11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

                                                                 রবeবার, ১৬.০৮.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা১৮

মনোজ বাজপেয়ী, রবিনা ট্যান্ডন অভিনীত ‘জয় হিন্দ’ শর্ট ফিল্মটি নিশ্চয়ই এতদিনে অনেকে দেখে ফেলেছেন৷ কোনও প্রচারের উপরচালাকি ছাড়াই চমৎকার একটি ছবি , উপস্থাপনার নিরিখে৷ সিনেম্যাটিক প্রেক্ষিতে আলোচনা তোলা থাক, আমরা বিষয়বস্তুটুকু আলোচ্য হিসেবে এখানে তুলে নিই৷ যদি আমাদের এ দেশ স্বাধীন না হত, তাহলে কী হত? কী হতে পারত, তার একরকম পরিণতি ছবিতে দেখানো আছে৷ ৬৮ বছর পেরিয়ে এই প্রশ্নটাই বড় প্রাসঙ্গিক হয়ে দেখা দিয়েছে৷ কেন? আচ্ছা তাহলে একটু সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকানো যাক৷

প্রথম যে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এ স্বাধীনতা কীসের স্বাধীনতা, যখন এখনও মানুষের বেসিক চাহিদাগুলোই পূরণ হচ্ছে না৷

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে স্বাধীনতার অসারতা এবং এ সম্পর্কে দেশবাসীর অনাস্থা বেশ প্রবলভাবেই প্রকট৷ সত্যিই কি স্বাধীনতা আমাদের কিছু দেয়নি? ব্রিটিশরাজের বদলে নাম পালটে আর একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের শাসন সাধারণের ঘাড়ে থাবা বসিয়েছে মাত্র? নানাদিক থেকে এখনও যে আমরা পশ্চিমী অধীনতাকে প্রকারন্তরে  স্বীকার করে নিচ্ছি, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ এ স্বাধীনতা যে এখনও আমাদের গ্রাসাচ্ছোদনের ব্যবস্থা করেদিতে পারেনি তাও ঠিক৷ কিন্তু এখানেই পালটা প্রশ্ন উঠছে, স্বাধীনতা কি এমন প্রতিশ্রুতি নিয়েই এসেছিল? যদি তা দিয়েও থাকে, তাহলে কি স্বাধীনতাত্তোর দেশ তা ঠিকঠাক করে রূপায়ণ করতে পারল না৷

যেভাবে স্বাধীনতার দিনটি দিনে দিনে স্রেফ ছুটি কাটানোর একটি দিন হয়ে উঠছে, যেভাবে স্বাধীনতার আবেগকে ব্যবসায়ীরা অফারের টোপ ফেলে মুনাফার দিনে পর্যবসিত করে তুলেছেন, তাতে স্বাধীনতার স্বরূপ নিয়ে  খটকা লাগে বৈকি৷ তাছাড়া ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বাকস্বাধীনতা আজও এ দেশে তেমন করে পত্রেপুষ্পে বিকশিত হতে পারেনি৷ গণতন্ত্র যেন অনেকটাই তথাকথিত হয়ে থেকে গিয়েছে৷ বহু ভাষাভাষি, ধর্ম, জাতি, সংস্কৃতির এ দেশে স্বাধীনতা এবং তার পরবর্তী সময়েদেশগঠনের নিরিখে যে ইতিহাস রচিত হওয়ার কথা ছিল, তা যেন অধরাই থেকে গিয়েছে৷

কিন্তু আমাদের দেশপ্রেম? দেশ তো স্বাধীন, আমারা স্বাধীন নাগরিকের কর্তব্য পালন করছি তো? সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলেই আরও একটি পোস্ট নিশ্চয়ই অনেকের চোখে পড়েছে যেখানে লেখা, দেশপ্রেমিক হওয়ার জন্য মহান কিছু করতে হবে না, শুধু রাস্তায় গুটখার পিক না ফেলেলই অনেককাখানি কাজের কাজ হয়৷ দাঁড়াবার জায়গা এইটাই৷ বৃহৎকে নিয়ে প্রশ্ন করার আগে, আমরা কি দেখছি, আমরা একক হিসেবে কতটা দায়িত্ব পালন করছি? নাকি  আমাদের দেশপ্রেম কেবল ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে রুপোলি পর্দার দেশপ্রেমমূলক আখ্যানেই আটকে থাকছে না তো?

আজ তাই স্বাধীনতার স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে, নিজেদের দিকে ফিরে তাকানোও জরুরি হয়ে উঠেছে৷ স্বাধীন থাকার অভ্যাসে কোথাও আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি না তো?  প্রশ্নগুলোও সহজ নয়, উত্তর তো নয়ই৷

আসুন এ সংখ্যায় আমরা সে খোঁজ করি৷ ৬৮ পেরনো স্বাধীনতা ও স্বাধীন দেশের স্বরূপটিকে পুনরাবিষ্কারের প্রয়াসে থাকি৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭