11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

                                                                      রবeবার, ০৬.০৯.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা ২১

বড় অন্ধকার এ সময়৷ বড় বিষ চতুর্দিকে৷ আয়লানের নিথর দেহ আমাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে৷ মনে করিয়ে দিয়েছে, মানবতার ভূমি থেকে কত দূরে সরে গেছি আমরা মানুষ হওয়ার সাফাই গেয়ে৷ সংবাদ মাধ্যম প্রতিনিয়ত আমাদের জানিয়ে চলেছে, এ বড় সুখের সময় নয়৷  কোনও মা তাঁর সন্তানকে খুন করেছেন নিজের হাতে৷ কেউ বা তাঁর প্রেমিকাকে খুন করে ব্যাগে লাশ নিয়ে গঙ্গায় ফেলে দিতে গেয়ে ধরা পড়েছে৷ এ বড় অন্ধকারের সময়৷

অথচ এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না৷ মানুষ হিসেবে আমাদের যাত্রা হওয়ার কথা ছিল আলোর অভিসারে৷

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

অথচ মানুষ স্বেচ্ছায় বেছে নেয় অন্ধকারের সরণি৷কেন, প্রবৃত্তি? তা তো বটেই৷ প্রাগৌতিহাসিক এক অন্ধকার তো বোধহয় সবার মধ্যেই আছে৷ তবু সবাই তো সে অন্ধকারের আশ্রয় নেয় না৷ ঘচনাচক্রে অন্ধকার জগতে ঘোরাঘরি বেশি আলোকবৃত্তের লোকেদেরই৷সে আলো অবশ্যই অর্থ-ক্ষমতা-প্রতিপত্তির৷ প্রশ্ন হল কেন উপরমহলের মানুষরা অন্ধকারকে পুষে রেখে বাঁচতে ভালোবাসেন৷কোন প্রবৃত্তি একজন মাকে তাঁর সন্তানকে খুন করতে বাধ্য করায়৷ তলিয়ে দেখলে আমরা দেখব, এই তথাকথিত এলিট সম্প্রদায় আসলে একটি তৈরি হওয়াবর্গ৷ তাদের তৈরি করেছে অর্থ, তাদের ইন্ধন দিয়েছে প্রবৃত্তি আর তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে এই কাঠামো৷ সামাজিক ও রাজনৈতিক উভয়ই৷ অপরাধপ্রবণতা যতখানি প্রবৃত্তি তাড়িত, ততোখানিই এইফাঁপা কাঠামোর আশ্রিত৷ উপরমহলের অন্ধকারের মধ্যে তাই বিনোদনের রসদ, কেচ্ছার রগরগে গপ্পো না খুঁজে আমাদের চিনে নেওয়াদরকার সেই অন্ধকারের উৎসস্থলকে৷ কেননা আকই আশ্রয় ও প্রশ্রয় পেলে উপরমহল ছাড়িয়ে অনধকার যে নীচেও নামবে না, তার গ্যারান্টিই বা কে দেবে?

এ বড় সুখের সময় নয়৷ পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখের এ দিনে আজ অন্ধকারকেই যেন এলিট মনে হয়৷সত্যিই কি তাই?  আসুনঅন্ধকার চিনে ফেরা যাক আলোর অভিমুখে৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭