11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

 

                                                                            রবeবার, ১৯.০৭.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা১৪

 

ইলিশের মজলিশ জমে উঠেছে বাঙালির পাতে পাতে৷ রুপোলি রোমান্সের ভরপুর হেঁশেল৷ কিন্তু জলের রুপোলি শস্য নিয়ে যতখানি নস্ট্যালজিয়া চুঁইয়ে পড়ছে, ততোখানিই হতাশা জমা হয়েছে ফিলহাল৷নাহ, ইলিশের আর সে সোয়াদও নেই৷ সেরকম ইলিশেরও আর দেখা নেই৷ ইলিশ কি কম পড়িয়াছে? উত্তর-পড়িয়াছে৷ বাজারে ইলিশ বলে যা বিকোচ্ছে স্বাদে-গন্ধে তা ইলিশের পদবাচ্য নয়৷ আর সত্যিকারের ইলিশ কিনতে গেলে পকেটে যে চোট পড়ছে, তাও সামাল দেওয়া দায়৷ এরকমই দোটানার বাজারে আমাদের সংখ্যায় ধরা পড়ল ইলিশ৷

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

আসলে ইলিশ নিয়ে বাঙালির আদিখ্যেতা একটু বেশীই৷ তার নিশ্চিত কোনও কারণ আছে৷ কিন্তু নস্ট্যালজিয়ার গন্ধে আমরা এমনই বুঁদ যে, কেন ইলিশকে আমার মাথায় তুলে রাখি তাইই ভুলে গিয়েছি৷ কোব বিবর্তনের ইতিহাস বেয়ে যে ইলিশ এসে মাছেভাতে বাঙালি জীবনের মধ্যমণি হয়ে উঠল তা আর খুঁজে দেখা হয় না৷ আর আদিখ্যেতাই যদি বলা হয়, তবে ইতিহাসের পাতাতেও  তার নির্দশন আছে৷ বাঙালির ইতিহেসচেতনা কি ইলিশের মোহে সে সব তলিয়ে দেখার সময় পেয়েছে? পাশাপাশি, এটাও তো ভাবার, কেন ইলিশ কমে গেল৷ বছরভর পাত ভরিয়ে রাখা রুই-কাতলাকে টেক্কা দিয়ে যে মাছ বেরিয়ে যায়, তা সত্যিই কেন আমাদের হাত থেকে বেরিয়ে গেল? এক ধরনের মাছের পর্যাপ্ত জোগান, অন্যটির অপ্রতুলতার কারণ আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার আছে বৈকি৷ নচেত কর্পোরেট মোড়কে হিলসা ফেস্টিভ্যালে নালে-ঝোলে বাঙালি যতই হাবুডুবু খাক না কেন, ইলিশচর্চা কিন্তু অধরাই থেকে যাবে৷

এই সব নিয়েই আমাদের ইলিশ আয়োজন৷ গতানুগতিক রান্নাঘরের গন্ধ আর আহা কী খাইলাম বা খেয়েছিলামের বাইরে গিয়ে ইলিশ নিয়ে আরও একটু বিশদে দেকার চেষ্টা থাকল এবারের সংখ্যায়৷ আমাদের এই পরিবেশনা আপনাদের কতটা তুষ্ট করল সেটাই আসল ব্যাপার৷

আসুন ইলিশের মজলিশে জমে যাওয়া যাক কিছুক্ষণ৷ এবং অবশ্যই কেমন লাগল তা জানাতে ভুলবেন না৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭