11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

 

                                                                           রবeবার, ১১.১০.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা ২৬

 

কেন যে প্রতিবার আবাহনের লগ্ন এলেই বাঙালিকে বিদায় দিতে হয়? এই তো সেদিন  নবমীর বিষাদ মিশে গিয়েছিল বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন বিয়োগব্যাথায়৷ দিকশূন্যপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন নীললোহিত৷ এ বছর আবাহনের আনন্দের আগেই বাংলার ঘরে বিষাদের আয়োজন৷ চলে গেলেন কবি উৎপল কুমার বসু ৷ চলে গেলেন বাদল বসুও৷ কবি ও প্রকাশক- সপ্তাহফেরে দু’জনেই বাঙালিকে শূন্য করে চলে গেলেন৷ যাঁরা চলে গেলেন তাঁদের শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়৷ ভাবীকাল শুধু পারে, তাঁদের রেখে যাওয়া কাজ থেকে শিক্ষা নিতে৷ যে বিন্দুতে তাঁরা শেষ করলেন সেখান থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ উত্তরসূরীর কাঁধেই বর্তায়৷ একমাত্র সেভাবেই প্রতি মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারেন তাঁরা৷

বিষাদ যতই মেঘে আকাশ ঢাকুক, নিয়ম মেনেই আবাহনের লগ্ন আসছে৷ এই লেখা আপনাদের হাতে পৌঁছনোর পর মাত্র একটা রাতের অপেক্ষা৷ তারপর ভোর হতে না হতেই সেই অমোঘ কণ্ঠস্বরে-আশ্বিনের শারদপ্রাতে৷ ভোরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়া একরাশ নস্ট্যালজিয়া৷ এবম মনে পড়া আরও একটা পুজো আসছে৷ বেতারে সম্প্রচারিত এই একটি অনুষ্ঠান-মহিষাসুরমর্দিনী-যেন বাঙালির পুজো সূচনার সূচক হয়ে গিয়েছে৷ এও এক আশ্চর্যই বটে৷ কোনও অনুষ্ঠানের এরকমভাবে একটি জাতির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে যাওয়ার নমুনা আর কোথাও আছে কি না জানা নেই৷এককালে এই অনুষ্ঠান পঞ্চমী ও ষষ্ঠীর দিন প্রচারিত হত৷ কিন্তু ঢাকের বাদ্যি আর পুজো প্রস্তুতির শেষ লগ্নের উত্তেজনাতেই চাপা পড়ে যেত এই অনুষ্ঠান৷ তখন এই তিথিতে টেনে আনা হয় সম্প্রচারের দিন৷ এবং তা যে মাস্টারস্ট্রোক ছিল, তা বলাই বাহুল্য৷

এই অনুষ্ঠানের কারণেই মনে করা হয়, এদিনই বোধহয় দেবীপক্ষের সূচনা৷ বস্তুত দেবীপক্ষ ঠিক তার পরদিন থেকেই৷ এদিনটা হল পিতৃপক্ষের শেষ দিন৷ পক্ষকাল ধরে চলতে থাকা পিতৃতর্পণের এটাই শেষ দিন৷ এককালে নাকি অফিসকাছারিতে নোটিস দিয়ে তর্পণের ছুটি ঘোষণা করা হত৷ কালে কালে সেই গুরুত্ব হারিয়েছে৷ কিন্তু ওই অনুষ্ঠান থেকে গিয়েছে চিরকালীন হয়ে৷

আবাহনের এই সময়ে সাহিত্যপ্রিয় বাঙালির মন বিষাদে ভারাক্রান্ত৷ আসলে আবাহনই তো এক হিসেবে বিসর্জনের সূচনা৷ এই বিদায়, এই বিয়োগব্যাথা, এই হরিষ-বিষাদের সহাবস্থান বোধহয় মনে করিয়ে দিচ্ছে জীবনের সেই পূর্ণচক্রটিকেই৷