নক্ষত্রপতন৷

সুচিত্রা ভট্টাচার্যের প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জগতকে যে অপরিসীম শূন্যতার মুখোমুখি করে দিয়ে গেল তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়৷ শুধু মেয়েদের মনের কথাটি তিনি লিখে দিতে পেরেছেন বলে নয়, শুধু তাঁর লেখনির গুনে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন বলেও নয়, জনপ্রিয়তা ও সাহিত্যগুণ যে একই লেখনিতে দোসর হতে  পারে সে কথা আরও একবার প্রমাণ করেছিলেন বলে৷

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

বাংলা সাহিত্যে ভুরি ভুরি লেখক আছেন৷ আছে দিস্তে দিস্তে লেখা৷ বলা বাহুল্য তাঁদের সকলেই সুচিত্রা ভট্টাচার্য হতে পারেন না৷ জনপ্রিয়তা মানেই যেন তা গুণে খাটো,এমন এক চলতি ধারণা আমাদের সময়ে সময়ে পেয়ে বসে৷ নিশ্চয়ই তার পিছনে কারণ আছে৷ তবু কয়েকজন মাত্র প্রমাণ করে দেন ধারণা মাত্রই তা শাশ্বত হতে পারে না৷ সুচিত্রা ভট্টাচার্য নিসন্দেহে সে তালিকায় শীর্ষ সারিতেআসন পাবেন৷ তাঁর সাহিত্যের অমরতা ও পরমতা নিয়ে বিচার করবে মহাকাল, শুধু এটুকু বলা যায়, পাঠকের হৃদয়ে তাঁর লেখার জন্য তৃষ্ণা জেগে থাকবে, যা আর কোনওদিনই মেটার নয়৷

আর এ তো সত্যিই তৃষ্ণার মাস, আক্ষরিক অর্থেই৷ তৃষ্ণা মেটাতে এককালে কত না সরবতের বাহার ছিল৷ আজ সেখানে কোল্ড ড্রিঙ্কের স্বায়ত্তশাসন৷ বাড়িতে অতিথি এলে সরবতের আতিথেয়তায় যে আন্তরিকতা ছিল তা কি স্কোয়াশের কেমিক্যালে মেলে? মেলে না৷ আজও তবু শহরের অলিতে গলিতে আছে হরেক অবাক জলপানের পসরা৷ সেই পসরা সাজিয়েই আমাদের এই সংখ্যার আয়োজন৷

গুটি গুটি পায়ে চলতে চলতে আমরা একটিমাস পেরোলাম৷ সমস্ত লেখক ও পাঠকের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ৷প্রতি রবিবার আমাদের এই আয়োজন আশা করি ভবিষ্যতেও আপনাদের সাহিত্যতৃষা মেটাতে পারবে৷

গরম তোআগেও ছিল, এখন নাহয়একটু বেড়েছে৷ তবে পাল্লা দিয়ে কমেছে সেদিনের আন্তরিকতা, সরবতের উপাদানের সঙ্গে  এককালে যা মিশে থাকত৷

আসুন সরবতের অছিলায় আমরা ডুব দিই সেই হারানো আন্তরিকতায়, পুরনো আতিথেয়তায়৷

সকলে ভালো তাকুন৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা 24×7