বিশেষ প্রতিনিধি: যুগ বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি সেই ট্র্যাডিশন৷ আজও স্বমহিমায় অটুট চৈত্র সেল৷ ছোট থেকে বড় সব ব্যবসায়ীরই এক কথা– বছরভর আমরা এই একটা মাসের জন্য অপেক্ষা করি৷ কারণ, চৈত্র সেল মানেই যে লক্ষ্মী লাভ! গ্রাম বাংলার আমআদমির কথায়: চৈত্র সেল মানেই বাড়িতে নতুন জামা কাপড়ের গন্ধ!

একটু অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বাঙালির দুর্গা পুজো, লক্ষ্মীপুজোর মতো চৈত্র সেলও চলে আসছে সেই প্রাচীন কাল থেকে৷ স্থায়ী দোকান তো বটেই, এই এক মাস অনেকে রাস্তার ওপর অস্থায়ী দোকান তৈরি করে জামা, কাপড় নিয়ে বসে পড়ে৷ অতীতের সেই ট্র্যাডিশন কিন্তু ভীষণভাবে অটুট রয়েছে এই ৪জি ওয়াইফাইয়ের যুগেও৷ ফলে এই ২০১৮ সালেও কলকাতা থেকে কাকদ্বীপ, কিংবা লালগড় থেকে লালগোলা– সর্বত্রই রাজপথের দু’দিকে যেদিকে তাকাবেন- শুধু সেল, সেল আর সেল৷ জামা, কাপড়ের পাশাপাশি বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপরেও এই সময় সেল দেওয়া হয়৷ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়! স্বভাবতই, সর্বত্রই ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ার দৃশ্য চোখে পড়ে৷

কেন দেওয়া হয় চৈত্র সেল? এই নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে৷ একাংশের মতে, চৈত্রের পরই বৈশাখ, অর্থাৎ নতুন বাংলা বছরের সূচনা৷ সে কারণে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই সময় সবাই পরিবারের নিকটজনদের নতুন জামা কাপড় উপহার দিয়ে থাকেন৷ ফলে চৈত্র সেলকে ঘিরে ফি-বারই কার্যত উৎসবের চেহারা নয় সারা বাংলা৷ অন্য আরেকটি অংশের মতে, বাংলা নববর্ষে অধিকাংশ ব্যবসায়ী হালখাতা করে থাকেন৷ হালখাতা অর্থাৎ গত বছরের ব্যবসার হিসেব নিকেশ শেষ করে নতুন বছর থেকে ফের নতুন করে ব্যবসার হিসেব নিকেশের খাতা তৈরি করা হয়৷

এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘নতুন বছরের গোড়া থেকে দোকানে আবার জিনিস ঢুকতে শুরু করে৷ বছরভর এভাবে জিনিস ঢোকে দোকানে৷ অনেক জিনিস হয়তো মাসের পর মাস পরে থাকে, বিক্রি হয় না৷ আবার সেগুলো ডিলারের কাছে ফেরৎ পাঠানোও অসম্ভব৷ সেকারণেই এই সময় কিছুটা কম দামে সেই সব জিনিস বিক্রি করে দোকানের গো-ডাউন খালি করে দেওয়া হয়৷’’

কারও কারও মতে, আদতে সেলের কথা বলা হলেও সেই অর্থে সস্তায় জিনিস মেলে না৷ একটি দোকানের এক কর্মচারির অপকট স্বীকারোক্তি, ‘‘ধরা যাক কোনও জিনিসের দাম ১০০ টাকা৷ এই সেলের আগে সেই জিনিসের দামটিকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করে দেওয়া হল৷ তার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হল অর্থাৎ মোট দামের ওপর ৪০ টাকা ছাড় পেলেন ক্রেতা৷ তাহলে কি দাঁড়ালো? জিনিসটার দাম যা ছিল, তাই হয়ে গেল!’’

যদিও একাংশের মতে, তুলনামূলকভাবে সস্তাতেই জিনিস পাওয়া যায় চৈত্র সেলে৷ ফলে বছরভর অনেকেই মুখিয়ে থাকেন এই সময়টার দিকে৷ ইতিমধ্যে সেলের ১৫ দিন অতিক্রান্ত৷ সর্বত্র কেনাকাটার জন্য থিক থিক করছে ক্রেতাদের ভিড়৷ ব্যস্ত বিক্রেতাও৷ চারদিকে ঝলমলে আলোয় সেজে উঠছে দোকান৷ সর্বত্রই যেন কেমন একটা উৎসব উৎসব ছোঁয়া! হুজুগে বাঙালির যে ১২ মাসে ১৩ পার্বণ না হলে চলে না!