সর্বকার্য সিদ্ধিদাতা দেবতা নাকি গণেশ! তাঁর মাথা কাটা ঘিরে আজকের যুগের ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতারা সে যুগের প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে যতই নতুন তত্ত্বের অবতারণা করুন না কেন, সেই মাথা কাটার জেরেই কিন্তু গণেশ সমস্ত রকমের ঠাকুর দেবতার পুজোর আগে নিজের পুজো পেয়ে থাকেন। মানুষের মাথা কেটে হাতির মাথাকে নিজের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাইলেজে এভাবে সব ঠাকুর, দেবতার পুজোর আগে নিজের পুজোর ব্যাপারটি হাতিয়ে নেওয়া আদৌ মুখের কথা নয়।

গৌতম রায়

সে যুগেও দেবতাদের ভেতরে কি ‘পি আর’ এই গণেশ ঠাকুরের ছিল, তা খুব সহজেই বুঝতে পারা যায়। ছোটবেলায় ঘুম পাড়ানোর সময়ে, গল্প বলতে গিয়ে মা, দিদিমা, মাসিরা গণেশের উত্তর দিকে মুখ করে শোওয়া, আর তার দরুন নিজের মাথা কাটা যাওয়া, পরিণতিতে তাঁর নিজের মাথার জায়গায় হাতির মাথা বসানো– এসব ছেলে ভুলানো গল্পের ভেতর দিয়ে আমাদের সেই ৫০ বছর আগে, উত্তর দিকে মাথা দিয়ে শোয়াকে ঘিরে যে বেশ একটা ‘ভয় ভয়’ ভাব তৈরি করে দিয়েছিলেন। তা ভাবলে আজ প্রায় আধ বুড়ো বয়সে বেশ মজাই লাগে!

ভারতবর্ষে হিন্দুদের ঐক্য নিয়ে রাজনৈতিক হিন্দুরা যতই শোরগোল তুলুন না কেন, হিন্দুদের এই দেবদেবীকে ঘিরে অঞ্চলভেদে, হিন্দুদেরই মধ্যে কিন্তু বেশ অনৈক্য আছে বাংলায় দুর্গা ঠাকুরের ঘরের মেয়ে হিসেবে যতটা ব্যপ্তি, আদর-আপ্যায়ন, পরিচিতি, তেমনটা কিন্তু হিন্দি বলয়ে নয়। আবার হিন্দি বলয়ে নবরাত্রির যে ব্যক্তি ও জনপ্রিয়তা, তার সঙ্গে বাংলার জনসমাজ তেমন একটা পরিচিত নয়। কলকাতা, রাঢ় বাংলা, এমনকি উত্তর বাংলাতেও দুর্গা প্রতিমার মুখশ্রীর যে আদল, সেই আদরের সঙ্গে পাহাড়ে পূজিতা দুর্গা প্রতিমার মুখের আদলের আদৌ কোনও মিল নেই। এদিকে দুর্গা প্রতিমার মুখের আদলের সঙ্গে বাংলার ঘরের মেয়ের মুখের আদলে সাযুজ্য সবথেকে বেশি। আবার পাহাড়ে পূজিতা দুর্গা প্রতিমার মুখের আদলের সঙ্গে সেখানকার নেপালি মেয়েদের মুখের আদলের সাদৃশ্য সবথেকে বেশি লক্ষ্য করা যায়।

এই যে গণেশ ঠাকুর, তিনি কিন্তু এতকাল ব্যবসায়ী মহলে সব থেকে বেশি সমাদৃত হতেন। আর তাঁর সমাদর ছিল মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। মহারাষ্ট্রে গণেশ উৎসবকে ঘিরে জাতীয় আন্দোলনের সময়কালে হিন্দু পুনরুত্থাণবাদী চিন্তা-চেতনার বিকাশ– বেশ ভালভাবেই হয়েছিল। গণেশ উৎসব এবং তার পাশাপাশি ‘শিবাজী উৎসব’, যাকে খানিকটা রাজনৈতিক দ্যোতনা দিয়েছিলেন বিশ শতকের প্রথম ভাগের চরমপন্থী রাজনৈতিক নেতা বালগঙ্গাধর তিলক। এখন মহারাষ্ট্রের ভৌগলিক পরিমণ্ডল অতিক্রম করে একটা জাতীয় প্রেক্ষিতে জায়গা করে নিয়েছে।

উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের বিকাশের ক্ষেত্রে পুনরুত্থাণবাদী চিন্তা ধারা বাংলাতে যেমন একটা বড় আকার ধারণ করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে আমরা বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’, ভবানী মন্দিরের ধ্যানধারণা, ‘বন্দেমাতরম’ সংগীত ইত্যাদি পেয়েছি, তেমনি এই পুনরুত্থাণবাদী ধারণা জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশে মহারাষ্ট্র গণেশ পূজাকে কেন্দ্র করে বহুলাংশে বিস্তৃতি লাভ করেছিল।

বস্তুত বালগঙ্গাধর তিলকের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে উনিশ শতকের শুরুতে গণেশ চতুর্থী পালনের যে আড়ম্বর ধীরে ধীরে সেখানকার একটি উৎসবে পরিণত হয়, তার অতীত ইতিহাস কিন্তু খুব একটা পাওয়া যায় না। বাংলাতে যেমন শরৎকালের দুর্গাপূজাকে ঘিরে কিছু বনেদি বাড়ির পুজোর কয়েক শতকের পুরনো বর্ণনা আছে। পরবর্তীকালে অষ্টাদশ শতকের শেষ লগ্ন থেকে বারোয়ারি উদ্যোগে দুর্গোৎসব পালনের ইতিহাস আছে, গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে কিন্তু তেমন দীর্ঘকালীন কোনও ইতিহাস মহারাষ্ট্রের সামাজিক জীবনে দেখতে পাওয়া যায় না।

উনিশ শতকে মহারাষ্ট্রে বাল গঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বে যে হিন্দু পুনরুত্থাণবাদী চিন্তা-চেতনার ভেতর দিয়ে জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনা বিকাশ লাভ করে, তার পাশাপাশি কিন্তু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জ্যোতিবা ফুলের নেতৃত্বে সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও যথেষ্ট ব্যপ্তি পেয়েছিল। জ্যোতিবা ফুলের নেতৃত্বে সমাজ সংস্কার আন্দোলন মহারাষ্ট্রের ভৌগোলিক গণ্ডি অতিক্রম করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অংশ অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল।

বালগঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন মহারাষ্ট্রে ব্যপ্ত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের ভেতরে সবথেকে বড় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল ‘মারাঠি অস্মিতা’। অপরপক্ষের জ্যোতিবা ফুলের নেতৃত্বে যে সামাজিক আন্দোলন মহারাষ্ট্রে গড়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনের ভেতরে কোনও আঞ্চলিক অস্মিতা আদৌ ছিল না। কোনও ধরনের জাতপাত ভিত্তিক, সম্প্রদায় ভিত্তিক পক্ষপাতিত্বের প্রতি জ্যোতিবা ফুলের চিন্তা-চেতনা কোনও অবস্থাতেই বিকশিত হয়নি।

সাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে, জাতপাত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, অশিক্ষার বিরুদ্ধে, স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে, সামাজিক অবক্ষয় রোধে জ্যোতিবা ফুলে তাঁর আন্দোলনকে পরিচালিত করেছিলেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জ্যোতিবা ফুলে তাঁর আন্দোলন কে পরিচালিত করেছিলেন।

এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনও অবস্থাতেই হিন্দু পুনরুত্থানবাদী ভাবনা কখনো মিলে মিশে যায়নি। এটা গিয়েছিল বালগঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন আন্দোলনের ভেতরে। বিশেষ করে গণেশ চতুর্থী এবং শিবাজী উৎসব ঘিরে বালগঙ্গাধর তিলক এবং তাঁর সহযোগীরা যে ধরনের ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ঘটিয়েছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক অর্থে প্রয়োগ করেছিলেন, তা মহারাষ্ট্রের হিন্দু সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনাকে একটা রাজনৈতিক পরিব্যাপ্তির দিকে পরিচালিত করেছিল।

জাতীয় আন্দোলনের গোটা সময়কাল ধরেই মহারাষ্ট্রে গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের আবেগ কাজ করলেও বাংলায়, বিশেষ করে বাঙালি মানুষজনের ভেতরে গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে খুব একটা আবেগ, খুব একটা উচ্ছ্বাস কোনও কালেই ছিল না। মিশ্র ভাষাভাষী অধ্যুষিত শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলো, যেখানে হিন্দিভাষী লোকজন একটু বেশিই থাকেন, তাঁদের ভেতরে গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে সামান্য কিছু আবেগ এককালে দেখা গেলেও, গত কয়েক বছর ধরেই গণেশ চতুর্থী যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক জীবনে কার্যত শারদ উৎসবের মতো একটা জায়গা করে নিতে শুরু করেছে, তেমনটা কিন্তু আগে ছিল না।

এই ধর্মীয় আবেগ, ধ্যানধারণার ভেতরেও বাংলার বাইরের বিভিন্ন অংশের যে প্রভাব ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তাতে বাংলার সাধনার যে একান্ত নিজস্ব ধারা, ভক্তিবাদী ধারা, সেটি কতখানি তার অতীতের ঐতিহ্য নিয়ে টিকে থাকতে পারছে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতেই পারে।

শ্রীরামকৃষ্ণ বাংলার তথা সমসাময়িকতার আধ্যাত্মিক চিন্তা-চেতনার প্রেক্ষাপটের নানা আলোচনা নানা সময় করেছেন। তিনি কিন্তু বারবার সমসাময়িক আধ্যাত্মিক চিন্তা-চেতনার মূলধারা হিসেবে ভক্তিমার্গের উপরে সব থেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। আড়ম্বর, নানা ধরনের পূজার উপাচার ইত্যাদির পরিবর্তে ব্যাকুলতার সঙ্গে ঈশ্বরের প্রতি আকর্ষণের দিকেই তিনি সব থেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত হিসেবেও তিনি যে স্বল্পকালীন সময়ে কর্মরত ছিলেন, সেই সময় কালে ও তাঁর জীবনচর্চার ভেতরে দেখা যায় দেবী অর্চনার প্রচলিত নানা ধরনের বিধি-বিধানের পরিবর্তে এক ধরনের মরমি আকুলতাকে। এই মরমী আকুলতাকেই শ্রীরামকৃষ্ণ সব থেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য বাংলায় ভক্তি আন্দোলনকে একটা নতুন মাত্রা দান করেছিলেন। পাঁচশো বছরের পুরনো সেই ভক্তি আন্দোলন কে আরও সময়োপযোগী, ভারতবর্ষের চিরন্তন সমন্বয়ী চিন্তা-চেতনার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ, ধর্মনিরপেক্ষ একটা বোধের উপর উপস্থাপিত করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ।
সারদা দেবী বা শ্রীরামকৃষ্ণের মানুষ-পুত্র স্বামী বিবেকানন্দ, তাঁর প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এই ভাবধারার ই প্রচার ও প্রসার গোটা বিশ্বব্যাপী করেছে।

ভারতবর্ষে গত তিরিশ বছর ধরে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের যে ভয়াবহ তীব্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে হয় যে; চৈতন্য, নানক, কবীর, তুকারাম থেকে শুরু করে শ্রীরামকৃষ্ণের যে সমন্বয়ী, ভক্তিবাদী ভাবধারা, যা ভারতবর্ষের হাজার হাজার বছরের আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি সবকিছু সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল, সেই ভাবধারা আজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে বসেছে।

ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ভেতরেও এমন কিছু সংস্কার ঢুকে পড়ছে, যে সংস্কারগুলি বাংলার আধ্যাত্বিক চর্চার ক্ষেত্রে অতীতে ছিল না। হারিয়ে যেতে বসেছে লোকায়ত সংস্কৃতি নির্ভর হাজার রকমের লোকাচার, ব্রত ইত্যাদি। এসবের ভেতর দিয়ে কিন্তু জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ভেতরে, বিশেষ করে মহিলা সমাজের ভেতরে এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ববোধ, পরস্পরের প্রতি ভাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি, সহনশীলতা, সম্প্রীতি, প্রেম, ভালোবাসার শিক্ষা দেয়া হত, সেগুলি এখন বাংলা সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে প্রায় অদৃশ্য হতে বসেছে।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার এই হাজারো রকমের, হাজার বছরের সমন্বয়বাদী সংস্কৃতির সঙ্গে, বৈচিত্রময় সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ব্রত, পালা-পার্বণ ইত্যাদিকে সংগ্রহ করে, সেগুলির ভেতরে যে সমাজতত্ত্বের একটি গভীর মূল্যবোধ রয়েছে, সেই মূল্যবোধটিকে বিশ্বের দরবারে হাজির করেছিলেন।
সেসব আজ বাংলার সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যেতে বসেছে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের ভেবে দেখা দরকার, মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণেশ চতুর্থীকে বাংলা তথা বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম করতে গিয়ে আমরা বাংলা এবং বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক চরিত্রগুলিকে কতখানি বজায় রাখতে পারছি। বারোয়ারি গণেশ চতুর্থীর ভিতরে রাজনীতির লোকেদের ক্ষমতা দখলের আস্ফালন, এলাকা দখলের লড়াই, টাকার গরম, হাড়ের গরম– এসব খুব ভালোভাবেই ফুটে ওঠে।

ধর্মের রীতিনীতি, আচার-আচরণ কতখানি সুষ্ঠভাবে মান্য করা হয়, সেইসব প্রশ্নের ভেতরে যাবার মতো সময় গণেশ চতুর্থী পালনকারীদের কোথায়? মহারাষ্ট্রে একসময় দেশপ্রেমের বিকাশের লক্ষ্যে এই হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তা-চেতনাকে আশ্রয় করে বালগঙ্গাধর তিলকের মতো মানুষজনেরা মারাঠি সংস্কৃতির ভেতরে যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা দায়িত্ববোধ, সম্প্রীতির ভাবনার প্রসার করতে চেয়েছিলেন, সেই সমস্ত পর্যায়গুলি এখন বিত্তবান সমাজের হাতে কার্যত বন্দি।

মহারাষ্ট্রে, বিশেষ করে মুম্বাই শহরে গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে যে ধরনের আবেগ, আস্ফালন ইত্যাদি চলে সেগুলির পেছনে সমাজের উচ্চবর্ণের, উচ্চবিত্তের মানুষজনদের একমাত্র আধিপত্য থাকে। কটা গরীব মানুষ এই গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে নতুন পোশাক পান? পেট ভরে ভালোমন্দ খেতে পান? একটু মানসিক স্বস্তি পান? পারিবারিক আনন্দ পান?– এসব প্রশ্ন না হয় উহ্যই রইল।

একই কথা প্রযোজ্য বাংলার বুকে আজ যে আড়ম্বরের, টাকার দাপটের দুর্গোৎসব চলে, কোন পাড়া কোন পাড়াকে টেক্কা দিতে পারে– তার প্রতিযোগিতা চলে সেসব সম্পর্কেও। উনিশ শতকে বা তারও আগে অষ্টাদশ শতকে কলকাতাকে কেন্দ্র করে যে নবউত্থিত বাঙালি হিন্দু ধনী পরিবারগুলি দুর্গোৎসবের আয়োজন করতেন সেই সময় এইসব পরিবারগুলি পরস্পরের ভিতরে প্রতিযোগিতায় মাততেন।

সেই প্রতিযোগিতার ভিতরে বৈভব একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ালেও গরীবের কিন্তু খানিকটা ঠাঁই ছিল। গরীব মানুষ দুর্গোৎসবের সেই চারটে, পাঁচটা দিন কলকাতা বা মফস্বলের বনেদি বাড়িগুলোতে পেট পুরে খেতে পেত। নতুন কাপড় পেত। দুর্গোৎসবের কালে এইসব বনেদি বাড়িগুলিতে যেসব আমোদ আয়োজন হত, সেই আমোদ আয়োজনের উপভোগের ক্ষেত্রে সমাজের একদম নিম্নবর্ণের, নিম্নআয়ের, নিম্নপেশার মানুষজন কিন্তু সম্পূর্ণ ব্রাত্য থাকতেন না।

এই সামাজিক প্রেক্ষিতটা যে প্রবল ভাবে বদলে গেছে, সেদিকে না নজর আছে রাজনীতিকদের, না নজর আছে সমাজকর্মীদের, না নজর আছে দুর্গোৎসব থেকে গণেশ চতুর্থী কিংবা বড়দিন থেকে মুহররমকে ঘিরে যারা খুব ভারী ভারী সন্দর্ভ রচনা করেন, সেইসব মানুষজনদের!