11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

                                                                 রবeবার, ০৯.০৮.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা১৭

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘোরাফেরা করছিল-একঝাঁক দস্যি, স্কুলড্রেসে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে৷ বোঝাই যাচ্ছে স্কুল টিচার তাদের সাজা দিয়েছে৷ কিন্তু তাতে বাবুদের হেলদোল নেই৷ বন্ধুবান্ধবরা মিলে সাজা পেয়েও দস্যিপনা করছে৷ ছবিটার উপর লেখা, ইফ ইউ হ্যাভ নট এনজয়েড গ্রুপ পানিশমেন্ট, দেন সিরিয়াসলি ইউ হ্যাভ মিসড দ্য বেস্ট পার্ট অফ স্কুল লাইফ৷ এক লহমায় ছবিটি ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই ছেলেবেলাকার দিনগুলোয়, সত্যিই যখন শাস্তির মানে ছিল অন্য৷ শাস্তিকে ঘিরে কোনও প্রশ্ন ছিল না৷ দোষ করলে সাজা পেতে হবে, এটা সব ছাত্রই জানত৷ এবং কোনওদিন স্কুলে শাস্তি পায়নি যে যে, সে সত্যিই অভাগা,  কেননা দস্যিপনার নস্ট্যালজিয়া চর্চার মতোও তার হাতে কিছু নেই৷যদিও রাখালের বদলে গোপালের মতো হওয়ারই নিজদান দিয়ে গিয়েছেন পণ্ডিতমশাই,তবু রাখালের সংখ্যা গোপালের থেকে চিরকাল বেশিই হয়৷ এবং রাখালরা

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

দেশ ও দশের মুখ কিছু কম উজ্জবল করে না৷

কিন্তু যাক সে নির্মল ছেলেবেলার কথা৷ বর্তমান সময়ে আরও একবার ‘শাস্তি’ শব্দটা আমাদের নাগরিক জীবনে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে৷ সাম্প্রতিক একটি মৃত্যুদণ্ডের প্রেক্ষিতে নাগরিক মহলে ফের প্রশ্ন উঠেছে, প্রাণ নেওয়ার মতো শাস্তি দেওয়ার অধিকার আদৌ রাষ্ট্রের থাকা উচিত কি না৷ বিতর্ক আজকের নয়৷ স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে যুক্তি আছে তাও ঠিক৷ কিন্তু এই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে যখনই রাষ্ট্র এরকম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়৷ ‘বাধ্য’ শব্দটি সচেতনভাবেই লিখলাম, কেননা, আমার মনে হয়, আমরা মানুষরা সভ্যতার নামে ঠিক যতটা বড়াই করি, ততোটাই সভ্য আমরা নই৷ একটা প্রাণ দেওয়ার ক্ষমতা যেমন কারও নেই, তেমন নেওয়ার ক্ষমতাও  কারও না থাকারই কথা৷ কিন্তু যে প্রশ্নটায়এসে আটকে যেতে হয়, এই যে রাষ্ট্রশক্তিকে পদক্ষেপ নিতে হয়, সে সুযোগ এখনও কেন দিয়ে চলেছি আমরা মানুষ? কেন বিদ্বেষের বিষদাঁত আজও সমূলে উপড়ে ফেলতে পারি না আমরা? সে কারণেই বোধহয়, অপরাধও পারসেপশনল হয়ে ওঠে৷ বিপ্লব  ও সন্ত্রাস দেখার চোখ পালটে গেলে এক মুদ্রার এ-পিঠ ও-পিঠ হয়ে পড়ে মাত্র৷ আবার এই যে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ একটি শাস্তিপ্রক্রিয়া, এতে বিনা অপরাধীরও শাস্তি হয়ে যেতে পারে, আকছার হচ্ছেও৷ আবার যে প্রকৃত দোষী, তার বিচারপ্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় জনগণের পকেট  থেকে তারই বা কি যুক্তি? সেক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি শাস্তিবিধান হওয়াই কি বাঞ্ছনীয় নয়?

এরকম বেশ কিছু প্রশ্ন নাগরিক মহলের চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি করছে বেশ কিছুদিন ধরেই৷ হয়ত এই সভ্যতার শোণিতে যে বিষ তাইই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে বাধা হয়ে  দাঁড়াবে৷ জটিলতার এ মহলা থেকে ও মহলা ঘোরাঘুরিই সারা হবে তারপর একদিন সব চাপা পড়ে যাবে৷  আবারও একটি অনঅভিপ্রেত ঘটনার সূত্রে হয়ত উঠে আসবে এই সব প্রশ্নই৷

তবু উত্তর আমাদের খুঁজে চলতেই হবে৷ অন্তত বৃহত্ত্র মানবতার স্বার্থেই তা একান্ত জরুরী৷

আজকের সংখ্যা সম্পর্কে আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭