11206000_1456295311328382_4631279951288620442_n

                                                                 রবeবার, ০৪.১০.২০১৫, বর্ষ ১, সংখ্যা ২৫

ফুটবল নিয়ে বাঙালির উত্তেজনায় কোনওকালেই ঘাটতি নেই৷ মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বা ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা দ্বৈরথ সেখানে কোনও ফ্যাক্টর নয়৷ বাঙালি ফুটবল নিয়েই মেতে থাকতে ভালোবাসে৷ পাড়া ফুটবল হলেও চলে৷ মোহন-ইস্ট নাইবা হল, ক্লাবের ব্যানারে ‘মোহন-ইস্ট সমর্থক’ কথাটা লাগিয়েই বাঙালি ফুটবল উত্তেজনার আঁচ পোহায়৷ এহেন ফুটবলপাগল শহরে  প্রায় চার দশক আগে ফুটবল সম্রাট যখন পা রেখেছিলেন তখন সারা বাংলা মেতে উঠেছিল৷ কসমস টিমের হয়ে পেলে এসেছিলেন মোহনবাগানের সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে৷ তাঁকে আনার নেপথ্যে কৃতী ফুটবলপুরুষ ছিলেন ধীরেন দে মহাশয়৷ তখন না ছিল এখনকার মতো ‘লেটস ফুটবল’-এর যুগ, না ছিল টেলিভিশনে খেলা দেখার জলভাত অভ্যেস৷ সুতরাং ব্রাজিলিয়ান জাদুকরের সেই সফর বাঙালির কাছে অনেকটা ছিল রূপকথা চাক্ষুষ করার মতোই৷সেই নিঁখুত পাসিং,

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

সেই ব্যাকভলি, সেই চোখ ধাঁধানো স্কিল দেখার আশা তো ছিলই, তলেতলে বয়েছিল সেই চিরকালীন ঘটি-বাঙালের লড়াই৷ কেননা পেলেকে এনেছিল মোহনবাগান৷ আর তার আগেই ডার্বিতে পদ্মাপারের টিমের কাছে হার মেনেছিল গঙ্গার এপারের ক্লাবটি৷ ‘বাঙাল’ ইস্ট সমর্থকরা ধরেই নিয়েছিলেন, পেলের সামনে সবুজ-মেরুন তাঁবুর প্রতিরোধ তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়বে৷ কিন্তু শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্ত ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যাম থাপা, মহম্মদ হাবিবরা যে পেলের কসমসকে আটকে দেবে, এমনটা কস্মিনকালেও ভাবেননি অতিবড় কোনও বাংলার ফুটবল সমর্থক৷ তবু তাই-ই হয়েছিল৷টিপ্পনি কেটে কেউ কেউ নাকি বলেছিলেন, পেলে নয়, যিনি খেলেছিলেন তিনি তাবড় যাত্রাভিনেতা শান্তিগোপাল৷ যাকগে ইতিহাস তার বয়ানে অটুট৷

এ উত্তেজনা ৩৮ বছর আবার শহরে আসছেন পেলে৷ এ শহরের ফুটবল সংস্কৃতি এতদিনে অনেকটাই বদলে গিয়েছে৷ টেলিভিশনের বাড়বড়ন্তের ফলে জীবন্ত কিংবদন্তি পেলেকে দেখাও এখন আর ততোটা রূপকথাসুলভ নয়৷ তবু বাঙালি ফের পেলের আসা নিয়ে আনন্দে ডগমগ৷ আসলে ফুটবলের প্রতি বাঙালির চিরকালীন প্রেমে যে ভাঁটা পড়েনি, সে কথাই আবার প্রমাণিত হচ্ছে৷ তাছাড়া ৩৮ বছর আগের সে গল্প শুনে শুনেই যাঁরা বড় হয়েছেন, তাঁরাও সামসামনি একবার পেলেকে দেখে নেওয়ার সুযোগ যে ছাড়বেন না, সে কথা বলাই বাহুল্য৷

তবে এইসব আবেগের তলায় আরও একটি প্রসঙ্গ থেকেই যাচ্ছে৷ কসমস টিমকে রুখে দেওয়া দলের অন্যতম সদস্য সুব্রত ভট্টাচার্য এই সেদিনও বললেন, পেলের বিরুদ্ধে খেলা নয়, আগামী ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে হারাতেই তাঁরা বদ্ধপরিকর ছিলেন৷ কসমসের সঙ্গে ড্র বরং টনিকের মতো কাজ দিয়েছিল৷ এই টনিক এবারেও পাওয়া যাবে তো? মোহনবাগান আই লিগ জিতেছে৷ কলকাতা লিগ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল৷ আইএসএলের দৌলতে চোখধাঁধানো ফুটবলেরও সাক্ষী থাকা সম্ভব হচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে পেলের আসা যদি বাংলার ফুটবলের পক্ষে মঙ্গলকর হয়ে ওঠে, তবেই সার্থকতা৷ আশা করা যায়, শুধু আবেগ, উত্তেজনা আর গল্পে নয়, অল্প স্বল্প হলেও লাতিন আমেরিকার এক যুবকের বিশ্বসেরা হওয়ার পথটিকে খুঁজে পাবে ও অনুসরণে সক্ষম হবে বাংলার ফুটবল৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭