শুভ চ্যাটার্জী

এক দু কথায় ত্রিধারা পড়তে শুরু করলে একটানা পড়ে যেতে হয় এমনই তার গল্পের রাশটান, আর এই দিকটা আরওই বিস্ময়মুগ্ধ করে কারণ উপন্যাস জুড়ে রয়েছে গবেষণালব্ধ তথ্যসমৃদ্ধ, ভৌগলিক, পৌরাণিক, ঐতিহাসিক বিষয়ের বিশদ বিবরণ বিবৃতি। কিন্তু কখনওই তা নান্দনিকতা হারায় না, পড়তে পড়তে চলে যেতে হয় ধাপে ধাপে চরিত্রদের ভিতর দিয়ে, তাদের সুখ, বিস্ময়, সম্ভোগের তালে তালে। আর এই অভিনব অভিজ্ঞতার মধ্যে গড়ে ওঠে মূল তিন নারীচরিত্রের সঙ্গে সখ্যতা, যার ফলে অনুভূত হয় তাদের হৃদগভীরের ভাবতরঙ্গ, অবচেতন তার নিজস্ব ভাষালিপিতে জানায় নারী, শিক্ষাদীক্ষাযুগ নির্বিশেষে এখনও কতখানি অবদমিতা, যেটুকু স্বাধীনতা বা স্বাতন্ত্র সেটুকু যুগোপযোগী একটি শৌখিন ঘেরাটোপ, যা উন্মুক্ত, উদ্দাম, উলঙ্গ হয়ে ভীমবেটকার রহস্যমাতনে সম্পূর্ণ উৎসর্গিতা না হওয়া অবধি না হয় কোন সন্তানজন্ম অর্থাৎ কোন মহৎ শিল্পসৃষ্টি।

ত্রিধারা আপাত-বিয়োগান্তিক, অথচ ভীষণই ইতিবাচক।উপন্যাসটি পড়ার এটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।এবং অবশ্যই তার কথনশৈলীর নতুনত্ব।
ধানসিড়ি-র আহ্লাদিত না হয়ে থাকা যায় না ত্রিধারা প্রকাশ করার জন্য। নাহলে পঠনসুখের আনন্দ বিঘ্নিত হত, এমনই এই প্রকাশনের নিখুঁত সৌন্দর্য। তেমনই হল সৌজন্য চক্রবর্তীর প্রচ্ছদ, যা ব্যক্ত করেছে ত্রিধারা-র অন্তর্নিহিত মূলধারার স্রোতকল্পকে।