রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

নাহ, আমার কবিপ্রণামে নেই ভক্তি গদগদ উথলিত চিত্তের সাড়ম্বর প্রকাশ৷

নাহ, আমারকবিপ্রণামে নেই  রবি ঠাকুরের গানকে নিয়ে অযথা ভাঙাচোরার ব্যাবসায়ী স্পর্ধা৷

নাহ, আমারকবিপ্রণামে নেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকারণ কচকচানির সাহিত্য কিংবা চলচ্চিত্র৷

রবীন্দ্রনাথ বাঙালিরকাছে  কী এবং কতখানি, সে তো পণ্ডিতরা তাঁদের লেখায় নিয়মিত জানিয়ে গেছেন৷ আমরা যারা মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরে বেড়ে উঠেছি, যারা ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রনাথের গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি, বাড়িতে ‘সঞ্চয়িতা’, ‘গীতবিতান’ থাকতে দেখেছি, আমরা যারা অল্প কিছু সংখ্যক হলেও তাঁর কবিতা পড়েছি, মুখস্থ করেছি, তাদের কাছে রবীন্দ্রনাথএকজন ঘরের মানুষ৷ আত্মীয়দের মধ্যে ছোটবেলায় যাঁরা ঠিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ আর নেই, কিন্তু ছোটবেলা থেক রবীন্দ্রনাথ আজও একইভাবে আমাদের পাশে আছেন৷ আমাদের মনে হয় না তিনি কোনও পৃথক মানুষ, ঠাকুরবাড়ির একজন, মনে হয়, তিনি তো আমাদের ঘরেরই একজন৷

কিন্তু সে রবীন্দ্রনাথের বাইরেও রবীন্দ্রনাথ আছেন৷ যখন দেখি তাঁকে নিয়ে চলছে বিপুল বাণিজ্যের রমরমা৷ নাহ, তথাকথিত গবেষক, সাহিত্য, সঙ্গীতশিল্পী কেউই বিক্রির খাতিরে রবীন্দ্রনাথকে রেয়াত করেননি৷ সকলেই নিজস্ব আখের গোছাতে সামিল হয়েছেন রবি টাকুরের পণ্যায়নে৷

আমার কবিপ্রণাম এই পণ্যায়নের বিরোধিতা৷

তাই বলে কি আমি রবীন্দ্র স্নব? বোধহয় না৷ আসলে তাঁর প্রতি জন্মদিনেই ঘুরেফিরে আমরা গাই, হে নূতন দেখা দিক আর বার, জন্মেরও প্রথম শুভক্ষণ..কিন্তু সে শুভক্ষণ কিছুতেই আর আসে না৷ আমরা মালা চন্দনে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করি বটে, কিন্তু নিজেদের ভিতরে তাঁকে নতুন করে খুঁজে পেয়ে, অন্তরের অন্তঃস্থলে তাঁর জন্মদিন নামিয়ে আনতে পারি কি?

এবারের আরশিনগর সেই খর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো৷ রবীন্দ্রস্তব বাদ দিয়ে বরং আমরা খুঁজে দেখি, আমরাই তাঁকে কীভাবে পণ্য করে তুলছি৷ সেই ভুলটুকু অতিক্রম করতে পারলেই হয়তো আমরা পালন করতে পারব, একটা সত্যিকারের ২৫ বৈশাখ৷

সেটাই হবে আমাদের সার্থক কবিপ্রণাম৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা24×7