সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল-এ নাকি স্রেফ মুখের কথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ যে বাঙালির ছেলে ফুটবলে লাথি না মেরে বড়ই হত না, সেই আজ হয় ভিডিও গেমে, নয় বড়জোর ক্রিকেটে৷ খেলাও আজ বিনোদন৷ আইপিএলের ছক্কার হরিলুটের ভিতর বাঙালির ফুটবল আবেগটাই কেমন ফিকে হয়ে গিয়েছিল৷ সম্বল বলতে ওই ডার্বির দিন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের একে অন্যকে দেখে নেওয়ার হুমকি আর

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

সেই সঙ্গে অজস্র অমৃতভাষণ, যা নিয়ে আলাদা একটা ময়দানের কথামৃত তৈরি হতে পারে৷ কিন্তু এ ছাড়া বাংলার ফুটবলের তেমন বিজ্ঞাপন কোথায়! আইএসএল হল বটে, কিন্তু সে তো কর্পোরেট হিসেবের ছকে বন্দি৷ সে ফুটবলে গতি ছিল ঠিকই, কিন্তু তাতে বাংলার ফুটবলের পালে তেমন হাওয়া লাগেনি৷ বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা জানতেন, ভারতের ক্লাবগুলির মধ্যে বাংলার ক্লাব যদি না সেরার জায়গা পায়, তবে বাংলার নিভু নিভু ফুটবল প্রদীপ কিছুতেই আর জ্বলবে না৷ কিন্তু এক দশকে সে সাফল্যের ছিটেফোঁটাও ছিল না৷ এহেন সময়েই পাঁচ বছরের ট্রফির খরা কাটিয়ে মোহনবাগান আই লিগ জিতল৷ নিঃসন্দেহে বাংলার ফুটবলের জন্য এ এক উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন৷

বহুদিন পর আবার ঘটি-বাঙাল তর্ক ভুলে বাঙালি হিসেবে বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা এক হলেন৷ এর মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যে টিপ্পনি কাটেননি তা নয়, কিন্তু তা ব্যতিক্রম৷ দেশীয় প্রেক্ষাপটে বাংলার জয়কে সকলেই বরণ করে নিয়েছেন৷ এই প্রবণতা বাংলার ফুটবলের কাছে বড় অক্সিজেন৷ এই আবেগ বাঙালির ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা কমেছিল৷ তাইই বাংলার ঘরে ঘরে যত মেসি-নেইমার ভক্তদের দেখা যায়, ততো শিল্টন-প্রীতমদের ফ্যানদের দেখা যায় না৷ বাংলার ক্লাব যদি আবার ফুটবল আবেগকে বাঙালির রক্তে ঢুকিয়ে দিতে পারে, তার থেকে ভালো কিছু আর হয় না৷ মোহনবাগানের এই জয়কে সামনে রেখে বাংলার সামগ্রিক ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিতে পারে৷

আমাদের এবারের সংখ্যা সেই ফুটবল আবেগকে উসকে দেওয়ারই প্রচেষ্টা মাত্র৷

রবিবারের এই সাহিত্যপ্রয়াস সম্পর্কে আপনাদের প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি৷ আরও মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭