মাহফুজ সাদি

ঋতুরাজ বসন্তের সঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তিও নিয়েছে বিদায়। নতুন সূর্যের সঙ্গে এসেছে পহেলা বৈশাখ। চিরায়ত ঐতিহ্যের বৈশাখী সাজে সেজেছে বাংলা। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর বর্ণিল আয়োজনে সূর্যোদয়ে রাঙা প্রভাতের সূচনাতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে বাংলার প্রতিটি প্রান্তর।

বসন্ত মাখা ঝরঝরে চৈত্র গেলো রে
নতুন ভোরের স্বপ্নেরা ওই এলো রে।

সর্বত্র বাংলা নববর্ষ বরণের আয়োজন, উদযাপন সবখানে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে চির নতুনের আহ্বান সবার প্রাণে। পহেলা বৈশাখের কড়া নাড়ায় শুরু হয়েছে ১৪২৫-এর দিন গণনা। কোটি বাঙালি এখন বুনবে নতুন দিনের স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন সাফল্যের চিন্তা।

জরা জীর্ণ কালিমা সব নিচ্ছে বিদায়
নতুন আলো নতুন ভালোর সূর্যোদয়।

সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে জীবনের হালখাতার হালনাগাদ। বাইরে বৈশাখের রৌদ্র খরতাপ, ভেতরে সুন্দর সুচির মুগ্ধতার আবেশ। এ উচ্ছল ও উদ্দীপ্ত থাকার সাহস, শক্তি ও চাঞ্চল্য। নতুন বছরে এর চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কামনা আর কী হতে পারে!

নতুন খাতা নতুন পাতায় হালখাতা
সর্বজনীন মিলনমেলায় নকশি কাঁথা।

মুখোশের আড়ালে ছিলো যে অসুখ, ধসে পড়েছে সেসব খসে। তবে ঢেকে দিয়ে গেছে নিরাপত্তার চাদরে। এখন মুখে সবার প্রকৃতির আনন্দ। স্বস্তির মঙ্গল যাত্রায় ভর করেছে দানবীয় অমঙ্গলের অস্বস্তি। সমাজটাকে কুড়ে খাচ্ছে ওঁৎ পেতে থাকা পোশাকি পশুরা। ধুকছে মানুষ অথচ নেই কারো হুঁশ। বছর ঘুরে বাঙালির দুয়ারে হাজির উৎসবের পহেলা বৈশাখ।

বৈশাখ ডাকছে ডাক ঢোল হাকছে
হাতপাখার আনন্দধারা ঐ আঁকছে।

সোনার মানুষগুলোর মধ্যে দিনে দিনে হয়ে পড়েছে রূপার ফানুস। চোখে অমাবশ্যা দেখা গেলেও কানে বাজছে পূর্ণিমার আতশবাজি। এই ‌‘দিন বদলে’ হাওয়ায় ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে সবার- কতিপয়ের উন্নতি আর অন্যদের দুর্গতি। তবুও সবার জীবনে আসুক সুখ, হাসুক মুখ, থাকুক শান্তি, ডাকুক সমৃদ্ধি- সবার বিশুদ্ধতার শপথ সঙ্গোপনে ও সমস্বরে।

আয় আয় আয় রে ঘর ছেড়ে সব বাইরে
স্বপ্নের বাংলায় প্রত্যাশার জয়গান গাইরে।

পাদটীকা: চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গে আমারও অনিশ্চয়তা কেটে গেছে এবার। মুখোশ খসে যাওয়ায় সবার মুখ দেখতে পাচ্ছি আমি- সবাই চিনতে পারছে আমাকে। তাই প্রিয় আলপনাকে নিয়ে জল্পনার সঙ্গে কল্পনা যেন শেষ নেই-

আয় আয় আলপনা
তোকে নিয়েই আমার যত কল্পনা।