জামাইষষ্ঠী-র গায়ে যেন আলতোএকটা হাসির টুকরো লেগেই থাকে৷ একটু মজা, একটু ঠাট্টা, খাওয়া-দাওয়ায় মোড়া একটা দিন৷  যদিও ইতিহাসের পরম্পরা আমাদের জানাচ্ছে, এ দিনের এক নির্দিষ্ট সামাজিক তাৎপর্য আছে৷ বংশচক্র সচল রাখার উদ্দেশ্য জারি রাখা এর মধ্যে অন্যতম৷ তাই জামাইকে খুশী রাখার এত আয়োজন৷ তবু একটু খতিয়ে দেখলে দেখব, আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থ্যাই এনেছে এরকম একটা দিন৷ শ্বশুরবাড়িতে মেয়ে যাতে সুখের মুখ দেখে, সন্তানধারণ ও প্রতিপালনে যাতে তাকে কোনও অসুবিধার মধ্যে পড়তে  না হয়, তাইতে এই জামাইতোষণের আয়োজন৷ সমাজ যদি নারীপ্রধান হত, তবে নির্ঘাৎ এর বদলে বউমাষষ্ঠী দেখা দিত৷

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

এ কূট তর্ক আজ বরং থাক৷ ঘরে ঘরে বাবাজিরা চলে এসেছেন৷ আম-লিচুর গন্ধে পাড়া ম ম৷ আজ আর কী হলে কী হত ভেবে কাজ নেই৷ বরং ভাবা যাক কী হচ্ছে৷ হ্যাঁ জামাইষষ্ঠীর গায়ে হালকা হাসির একটা আবরণ আছে বটে৷তা বোধহয় জামাইদের নিয়ে শ্বশুর শাশুড়িদেরখানিক বাড়াবাড়ির কারণে৷ তবে বাড়াবাড়ির বাতাবরণটুকু সরিয়ে দিলে আজকের  দিনে জামাইষষ্ঠী বেশ অন্য এক মাত্রা নিয়েই হাজির হয়৷

এ এমন এক সময় যখন ধর্ম তাসের খেলায় নাজেহাল হচ্ছে সকলে৷ তখন কোনওরকম ধর্মের ছোঁয়াচ ছাড়া একটা উৎসব হলে মন্দ কী৷ এর সমগোত্রীয় উৎসব সম্ভবত ভাইফোঁটা  ছাড়া আর নেই৷

দ্বিতীয়ত, আজ যখন যৌথ পরিবার তো গেছেই, এমনকী নিউক্লিয়ার পরিবার বলেও আর কিছু থাকছে না, সম্পর্করা য়খন দিকে দিকে এলোমেলো, তখন এরকম এক উৎসবের অছিলায় যদি বাবা-মা-মেয়ে-জামাই সম্পর্কগুলো এক সুতোয় বাঁধা পড়ে তবে তো সেনায় সোহাগা৷

অতএব জারি থাকুক এই বঙ্গজীবনের জামাই আদর৷

আমরাও এ সংখ্যায় নানাদিক থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম জামাইষষ্ঠীকে৷

আপনাদের মনে ধরল তো? অবশ্যই  জানাবেন৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা 24×7