11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

                                                                 রবeবার, ২৩.০৮.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা১৯

নাহ, এটি রবeবার-এর পুজোসংখ্যা নয়৷ তবে হ্যাঁ, আমাদের বিষয় -পুজোসংখ্যাই৷ ইতোমধ্যেই বাজারে বেশ কয়েকটি পুজোসংখ্যা এসে গিয়েছে৷ক্যালেন্ডারের নিয়মে শরৎ আসার অনেক আগেই ভরা বর্ষার জলে ভাসতে ভাসতে আমাদের সামনে এখন চলে আসে পুজোসংখ্যা৷ কোথায় সেই বেজে ওঠা আলোর বেণু, কোথায় সেই নতুন পত্রিকার শরীরে ঠিকরে পড়া শরতের সোনা রোদ, পত্রিকার গায়ে এখন কর্পোরেট কর্পোরেট  গন্ধ৷ সাহিত্যপ্রেমী বাঙালির তাইই সই৷

আসলে এ কথা তো অস্বীকার যায় না যে, বাংলা সাহিত্যের এই প্রচুর ভাঁড়ারকে সমৃদ্ধ করতে পুজোবার্ষিকির অবদান কতখানি৷ এই সংখ্যার লেখাগুলিতে উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের মহারথীরা কলম ধরেছেন পুজোসংখ্যার জন্য৷ শঙ্কু-ফেলুদা থেকে কাকাবাবু-সন্তু হয়ে আরও কত অবিস্মরণী সৃষ্টির জন্ম হয়েছে এই পুজোসংখ্যাতেই৷ বাঙালি মননে আজও

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

সে সব ধরা আছে৷ আছে বলেই আজও পুজোসংখ্যার জন্য অপেক্ষা থাকে৷ কিন্তু দিনে দিনে পুজোসংখ্যা যে তার পুরনো গৌরব কিছুটা হলেও হারিয়েছে তাও অস্বীকার করা যায় না৷ এ নিয়ে বেশ তর্কই আছে বটে৷ পুজোসংখ্যায় যে কোনও লেখকই তাঁর সেরা লেখাটা দিতে চান৷ পুজোবার্ষীকি বাংলা সাহিত্যের একরকম মুখপত্রও বটে৷ তা সত্ত্বেও এক একটি পুজোসংখ্যা যখন প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন লেখালিখি সংক্রান্ত কিছু মূলগত প্রশ্নের দিকে আমাদের দৃষ্টি পড়ে৷ তবে কি কোনওভাবে কর্পোরেট চাপ এসে লেখকের কলমকে প্রভাবিত করছে? জুলাইয়ের মধ্যেই পুজোসংখ্যা প্রকাশের কর্পোরেট গেম লেখককে প্রয়োজনীয় স্পেশটুকুও দিতে নারাজ? সেক্ষেত্রে শুধু ব্যবসার জন্য পুজোসংখ্যার মান খেলো করা সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের জন্য তো অন্তত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে হয় না৷ তা যদি না হয়, তবে বলতে হয়, পাঠক কিংবা সমকালকে ছুঁতে ব্যর্থ হচ্ছেন লেখকরা৷ কারণ যাই হোক পুজোসংখ্যা যে আগের মতো পাঠককে তৃপ্তি দিততে পারছে না,সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠকের প্রতিক্রিয়ার  দিকে তাকালেই সে কথা পরিষ্কার হয়৷

বাঙালির এই প্রজন্ম  বাংলা সাহিত্য পড়ে না বলে একটি অভিযোগও বেশ স্পষ্ট৷ বাঙালির ঘরে ঘরে পুজোসংখ্যা পড়ার রেওয়াজ কিন্তু এখনও ভালোমতোই আছে৷ সুতরাং পুজোসংখ্যার মান বজায় রেখে, শুধু ব্যবসার দিকে না তাকিয়ে, প্যাকেজিংয়ে না মুড়ে ফেলে, আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে যদি সংখ্যা প্রকাশ করা যায়, তবে চলে যাওয়া পাঠক তো ফিরে আসবেনই, নতুন পাঠকও উৎসাহিত হবেন, এমনটা আশা করা বৃথা নয়৷

কারণ অনুসন্ধান করে সমস্যা মিটিয়ে পুজোসংখ্যা আবার শরতের অরুণ আলোর অঞ্জলি হয়ে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা৷ এ সংখ্যায় সেই আশাকে উসকে দেওয়ারই প্রয়াস৷

আপনাদের মতামতের অপেক্ষায়৷