রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

‘তুমহারি নজর কিঁউ কাফা হো গ্যায়ি’.. বিশ্বজিৎ, মালা সিনহার পর্দায় মান অভিমানের জন্য এ গান গেয়েছিলেন মহম্মদ রফি লতা মঙ্গেশকর ৷ কিন্তু , সে তো ছবিতে প্রেমের উৎসব৷ একটু অন্যভাবে এ কথা আমাদের শিল্প সাহিত্যের দিকে যদি ঘুরিয়ে দেওয়া যায়,

তবে দেখা যায় এ এক চিরকালীন জিজ্ঞাসা৷ কেন যে সত্যিকে সত্যি বললে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নজর ‘কাফা’ হয়ে যায়, তার যেন উত্তর মেলা ভার৷ বারেবারে এ জিনিস ঘটেছে এবং ঘটে চলেইছে৷

নেহরু পরিবার কি নেতাজীর উপর নজরদারি চালাতেন? এই প্রশ্নে গোটা দেশ উত্তাল হয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে৷ যা সত্যি, তা সত্যির জোরেই একদিন নিশ্চয়ই আলোর সামনে আসবে৷ কিন্তু আমরা একবার ফিরে তাকাতে পারি আমাদের জীবনে, কাজে অহরহ জারি থাকা সব নজরদারির দিকে৷

পরীক্ষাহলে নজরদারি হোক কিংবা ভোটকেন্দ্রে নজরদারি, এ জিনিস আমাদের পিছু ছাড়ে না৷ প্রথম সিগারেটেও যেমন নজরদারির ভয়, তেমনই প্রথম প্রেমেও যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়৷ আরও দিন গড়ালে আমরা ক্রমশ দেখি, স্বাধীনতা বলে আমরা যা উপভোগ করি আসলে তা ছদ্মবেশী পরাধীনতাই৷ নজরদারির নিগড় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা হয় না৷

ছোটবেলায় আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই কপালে ধেবড়া নজরকাজল লাগিয়ে দিতেন মা-ঠাকুমারা৷ বলতেন, যেন কারও নজর না লাগে৷ সে ছোটবেলা কবে ফিকে হয়ে গেছে, এবং আজ আমরা বুঝে গেছি, সে নজরকাজল নেহাতই সান্ত্বনা মাত্র৷

আমাদের এই সংখ্যা সেইসব নজরদারির দিকেই নজর রাখা৷ আসলে সবথেকে বড় নজরদারি তো নিজের সঙ্গে নিজের৷ তাই চোখে চোখে রাখার ইতিহাস ঘাঁটতে ঘাঁটতে যদি কোনও এক ফাঁকে সেই শৈশবের নজরকাজল আমরা নিজেদের জন্যে খুঁজে পেয়ে যাই তবে তার থেকে ভালো আর কী হতে পারে৷

প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পর আপনাদের যে হারে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তাতে আরও সমৃদ্ধভাবে দ্বিতীয় সংখ্যার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার উৎসাহ পেয়েছি আমরা৷ তার ফলাফল আবার আপনাদের হাতেই তুলে দিলাম৷ আমাদের উপর নজরদারির ভার তো আপনাদেরই হাতে তোলা৷

আমাদের থেকে নজর না সরানোর আর্জি থাকল৷ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলাম৷ আপনাদের যে কোনও পরামর্শের দিকে নজর রাখলাম আমরাও৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭