‘এপ্রিল ইজ দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ’ – কবি বলেছিলেন৷ সত্যি এপ্রিল বড় নিষ্ঠুর হয়ে দেখা দিল নেপালের কাছে৷ কিছুক্ষণের কম্পন৷ সাজানো স্থাপত্যের বাগান এক নিমেষে শুকিয়ে গেল৷ মৃত্যুমিছিল সীমাহীন৷ ধ্বংসের পরিমাণ হিসেব ছাড়িয়েছে৷ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া নেপাল আমাদের আরও একবার দেখিয়ে দিল জীবন-মৃত্যুর মধ্যে ভেদরেখা কত সূক্ষ্ম৷ যদি সময়ের হিসেবে তাকে

রানা দাস সম্পাদক-কলকাতা24x7
রানা দাস
সম্পাদক-কলকাতা24×7

রূপান্তরিত করা যায় মাত্র তবে তো মাত্র কয়েক পল৷

এই সব মূহূর্ত আমাদের জীবনের অনেক কাছে টেনে নিয়ে যায়৷ নাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সেফ’ নেটিফাই করার কথা বলছি না৷ কিংবা আগামি ভূকম্পের সম্ভাবনা জানিয়ে-যা কস্মিনকালে অতিবড় বিজ্ঞানীর পক্ষেও জানা সম্ভব নয়- তথাকথিত সামাজিক দায়িত্ব পালনের কথাও হচ্ছে না৷এইরকম ধ্বংসের, প্রকৃতির এহেন চরম মারের মুখে দাঁড়িয়ে আমাদের পিরে দেখা উচিত, প্রকৃতির প্রতি আমাদের কী কর্তব্য ছিল, আর আমরা তা কোন নীচতায় নামিয়ে নিয়ে গেছি৷যেহারে প্রকৃতি ধ্বংস চলছে, তাতে মনে হয় মানবসভ্যতা জীবন অপেক্ষা মৃত্যুকেই ভালোবাসে বেশী৷

তাহলে এই যে বিবর্তনের ইতিহাস, এই যে মানবসভ্যতার দীর্ঘদিনের কাহিনি জমা হয়ে আছে মহাকালের খাতায়, তা কি সেই মৃত্যু নামক শূন্যতা অভিমুখী! অবিনশ্বর নয় কিছুই, তবু জীবন মানে বেঁচে থাকার উৎসব বলে বিশ্বাস করতেই মন চায়৷ নচেৎ কেন সেদিন শ্রমিকরা তাদের অধিকার অর্জন করতে ঘাম রক্ত ঝরালেন? মৃত্যুর হাঁ-মুখে বিলীনের ভবিতব্য জেনেও এই যে বেঁচে থাকাকে প্রাণপণে উদযাপন, এই তো জীবনের শিল্প৷ আর কী আশ্চর্য এই মে মাসটি, অন্তত বাঙালির কাছে৷তার  শিল্প  ও সংস্কৃতির আঙিনায় একের পর এক জন্মদিনের শুভশঙ্খ বেজে ওঠার কথা৷  শিল্প, তা যে কোনও মাধ্যমই হোক না কেন, বলে ভালোবাসার কথা, শান্তির কথা, প্রেমের কথা এবং জীবনের উৎসবে সামিল হওয়ার কথা৷ বাঙালি মননে আজ তাই আমরা মনে করলাম শ্রম ও শিল্পের কথা, আসলে যা জীবনের জয়গান৷ তীব্র মৃত্যুর সামানাসামনি দাঁড়িয়ে, পড়শি দেশকে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠতে দেখে ভীত সন্ত্রস্ত আমরা, আসুন আর একবার জীবনের কাছাকাছি ফেরার চেষ্টা করি৷ আসুন বলি, ঝরাপাতা নয়, আমাদের ঘিরে থাকুক, কাঁচা ফসলের ঘ্রাণ৷

প্রতি রবিবার আমাদের এই প্রয়াস কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন৷

ভালো থাকার শুভেচ্ছা৷

রানা দাস

সম্পাদক

কলকাতা ২৪x৭