নিজস্ব শব্দের কাছে

বিচ্ছেদের পর কেন বলেছিলে
নিজের কাছে যাও?
লিখে রাখো দুয়েকটা কথা কবিতার মতো

বহুদিন পর যখন আমাকে আর তেমন নাড়া দেয় না দীর্ঘ রাত
সেই নিজের কাছে লিখে রাখা দুয়েকটি কথা
সমস্ত অপমান অভিযোগ পার করে আসে

জানলার বাইরে
শুধুই স্তব্ধটা?শুধুই একটা দীর্ঘ রাত?
শুধু মৃত্যুর কঠিন?
নিজেকে অল্প অল্প করে জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া নয়?
যত জোরে ঠেলি কিছুতেই ফুরোচ্ছে না
ঘরে ফেরা পথের মতো
নিজেকে লিখে রাখা দুয়েকটি কবিতা

যত দূরে যাই
আমাদের বিচ্ছেদ আরো দীর্ঘ ছায়া দিয়ে বলে
আমার যতদূর তুমি ততদূর কোন পথ নেই
শুধুই কুয়াশায় দেখা যায় আমাদের দুটি মুখ,ভেজা
নিজেকে লিখে রাখা দুটি কথার ভেতরে যেমন অস্পষ্ট রাখা থাকে-

একটি রাত,
বৃষ্টি নেমেছে।

 

হেমন্তের চিঠিগুলো

বাগানের ছায়া শেষ হয়ে যায় নি বাগানে
এসে ছুঁয়েছে আমার চুপ করে থাকা
তুমি কি আমার চুল এলোমেলো করে দিতে অপেক্ষা করবে হেমন্ত অব্ধি?
অথচ একের পর এক চিতা জ্বলে ওঠে
তার ভেতর, আমার সময়ের ভেতর দীর্ঘ নীরব হয়ে আছি
নিজের সীমানার ভেতর আমি শেষ হয়ে যাইনি এখনও তাই
কাঁপা কাঁপা তবু বাগানের ভেতর আমি ছড়িয়ে রেখে এসেছি নম্র আলো
বাগানের ছায়া শেষ হয়ে যায়নি এখনও বাগানে
আমার চুপ করে থাকার মাঝেতে এখনও প্রিয় গানের শেষ রেশটুকু রয়ে যায়
যতদিন ফিরে আসা যায়,পায়ের শব্দের মাঝে ওঠে সুপ্রাচীন গীর্জার ধ্বনি
ফিরে দেখো আমার হেমন্তের চিঠিগুলো কেমন পড়ে থাকে দূরত্বে,আঘাতে
কেউ তা তোমাকে পাঠায়নি।