অফিসারদের ক্রমাগত অত্যাচারে কীভাবে রাজ্যে গড়ে উঠেছে মাওবাদী আন্দোলন৷ কীভাবে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার মাটি তৈরি করে দিয়েছে বিছিন্নতাবাদী আন্দোলনের৷ দেখতে দেখতে ক্রমাগত মনে হয়েছে, তামাম পুলিশকে এক ট্যাগে ফেলে দেওয়াটাই বোধহয় পুলিশ সমাজের প্রতি বড় একটা অবিচার৷ কবিদের সম্বন্ধে একটা কথা প্রায়শই বলা হয়, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’৷ সে কথা পুলিশের সম্পর্কেও বোধহয় ধ্রুবসত্য৷

গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো আবার আছে নীতি পুলিশ৷ প্রেম হোক কিংবা সাহিত্য সর্বত্র তার অলিখিত খবরদারি চলছে৷ এ সময়ে যখন নিষেধাজ্ঞার কথা আরও বেশি করে উঠছে, তখন নীতি পুলিশের দাদাগিরি সমাজে আরও প্রকট হয়ে উঠছে৷

এই সব কিছু নিয়েই আমাদের এ বারের সংখ্যা৷ আশা করি, প্রতিবারের মতো এবারও আপনাদের মতামত পাব৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭