সৌমাভ

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিরানব্বই বছর বয়সী মালায়ালি সাহিত্যিক অক্কিতম পেলেন ২০১৯ সালে ৫৫তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। পুরো নাম অক্কিতম অচ্যুতন নাম্বুদিরি। ২০০৭ সালে ও এন ভি কুরুপের পর মালায়ালি ভাষায় তিনি পেলেন ভারতবর্ষের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ শিরোপা; প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মালায়ালি ভাষায় তাঁর আগে পাঁচজন পেয়েছেন এই বিরল সম্মান।

জ্ঞানপীঠ বোর্ডের চেয়ারপার্সন প্রতিভা রয় জানালেন, “Akkitham’s poetry reflects unfathomable compassion, imprints of Indian philosophical and moral values and a bridge between tradition and modernity, delves deep into human emotions in a fast-changing social space”। মালায়ালি সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম এই কবি একজন প্রকৃত গান্ধিবাদী, সমাজ-সংস্কারক ও সাংবাদিক। জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাওয়ার পর সুরসিক ও বিনয়ী কবি জানালেন—”I am happy to get this highest honour though many other better writers of the yesteryear missed it. Maybe I lived more year than them”।

১৯২৬ সালে কেরালার পাল্লাকাদ জেলার কুমারানাল্লুরে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তাঁর কবিতা লেখার শুরু। কবি, প্রাবন্ধিক, উপলন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, নাট্যকার, অনুবাদক ও সম্পাদক হিসেবে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি মোট ৫৫ বই এর রচয়িতা, তাঁর মধ্যে ৪৫ টি কবিতার বই। তাঁর কিছু বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কীর্তি হল— ‘বীরাবদম’, ‘কথা কাব্য’, ‘অমৃত কথিকা’ ‘নিমিশা ক্ষেত্রম’, ‘অন্তিমকলম’, ‘চরিত্র কাব্য’, ‘বালিদর্শনম’, ‘এপিক অফ দি টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ প্রভৃতি।

“উন্নি নাম্বুদিরি” পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তাঁর পেশার শুরু; পরবর্তীকালে তিনি “মঙ্গলোদ্যম”, “যোগাক্ষেমন” প্রভৃতি ম্যাগাজিনে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৫৬ সাল থেকে দীর্ঘদিন অল ইন্ডিয়া রেডিওর কেরালার কোঝিকোড় কেন্দ্রে তিনি সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে ‘বালিদর্শনম’ বইয়ের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। এছাড়া পেয়েছেন ললিতঅম্বিকা সাহিত্য পুরস্কার, মূর্তি দেবী পুরস্কার, মাত্রুভূমি পুরস্কার, কেরালা সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার (১৯৭২, ১৯৮৮), আসান, ওড়াকুজ্ঝল, নালাপ্পড়, ভায়ালার, এজুথাচান, কবীর সম্মান প্রভৃতি পুরস্কার।

১৯৪৭ সালে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে পালিয়াম সত্যাগ্রহে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। বেদ দর্শনে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য; অনুবাদ করেছেন ‘শ্রীমদ ভাগবত’ যা ২৪০০ পাতার এক মহান কীর্তি ও মোট ১৪৬৩১ শ্লোক নিয়ে তৈরি। ১৯৫২ সালে তাঁর অবিস্মরণীয় সাহিত্যসৃষ্টি ‘ইরুপাথাম নুত্তানদিন্তে ইথিহাসাম’ মালায়ালি সাহিত্যের এক মাইলস্টোন এবং সমালোচকদের মতে মালায়ালি সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত ঘটে এই লেখার হাত ধরেই।

তাঁর লেখার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় মালায়ালি জীবনবোধ ও যাপন, সরল অথচ গভীর দর্শন, মানবিক অনুভব, মূল্যবোধ ও সর্বোপরি সনাতন ভারতীয় জীবন দর্শন। অপরূপ ও অনুনকরণীয় দক্ষতায় তিনি তাঁর লেখায় মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন সনাতন ও আধুনিকতার, আবহমান ও নতুনতার।