11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n1-300x111

 

 রবeবার, 0৮.১১.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা ২৯

 এবারের মতো বাঙালির উৎসববেলার শেষ লগ্নটি সমাগতপ্রায়৷ যদিও আমাদের বারো মাসে তেরো পার্বণ৷ উৎসবের শেষ নেই৷ তবু শারদোৎসবের বেলাটিকে যদি প্রধান হিসেবে ধরা হয়, তবে দীপাবলিতেই তার ইতি৷আলোর ঝর্ণাধারায় ইতোমধ্যেই তো ভাসতে শুরু করে দিয়েছে বাঙালির ঘরদোর৷ সেই আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর মনকেমন থেকে মোমবাতির মৃদু জ্বলে যাওয়া স্নিগ্ধ আলো হয়ে আজকের এই এলএইডি উজ্জ্বলতা-উৎসবের আঙিনায় আলোরও কতরকম বিবর্তন হয়েছে৷আর যে কালো মেয়ের পায়ের তলায় এই আলোর নাচন দেখা যায়, তাঁকে নিয়েও কি কম গল্প! কেন যে সে কালো, কেন সে দিগম্বরী, কেন সে কালো হয়েও আলোর সাগরে ভাসিয়ে দেয়-এরকম বহু প্রশ্নই আমাদের মনে উঁকি দেয়৷ আমাদের এ সংখ্যায় থাকল সে সব কথা৷

আলোর উৎসব আসছে৷ আলোর খুব দরকারও আমাদের৷ অসহিষ্ণুতা প্রশ্নে রাজনীতির কারবারীরা যেভাবে খেলায় মেতে উঠেছেন তাতে অন্ধকার যেন তার সহস্র জিহ্বা দিয়ে আমাদের সবটুকু আলো শুষে নিতে চাইছে৷ এ অন্ধকার তো নতুন কিছু নয়৷ ইতিহাসের পাতা একে ভালোই চেনে৷অন্ধকারের এ সুড়হ্গ পেরিয়ে বহুত্ববাদের দরজায় পৌঁছে বহুবারই আলোর নিশানা মিলেছে৷ এবারও মিলবে আশা করা যায়৷ খটকা শুধু এই, যে মানুষ মঙ্গল অবধি পাড়ি দিচ্ছে, সে বুকের পাঁজরে এতখানি অন্ধকার জমিয়ে রাখেই বা কী করে৷ কোথাও কি তবে আলোর মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে৷ নাকি যে অন্ধকার উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা বহন করে চলেছি, তাকে দূর করবে এমন আলোর খোঁজ এখনও পায়নি মানুষ৷

অথচ আলো যে নেই, এমন কথা বিশ্বাস করতেও মন চায় না৷ নিশ্চয়ই আছে৷ শুধু অন্ধকারের মৌতাতে আমরা তা খুঁজে দেখি না এই যা৷ এবারের উৎসবে তাই কামনা হোক, সেই আলোটির খোঁজ পাওয়া৷ যে আলো মানুষ হিসেবে আমাদের আর একটু আলোকিত করবে৷

উৎসব সকলের ভাল কাটুক৷ নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭