মাহফুজ সাদি
মাহফুজ সাদি

প্রতিবছরই বসন্ত আসে ধরায়। প্রকৃতি রূপ বদলায় ষড়ঋতুর বাংলায়। পুরাতন পাতা ঝড়ে যায়। গাছের ডালের ডগায় গজায় নতুন পাতা। নানা রঙের ফুল ফোটে। পাখিরা সুর তোলে। মাটে-মাঠে-ঘাটে বাসন্তী সাঁজে বাঙালি রমণীরা। এ যেন বাহারি রঙের উস্কানি। প্রকৃতির যখন এই অবস্থা তখন কি আর বসে থাকতে পারে আমির? একে বারেই না। যদিও আমির জন্মান্ধ তাতে কী! তার বুঝি সাদ-আহলাদ থাকতে নেই! আমিরের একজোড়া চোখে আলো নেই ঠিকই কিন্তু অন্তর চোখ অত্যন্ত প্রখর। সে চোখ দিয়ে সব কিছু একেবারে নিখুঁতভাবে অনুভব করতে পারে সে। বলা হয়- জন্মান্ধদের অনুভূতি শক্তি নাকি দৃষ্টিশীলদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি থাকে। থাকে বাদুরের মতো অধিক শ্রবণ ক্ষমতা এবং সাপের মতো তীব্র ঘ্রাণ শক্তি। পহেলা ফাগুনে তাই সুভাষ বাবুর সাথে গলা মেলায় আমির- ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত’।

আমির জানে চোখ দিয়ে বসন্ত দেখা যায় না। বসন্ত শুধু অনুভব করা যায়। কিন্তু যাদের চোখ আছে তারা সবাই কি বসন্তের দেখা পায়? সে প্রশ্নের উত্তর আমিরের কাছে নেই। বাঙালি নারীদের কাছে বসন্তের কী রূপ? তারা কি বসন্তের দেখা পায় নাকি বাসন্তী শাড়িতেই লুকায়? যে রুদ্র-বসন্তের অপেক্ষায় কেটেছে তারা কাটিয়েছে হাজারটি মাস। এমন অনেক জিজ্ঞাসা এবার বসন্তে ঘিরে ধরেছে আমিরকে। এর আগেও অন্তত ১২টি বসন্ত পার করেছে সে। কিন্তু বসন্তের সেসব প্রথম অনুভূতি ততটা আলোড়িত করেনি আমিরকে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে তার মধ্যে নতুন এক অনুভূতি জাগ্রত হয়েছে। এবার বসন্তে তার ভাবনায় শুধু নারী এবং বাসন্তী শাড়ি। এই বিশেষ আগ্রহের কারণ এবং নতুন অনুভূতি বসন্তের নাকি কৈশোরের তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

প্রথম বসন্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বান্ধবীর দেয়া ডাইরিটার ঠিক প্রথম পাতায় লিখেছে আমির-
কে দেখেছে বসন্তের রুদ্র-রূপ?
ফাগুনে আগুন লাগে শিমূল পলাশ ডালে
সেই তাপে লাল টোল কুসুম কুমারীর গালে;
বাঙালি রমণীর কাছে বসন্তের অন্য রকম মানে
মনে না ধরে তারে সস্তা গোলাপ-জিপসি টানে
বাসন্তী চাদরে মুড়িয়ে মজ্জায় লজ্জা পালে
বাইরে লাল ভেতরে জঞ্জাল, ধ্বংসস্তুপ।