২০১৭ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর ট্রান্স-সুপারস্টার বাক অ্যাঞ্জেলের একটি সাক্ষাৎকার নেন হলি। সাক্ষাৎকারটি বাকের বেশ পছন্দের। সেই সাক্ষাৎকার থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ অনূদিত হল।

অনুবাদক— প্রীতিলতা কয়াল

হলি : আপনি যখন হাইস্কুলে পড়তেন, তখন আপনি কীরকম ছিলেন? কাদের সঙ্গে থাকতে বা সময় কাটাতে ভালো লাগত আপনার? কোনও ডেটিং…?

বাক অ্যাঞ্জেল : হাইস্কুলে যখন পড়তাম, তখন খুবই লাজুক ছিলাম আর নিজেকে গুটিয়ে রাখতাম সবসময়। দৌড়নোর একটা প্রবল ইচ্ছেই আমাকে ওই স্কুলে টিকিয়ে রেখেছিল। আমি খুবই ভালো খেলোয়াড় ছিলাম। না হলে আর কী! বন্ধুবান্ধব বলতে গুটিকয়েক। আসলে আমি খুবই একা। আমি কখনোই নিজের মত করে নিজেকে ভাবতে পারতাম না। তবে হ্যাঁ, একটা সময় ছিল যখন আমি ছুটতাম, আর ছুটতে ছুটতে মনে হত আমি আসলে একটা ছেলে।

আমার কাছে আমার জীবনটা একটা যুদ্ধ। না, ঠিক একটা নয়, অনবরতভাবে একটার পর একটা যুদ্ধ। জীবনে অনেক নতুন নতুন জগতে প্রবেশ করেছি। কিন্তু লড়াইগুলো সবসময় থেকেছে।

ডেটিং! হা হা হা …! আমি গোপনে গোপনে সমকামী ছিলাম তাই আমার মনে হত যেন পৃথিবীটা আমার জন্য নয়। আসলে তখন সত্তরের দশক। ফলে বুঝতেই পারছ, রূপান্তরকামীদের কোন জায়গাই নেই পৃথিবীতে। আমি যখন বলতে চাইলাম যে আমার নিজেকে পুরুষ বলে হয়, আমাকে ধরে বেঁধে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হল। সবাই ভেবেছিল আমি গে। আসলে গে আর রুপান্তরকামীদের পার্থক্যই বুঝত না মানুষ। এমনকি আমার প্রেমিকাও আমাকে নিয়ে যৌন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। জীবনে এমন একটা বয়স আসে, যখন তুমি দেখছ যে তোমাকে কেউ বুঝছে না, তখন খুব ঘাতক হয়ে উঠতে ইচ্ছে করে। আমিও চেষ্টা করেছি আত্মহত্যা করার, অনেকবার। সবকিছু যেন কেমন একটা লাগত তখন।

হলি : আপনি ইন্ড্রাস্টিতে ঢোকার আগে কি পর্ন ফ্যান ছিলেন?

বাক : হ্যাঁ। আমার খুব মনে পড়ে, আমার বয়স যখন কুড়ির কাছাকাছি তখন আমি পর্নস্টার হতেই চেয়েছিলাম। সত্তরের দশকের পর্ন আমার চিরকালই পছন্দের পর্নস্টাইল। কারণ ওখানে তখনও সম্পূর্ণ বিষয়টাই আসল ছিল। স্ত্রীযোনিকেশ দেখানো হত। যৌনমিলনের কোথাও মেকি ব্যাপারটা ছিল না। এর ছাপ পড়ত তাদের মুখে, এমনকি অর্গাজম-ও। চলচ্চিত্রের মত করেই দেখানো হত সবটা। আমার মনে পড়ে আমি আমার মা-বাবার এক বন্ধুর বাড়িতে বসে পর্ন দেখেছিলাম প্রথম।

হলি: বেশ। তো আপনি পর্ন অভিনেতা হয়ে উঠলেন কীভাবে? কোন্‌ কোন্‌ বিষয়গুলো আপনার জীবনের এই পথটাকে প্রশস্ত করল?

বাক: আমি ফেটিস ফিল্ম ১ বানাতাম। আমার স্ত্রী ইলসা স্টিক্স খুবই বিখ্যাত ডমিনাট্রিক্স ২। ওর সঙ্গে বিশেষত ডমিনাট্রিক্স ছবিই বানাতাম। আমাদের লস অ্যাঞ্জেলসেই শুট করতাম। এগুলো ভি এইচ এস-এ৩ থাকত। কিন্তু ২০০০ কি ২০০১ সাল নাগাদ এই সব স্ট্রিমিংগুলো হারিয়ে যেতে শুরু করল। তখন আমরা একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে এগুলো রাখতে শুরু করলাম। তখন একজন রূপান্তরিত পর্নস্টার সাইগন লী আমাকে ওয়েবমাস্টার হওয়ার কথা বলল। আমি ওর সঙ্গে কাজ শুরু করার পর বুঝতে পারি যে, এই পর্নজগতে অনেক রূপান্তরিত নারী থাকলেও রূপান্তরিত পুরুষ নেই। কিন্তু শুনলাম একজন আছেন – ক্রিস্টোফার লী। হ্যাঁ, তিনিই আমার সব ধারণার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। আমি ভাবলাম, এই জগতে এমন মানুষ আছে যারা ঐ ‘চিকস উইথ ডিকস’ কিন্তু এমন কেউ নেই যে ‘অ্যা ম্যান উইথ পুসি’। সবাই শুনে খুব বাহবা দিল। সেই থেকেই আমার পথচলা শুরু।

হলি : আচ্ছা, রূপান্তরিতদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সবথেকে কোন্‌ জিনিসটা আপনি বেশি উপভোগ করেন?
বাক : সবকিছুই। কাস্টিং, অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালনা সবকিছুই। আরও ভালো লাগে যখন একটা নির্দিষ্ট ঘেরাটোপের বাইরে বেরিয়ে আমি কোনও কাজ করতে পারি। অর্থাৎ অ-প্রথাগত পর্নোগ্রাফি। এর মাধ্যমে আমি পর্নকে, বলতে পার, একটা নতুন জায়গা দিতে চাই। মানুষ হয়তো একদিন এর মূল্য বুঝবে।

হলি: ভালোবাসাটা কীভাবে হবে, এ বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষই ভুল পথে যায়, আপনার কী মনে হয়?
বাক : দেখো, আমি শুধু আমার দিক থেকেই উত্তরটা দিতে পারি। আমার মনে হয় যে, যৌনতা ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রথমত, তুমি তোমার শরীরের সঙ্গে কতটা সুখী আর দ্বিতীয়ত সংযোগটাকে তুমি কতটা অনুভব করছ।প্রথমে যৌনসঙ্গমটা শেখা দরকার।

হলি : বেশ। আপনি তো মনে করেন যে আপনার ‘মাস্ট ওন’ ডিভিডিগুলো প্রত্যেকের দেখা উচিত। এগুলো আসলে কী?
বাক : এগুলো রূপান্তরিত মানুষদের নিয়ে একটা সিরিজ – ‘বাকব্যাক মাউন্টেইন এন্ড সেক্সিং দ্য ট্রান্সম্যান সিরিজ’।

হলি : পর্নজগতে আপনার আদর্শ ব্যক্তি কে? তাঁর দ্বারা আপনি কেন ও কীভাবে অনুপ্রাণিত হতে চান?
বাক : বাহ্‌। খুব ভালো প্রশ্ন। কিন্তু সত্যি বলতে কী আমার অনেক বন্ধু যারা আমার মতোই ফোকাসে আছে এবং অনেক পরিবর্তন আনতে চায় আর চায় ইন্ডাস্ট্রিকে একটা অসাধারণ জায়গা দিতে। বলা যায় তারাই আমার কাছে আদর্শ। যেমন ধরো ডানা ভেসপলি, ডিজলী, স্টোয়া, ভ্যালেন্টিনা নোপি ভেনাস ল্যাক্স এরাই।

হলি : পর্নোগ্রাফির জগতে এসে আপনার জীবনের কোন বিষয়টি আপনাকে সবথেকে বেশি খুশি করেছে?
বাক : অন্যান্য রূপান্তরিত মানুষদেরকে তাদের শরীর ও যৌনতা নিয়ে কথা বলাতে পেরে আমি সবথেকে বেশি খুশি। যৌন আলোচনা বন্ধ করার বিষয়ে রূপান্তরিতরা প্রসিদ্ধ। তাই এই সমাজের বেশিরভাগ মানুষ আমাদের ঘৃণার চোখে দেখে যেন মনে হয় আমরা কোন অহিতসাধন করছি। তাই আমার পক্ষে এটা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ দেখছি যে আমি যা করতে পেরেছি তার জন্য মানুষ আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে। আমি চাই রূপান্তরিতরা তাদের শরীর ও যৌনতা নিয়ে খুশি থাকুক।

হলি : এর পর কী হবে? মানে আপনার জন্য ও রূপান্তরিতদের জন্য নতুন কী আসছে?
বাক : তোমাকে যদি আমি এখন সব বলি, তাহলে সেটা একটা বই হয়ে যাবে। আমি একটা বই লিখছি যদিও যেখানে আমার একটা নতুন টয়েস পারফেক্ট ফিট ব্যান্ড রিলিজ হবে। আমি কিছুদিন আগে বাক অফ৪ রিলিজ করেছি। এখন এগুলো নিয়েই আমার সময় কাটে।

হলি : মনে হয়, আপনি আপনার ফ্যানদের প্রতি খুবই স্নেহশীল, কারণ ট্যুইটারে আপনি যথেষ্ট উত্তর দেন তাদের। আমি জানতে চাইছি এই সব মানুষের প্রভাব আপনার জীবনে কেমন?

বাক : প্রথমেই যেটা বলার সেটা হল, আমার খুব ভালো ফ্যান না হলে আমি উত্তর দিই না। সত্যি কথা বলতে কী আমার ভক্তরা আমার সম্পর্কে খুবই উৎসাহী। সবসময় আমাকে সমর্থন করে আর আমার পাশে থাকে। যখন সব মানুষ আমাকে ফালতু ভাবে তখনও তারা আমার পাশে থাকে। তারা আমার কথা বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়। আমি যেমন তাদের ভালোবাসি, ওরাও ভালোবাসে আমায়। আমি সুলভ তাই অদের কাছে কারণ আমি জানি যে অরা আমার জন্য যা করে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। শুধুমাত্র অদের জন্যই আমিননুভব করি আমি স্পেশাল।

হলি : বাহ্‌। সত্যিই খুবই ভালো। আপনি আপনার এই ভক্তদের জন্য কি কিছু বলতে চান?
বাক : হ্যাঁ অবশ্যই। আমি খুব ভালবাসি তোমাদের। আমার সমর্থক ছাড়া আমি আসলে কিছুই না। আমি সবসময় এটা মনে করি এবং আজীবন তাই করব। একটা কথাই বলতে চাই, আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যশালী এবং চমৎকার একটা জীবন পেয়েছি। আমি প্রকৃতভাবেই বাঁচি, কোনও আপোষ ছাড়াই বাঁচি। আমি সবাইকে সেভাবে বাঁচতেই উতসাহ দেব। তুমি ছাড়া তমাকে কেউই খুশি করতে পারবে না। এটা সম্পূর্ণ খাঁটি কথা।

টীকা

১। ফেটিস ফিল্ম : ফেটিস হল এমন একটা বস্তু বা শারীরিক কোনও অঙ্গ যার আসল কিংবা কাল্পনিক উপস্থিতি যৌনতৃপ্তির জন্য মানসিকভাবে জরুরি। একটা সম্পূর্ণ যৌন অভিব্যক্তির স্থায়ীকরণের জন্য এটা খুব জরুরি। নিক ব্রুমফিল্ড ১৯৯৬ সালে নিউ ইয়র্কের প্যান্ডোরা বক্সে প্রথম ফেটিস ফিল্ম বানান। এটাকে একধরণের ডকুমেন্টরি-ও বলা যায়। পেশাগত ডমিনাট্রিক্সদের এবং তাদের কিছু সাক্ষাৎকার থাকে এই ফিল্মে।

২। ডমিনাট্রিক্স : ডমিনাট্রিক্স হল সেই সব নারী যারা বিডিএসএম কার্যকলাপে এক বিশেষ প্রভাবশালীর ভূমিকা পালন করে। এই ডমিনাট্রিক্স যেকোনো ধরনের যৌণ প্রবণতার হতে পারে। এদের অনুবর্তী সহযোগীদের কোনও লিঙ্গসীমাবদ্ধতা থাকে না।

৩। ভি এইচ এস : ভিডিও হোম সিস্টেম। এটি টেপ ক্যাসেটে কন্সিউমার লেভেল অ্যানালগ ভিডিও রেকর্ড করার জন্য আদর্শ। জাপানের ভিক্টর কোম্পানি (JVC) ১৯৭০ সালে প্রথম এটি উদ্ভাবন করেন। ১৯৭৬ সালে জাপানে ও ১৯৭৭ সালে আমেরিকায় এটি চালু হয়।

৪। বাক অফ : ‘বাক অফ’ হল এক ধরনের হস্তমৈথুনকারী স্লীভ যা বাক অ্যাঞ্জেলের ডিজাইনের আদর্শে তৈরি। এটা প্রধানত রূপান্তরিত পুরুষদের জন্য।

নাম : বাক অ্যাঞ্জেল (জ্যাক মিলার)
জন্ম : ৫ ই জুন, ১৯৭২
জন্মস্থান : লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া
পেশা : প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্রে অভিনেতা, প্রযোজক, সক্রিয় কর্মী ও শিক্ষক।
কার্যকাল : ১৯৯০ – বর্তমান